কাশ্মীরের শিখ সম্প্রদায় দুই শিখ মেয়েকে জোরপূর্বক ধর্মান্তরণের অভিযোগের প্রেক্ষিতে এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে আন্দোলন করে যাচ্ছে । যদিও এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছে অঞ্চলটির পুলিশ কর্মকর্তারা এবং অভিযুক্ত দুই পরিবারের সদস্যরা। তারা জানিয়েছেন, গত ২১ জুন মানমিত কর (১৯) ও তার প্রেমিক শহীদ নাজির ভাট (২৯) একসঙ্গে পালিয়ে যান। এরপর ওই মেয়ের পরিবারের শহীদ নাজিরের বিরুদ্ধে অপহরণের মামলা দায়ের করে। ঘটনার পর ২৪ জুন তারা দুজন পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করে। বর্তমানে ওই দুইজন শ্রীনগরের আলাদা দুই পুলিশ স্টেশনে আটক রয়েছে। এর দুই দিন পর মানমিত আদালতে তার জবানবন্দী প্রদান করেন। এতে তিনি তার পরিবারের দায়ের করা অভিযোগ অস্বীকার করেন।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তারা দুজন ইসলামি আইন অনুযায়ী বিয়ে করেছেন। এর আগে মানমিত ধর্ম পরিবর্তন করেন এবং নিজের নাম রাখেন জয়া। তিনি যখন আদালতে নিজের জবানবন্দী দিতে হাজির হন তখন আদালতের বাইরে তার পরিবারের সদস্যরাসহ শিখ সম্প্রদায়ের একাধিক নেতা উপস্থিত হন। তারা মানমিতকে পরিবারের হাতে তুলে দেয়ার দাবি জানায়। ওইদিন মানমিতকে তার পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেয়া হয়। তবে শহীদ এখনো আটক রয়েছে।

এরপর দিন শ্রীনগরে শত শত শিখ জড়ো হয়ে আন্দোলন শুরু করে। তাদের দাবি, শিখ সম্প্রদায়ের দুই মেয়েকে জোর করে ইসলাম গ্রহণ করানো হয়েছে। এ নিয়ে শিখ ও মুসলিমদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা গিয়েছে। এই অঞ্চলটিতে শিখরা মোট জনসংখ্যার মাত্র ২ শতাংশ। তাদের বেশিরভাগই কাশ্মীরের সহিংসতাপ্রবণ দক্ষিণ ও উত্তরাঞ্চলে বাস করেন।

আরো এক শিখ নারীকে ধর্মান্তরণের অভিযোগ এনেছেন কাশ্মীরের শিখ নেতারা। দানমিত কর নামের ওই নারীর বয়স ২৯। তিনি তার হাইস্কুলের বন্ধু মুজাফফরের সঙ্গে গত ১৫ বছর ধরে প্রেমের সম্পর্কে রয়েছেন। আল-জাজিরাকে দানমিন জানিয়েছেন, তিনি মুজাফফরকে তিনি ২০১৪ সালে স্পেশাল ম্যারিজ এক্টের অধীনে বিয়ে করেন। এর দুই বছর আগে তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। তিনি জানান, তাকে এ জন্য তার প্রেমিক কোনো ধরণের জোর প্রয়োগ করেনি। তিনি নিজের ইচ্ছাতেই সংবিধানে থাকা তার এ অধিকারের প্রয়োগ করেছেন। তবে তার পরিবার এতোদিন এসব কিছুই জানত না। গত ৬ই জুন তার পরিবারকে সব জানান দানমিত।

এরপরই তার পরিবার মুজাফফরের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে এবং পুলিশও তাকে গ্রেপ্তার করে। দানমিতকে তার পরিবারের কাছে দিয়ে দেয়া হয় এদিন। তবে এরপরই শিখ নেতারা তাকে নানাভাবে মুজাফফরের বিরুদ্ধে জবানবন্দী দিতে চাপ দেন। গত ২৬ জুন দানমিত আদালতে তার ১৫ বছরের প্রেমিক ও ভালোবাসার মানুষের পক্ষেই জবানবন্দী দেন। তিনি আদালতকে জানান, তার পরিবার তাকে মিথ্যা জবানবন্দী দিতে জোর করেছে। এছাড়া তিনি নিজের নিরাপত্তার জন্যে পুলিশি সাহায্যও চান।

Share Now
January 2026
M T W T F S S
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
262728293031