কলকাতার টিপু সুলতান মসজিদের শাহী ইমাম ঘোষণা করেছেন, কোনও মুসলিম যদি রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ বা ভারতীয় জনতা পার্টিতে যোগ দেন তাকে পিটিয়ে এক ঘরে করে দেয়া হবে ।

টিপু সুলতান মসজিদের ইমাম নূর-উর রহমান বরকতি বিবিসি বলেন, ‘কেউ যদি সাচ্চা মুসলমান হন, তাহলে তিনি কোনোভাবেই আরএসএসের সঙ্গে সম্বন্ধ রাখতে পারেন না। বিজেপি এবং আরএসএসের মধ্যে কোনো ফারাক নেই। ওই সংগঠনগুলিতে যোগ দেয়ার অর্থ কাফের হয়ে যাওয়া।’

‘যেভাবে মুসলমানদের ওপরে অত্যাচার করছে বিজেপি – কখনও গরু খাওয়া নিয়ে, কখনও মুসলমান যুবকদের সন্ত্রাসী বলে প্রচার করে, কখনও তিন তালাক ইস্যুতে – তারপরেও যদি কোনও মুসলমান সেই দলে যায়, তাহলে কী তার ঈমান বলে আর কিছু থাকে? সে তো এমনিতেই সামাজিকভাবে একঘরে হয়ে পড়বে। এরকম লোককে পেটানো তো হবেই, ছাড়া হবে না তাকে।’

এই শাহী ইমাম বিজেপি এবং আরএসএসের ঘোরতর বিরোধী এবং তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধান মমতা ব্যানার্জীর ঘনিষ্ঠ বলে পরিচয় দিয়ে থাকেন।

বিজেপি-র অন্যতম জাতীয় সম্পাদক রাহুল সিনহা বলছেন, ‘উনি একজন উগ্রপন্থী মৌলবী। মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীর কাছ থেকে নানা সুবিধা আদায়ের জন্য মাঝে মাঝে এ ধরনের কথা উনি বলে থাকেন। তাকে যদি মৌলবীগিরি করতে হয়, তাহলে সেটাই তিনি করুন, আর রাজনীতি করতে হলে সরাসরি তৃণমূল কংগ্রেসের ঝান্ডা নিয়ে নেমে পড়ুন। এসব কথা বলে উনি মুসলমান সমাজেরই ক্ষতি করছেন।’

বিজেপি তো একটি স্বীকৃত রাজনৈতিক দল এবং ভারতের প্রত্যেক নাগরিকেরই তো অধিকার রয়েছে নিজের পছন্দের দল বেছে নেওয়ার- এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘অনেক দল তো আছে – বহুজন সমাজ পার্টি, তৃণমূল কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি এসব করুক না মুসলমানরা। কিন্তু বিজেপি বা আরএসএস নয়।’

আসামের কাছাড় জেলার বিজেপি বিধায়ক আমিনুল ইসলাম লস্কর বলছিলেন, ‘ওই ইমাম বিজেপি এবং আরএসএস সম্বন্ধে কিছুই জানেন না বোধহয়। এই দুটো যে শুধু হিন্দুদের দল নয়, তা তো প্রমাণিত। বহু মুসলমান আরএসএস এবং বিজেপিতে আছেন। আমি যে এলাকার বিধায়ক, সেখানে ৬৮ শতাংশ মুসলমান – আমি তো তাদেরও ভোট পেয়েছি।’

জাতীয় স্তরেও মন্ত্রী মুক্তার আব্বাস নকভি, শাহনওয়াজ হুসেইন, এম জে আকবরের মতো মুসলিম নেতারা বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে রয়েছেন।বিজেপি-র একটি সংখ্যালঘু সেলও রয়েছে, যার প্রধান আব্দুল রশিদ আনসারি।

Share Now
February 2026
M T W T F S S
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
232425262728