জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে জনগণের কাছে সেবা পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে পুলিশ ইতিমধ্যে চালু করেছে । ইতিমধ্যে এ সেবায় ব্যাপক সাড়া পড়েছে। সাধারণ জনগণ ২৪ ঘণ্টা বিনা টোলে তাদের প্রয়োজনীয় সমস্যা জানাতে পারছেন। ওই কেন্দ্র থেকে তাৎক্ষণিকভাবে সমস্যা  সমাধানের পরামর্শও দেয়া হচ্ছে। গতকাল দুপুর ১২টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত ৯৯৯ তে সর্বমোট কল এসেছে ১ লাখ ১৩ হাজার ১৪৭টি। তবে এই কলের মধ্যে ব্ল্যাক কলের সংখ্যা বেশি।

 এ সংখ্যা ৬০৭৩০টি। অনেকেই কল করছেন- তাদের মোবাইল মিউজিক বাজছে কিন্তু কথা বলছেন না। কেউ ফোন করে নীরব থাকছেন। কারো ফোন সঙ্গে সঙ্গে কেটে যাচ্ছে। কেউবা বা কলটি টেস্ট করছেন। কারো কল সংযোগ পাচ্ছে না। এসব কারণে ব্ল্যাক কলের সংখ্যা বাড়ছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অনেকেই আগ্রহভরে বিষয়টি জানার জন্য ফোন করছেন। কিছুদিন যাওয়ার পর ব্ল্যাক কলের সংখ্যা কমে যাবে।
গত ১২ই ডিসেম্বর সকালে রাজধানীর আবদুল গনি রোডে ঢাকা মহানগর পুলিশের ক্রাইম কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টারে ৯৯৯-এর সেবা কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। প্রয়োজনে যে কেউ ফোন করে পুলিশ, অ্যাম্বুলেন্স এবং ফায়ার সার্ভিস সেবা পাবেন। উন্নত বিশ্বে জরুরি কল সেন্টার চালু আছে। সেগুলোতে ফোন করে নাগরিকরা দ্রুত সেবা নিয়ে থাকেন। সেই আদলে এই সেবা চালু করা হয়েছে। এ বিষয়ে ৯৯৯ কলটির সুপারভাইজার (ডিসি) মো. তোবারক হোসেন মানবজমিনকে জানান, প্রথম দিন থেকেই কলটিতে সাড়া পাওয়া গেছে। এই কলটি চালু করা হয়েছে মূলত ৩টি সেবা দেয়ার জন্য। পুলিশি সেবা, অ্যাম্বুলেন্স এবং ফায়ার সার্ভিসের সেবা ছাড়াও ভুক্তভোগী অনেকে কল করে নানা বিষয় জানতে চাইছেন। তিনি জানান, তার মধ্যে ব্ল্যাক কল এসেছে ৬০ হাজার ৭৩০টি। ব্ল্যাক কলের সংখ্যা বেশি হওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, কলটি সংযোগ হওয়ার পর পুলিশ অপরপ্রান্ত থেকে হ্যালো হ্যালো বললেও তারা কোনো কথা বলছেন না। কেউ কেউ টেস্ট করে দেখছেন যে, কল করলে টাকা কাটছে কি-না। এসব কারণে ব্ল্যাক কলের সংখ্যা  বেশি। কিছু কিছু কলে অশ্লীল কথাবার্তা বলা হচ্ছে। ইচ্ছা করে কেউ এমন সমস্যা করলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
সূত্র জানায়, গত ১২ই ডিসেম্বর জাতীয় জরুরি সেবায় ৯৯৯, কল এসেছে ২২ হাজার ৫০২টি, ১৩ই ডিসেম্বর ২৬ হাজার ৭৬৪টি, ১৪ই ডিসেম্বর ১৯ হাজার ৯৫৪টি, ১৫ই ডিসেম্বর ১৯ হাজার ৮৮টি, ১৬ই ডিসেম্বর ১৮ হাজার ২৩২টি এবং গতকাল ১৭ই ডিসেম্বর দুপুর ১২টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত ফোন এসেছে ৬ হাজার ২০৭টি। মোট কল এসেছে ১ লাখ ১৩ হাজার ১৪৭টি।
হিসাবে দেখা গেছে, পুলিশ মোট ৫২ হাজার ৪১৭টি কল রিসিভ করেছেন। এই কল গড়ে পর্যালোচনা করে পুলিশ জানতে পেরেছে যে, ৬৪.২০ ভাগ পুলিশি সেবা, ৩১.৬০ ভাগ ফায়ার সার্ভিস ও ৪.১০ ভাগ অ্যাম্বুলেন্স সেবার জন্য কল করেছেন।
সূত্র জানায়, শিশুরা ৫৬২টি কল করেছে। তারা পুলিশকে সালাম দিয়েছেন। কেউ মামা-মামা বলে কথা বলেছেন। গতকাল পর্যন্ত ১২ হাজার ৯২৪টি মিসকল এসেছে। ১৮০ নারী তাদের সমস্যার কথা জানিয়ে  কল করেছেন। এ ছাড়াও ১৭ হাজার ৩৬৪টি কল এসেছে যারা নারীদের বিরক্ত করেছেন। পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার উদ্যোগ নিয়েছে।
৯৯৯ কলের হেল্প ডেক্সের সমন্বয়কারী ইন্সপেক্টর শহীদুল ইসলাম মানবজমিনকে জানান, প্রচুর কল আসছে। অনেকেই বিষয়টি জানার চেষ্টা করছেন- এই কলের মধ্যে কী সেবা পাওয়া যাবে। আমরা কল রিসিভ করে তাদের বিভিন্ন তথ্য দেয়ার চেষ্টা চালাচ্ছি।
সূত্র জানায়, গত ১৩ই ডিসেম্বর দুপুরে রবিউল ইসলাম নামে এক যুবক কদমতলীর সাইনবোর্ড এলাকা থেকে ফোন দেন। তার স্ত্রী সন্তান সম্ভবা। তিনি জরুরি অ্যামু্বলেন্স চান। তিনি কদমতলীর কাঠেরপুলের ইউনিসেফ অফিসের পেছনের বাসায় ঠিকানা দেন। পুলিশ সেই মুহূর্তে কদমতলীর শিশু হাসপাতালে ফোন দেন অ্যাম্বুলেন্সের জন্য। জরুরিভিত্তিতে তার কাছে অ্যাম্বুলেন্স চলে যায়। এ ছাড়াও কলকারীরা ব্যক্তিগত পুলিশি সেবা, থানার নম্বর, থানার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নম্বর, এলাকার মাদক সমস্যা ও আইনগত তথ্য নেয়ার জন্য ফোন দিচ্ছেন।
Share Now
March 2026
M T W T F S S
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031