শিশু পল্লীতে বেড়ে ওঠা শিশুরা শৈশব কাটিয়ে কৈশোরে পা রাখলে এই যুব পল্লীতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
স্কুলে ঝড়ে পড়া গরীব তরুণ যুবকদের সমাজে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ১৯৯৮ সালে চট্টগ্রাম শহরে গড়ে তোলা হয় এসওএস যুবপল্লী।
প্রতিষ্ঠালগ্ন হতে স্বাভাবিকভাবে এর কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসলেও, বর্তমানে জোয়ার ও ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে স্থায়ী জলবদ্ধতায় মারাত্মকভাবে ব্যহত হচ্ছে এর শিক্ষা কার্যক্রম।এখন পরিত্যক্ত ঘোষণার অপেক্ষায় সুবিধাবঞ্চিত যুবকদের এই কারিগরী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি।
সরেজমিনে দেখা যায়, হালিশহর আবাসিক এলাকার এল ব্লকে অবস্থিত যুব পল্লীর প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটির প্রধান ফটকে ঝুলছে তালা। ভেতরে নেই কোন কর্মকর্তা-কর্মচারী। কেন্দ্রের আঙিনাজুড়ে হাঁটু সমান পানি। দূর থেকে দেখলে মনে হয় যেনো বিচ্ছিন্ন কোন দ্বীপ। জোয়ার ও বৃষ্টির পানিতে জমেছে আছে শ্যওলা। কোথাও কোথাও শোভা পাচ্ছে জাতীয় ফুল শাপলা।
জানা যায়, প্রতি বছরের ন্যায় এবছরও দুইটি ট্রেড কোর্সে ৩০ যুবক এখানে প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। কিন্তু জলবদ্ধতা স্থায়ী আকার ধারন করায় ক্লাস করতে পারছে না তারা। এতে নির্দিষ্ট সময়ে কোর্স শেষ হওয়া নিয়েও আশংকা তৈরি হয়েছে। শুধু তাই নয়, স্থায়ী জলবদ্ধতার ফলে শ্যওলাযুক্ত নোংরা পানিতে বাসা বাঁধছে মশা। এতে করে স্থানীয় এলাকাটিতে স্বাস্থ্যঝুঁকিও দেখা দিয়েছে।
কিশোর শিক্ষার্থীদের পদচারণায় যে যুব পল্লী মুখরিত হয়ে থাকতো সময় সময় সেই পল্লীতে এখন পিনপতন নিরবতা। – আকমল হোসেন
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটিতে কার্পেন্টারসহ কয়েকটি ট্রেড এর উপর হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। প্রশিক্ষণে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি রুমের মধ্যে টেবিলের উপর টেবিল দিয়ে রাখা হয়। পানি যত বাড়ে টেবিলের উপর টেবিল যুক্ত হয়ে উচ্চতা তত বাড়ানো হয়। যন্ত্রপাতি নষ্ট না হওয়ার হাত থেকে বাঁচানোর জন্য। এখন তাদের সময় কাছে এই যন্ত্রপাতি টুল বক্স পাহাড়া দেওয়াতেই। শিক্ষাকার্যক্রমতো বন্ধ হয়ে গেছে অনেক আগেই।
এদিকে দীর্ঘদিন ধরে এ সমস্যা সমাধানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলেও তাতে মেলেনি কোন সাড়া। ফলে দুর্ভোগ দুর্দশার মধ্যে রয়েছে যুবপল্লী ও তদসংলগ্ন এলাকাটি।
যুব পল্লীর যে বারান্দায় হাতুরি-বাটাল-করাত চালানোর মহড়া চলতে দেখা যেত সেখানে শাপলা ফুল ফুটে আছে।
এ বিষয়ে এসওএস চট্টগ্রাম কেন্দ্রের প্রকল্প পরিচালক ফয়জুল কবির সিটিজি নিউজকে কে জানান, জলবদ্ধতার কারণে প্রায় সময় বন্ধ রাখতে হচ্ছে যুবপল্লীর কার্যক্রম। জোয়ার ও বৃষ্টির পানি কমার জন্য প্রকৃতির ওপরেই নির্ভর করতে হচ্ছে আমাদের। রোদ উঠলে পানি কিছু টা কমলেও, তাতে ভোগান্তিও বাড়ে।যেখানে শিশু পল্লীতে বেড়ে ওঠা শিশুরা শৈশব কাটিয়ে কৈশোরে পা রাখলে তাদের যুব পল্লীতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। আগে সেখানে যুবকরা আবাসিক ভাবে থাকলেও বর্তমানে তাদের সরিয়ে অন্যত্র নেয়া হয়েছে।
তিনি আরো জানান, পানি নিষ্কাশনের ড্রেনেজ সিস্টেমে ত্রুটি রয়েছে। বিষয়টি সমাধানে বারবার সংশ্লিষ্টদের জানিয়েও কোন সুরাহা হয় নি।
এ বিষয়ে স্থানীয় কাউন্সিলর নাজমুল হক ডিউক সিটিজি নিউজ কে বলেন, এ পর্যন্ত কেউ আমাকে এ সমস্যার কথা জানায় নি। তবে যেহেতু এখন বিষয়টি আপনাদের মাধ্যমে জানতে পেরেছি , সেহেতু আমি কেন্দ্রটি সরেজমিনে গিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
