মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রামপ চীনের প্রেসিডেন্ট ও কমিউনিস্ট পার্টির প্রধান শি জিনপিং-এর সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন । এ সময় তাদের মধ্যে বাণিজ্য যুদ্ধ, উত্তর কোরিয়া ও হংকং ইস্যুতে কথা হয়। কথোপকথনে চীনা প্রেসিডেন্ট তার দেশের অভ্যন্তরীণ ইস্যুতে হস্তক্ষেপের জন্য সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রকে অভিযুক্ত করেন। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
এর আগে গত সপ্তাহে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য যুদ্ধ শিথিল করতে উদ্যোগ নেয়া হয়। এতে প্রথম দফায় বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক সরিয়ে নিতে সম্মত হয় উভয় পক্ষ। ফলে ১৮ মাস ধরে চলা বাণিজ্য যুদ্ধ সমাপ্তির সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। তারই মধ্যে দুই দেশের প্রেসিডেন্টের মধ্যে এমন ফোনালাপ হলো।
ফোন কলের বিষয়টি প্রকাশ্যে আনেন ট্রামপ নিজেই। এ নিয়ে একটি টুইট বার্তা দিয়েছেন তিনি। হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারাও বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, শুক্রবার সকালেই এই ফোনালাপটি হয়। চীনের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনেও ট্রামেপর সঙ্গে শি জিনপিংয়ের ফোনালাপের বিষয়টি প্রচার করা হয়। ট্রামপ তার টুইটে লিখেন, চীনের প্রেসিডেন্ট শি-এর সঙ্গে অত্যন্ত চমৎকার একটি কথোপকথন হয়েছে। আমাদের বিশাল বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। চীন ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বড় মাত্রায় কৃষি পণ্য ও অন্যান্য পণ্য ক্রয় করতে শুরু করেছে। আনুষ্ঠানিক চুক্তিও স্বাক্ষরিত হয়ে যাবে। এ ছাড়া, আমরা উত্তর কোরিয়া নিয়েও কথা বলেছি। সেখানে আমরা চীনের সঙ্গে মিলে কাজ করছি। হংকং ইস্যুতেও কথা এগিয়েছে বলে জানিয়েছেন ট্রামপ।
এদিকে চীনের বার্তা সংস্থা শিনহুয়া জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট শি ট্রামেপর কাছে তাইওয়ান, হংকং, তিব্বত ও শিনজিয়াং সমপর্কে তার নেতিবাচক বক্তব্য নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন। এসব বক্তব্য চীনের অভ্যন্তরীণ ইস্যুকে ব্যাহত করছে, চীনা স্বার্থে আঘাত হানছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে থাকা সহযোগিতাপূর্ণ সমপর্ক নষ্ট করছে বলে ট্রামপকে সাবধান করেছেন শি জিনপিং। উল্লেখ্য, চীনের শিনজিয়াং প্রদেশে ‘উগ্রপন্থি’ মুসলিমদের সেক্যুলার নাগরিক হিসেবে পুনরায় শিক্ষিত করতে অসংখ্য শিবির পরিচালনা করছে চীন। যুক্তরাষ্ট্র প্রথম থেকেই এর তীব্র বিরোধিতা করে আসছে এবং অবিলম্বে এইসব শিবির বন্ধে চীনের প্রতি চাপ প্রয়োগ করছে। এ নিয়ে একাধিকবার যুক্তরাষ্ট্রকে সাবধান করেছে চীন।
