দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে একটি নারী মূর্তিকে কেন্দ্র করে। জবাবে দক্ষিণ কোরিয়ায় নিয়োজিত কমপক্ষে দু’জন শীর্ষ স্থানীয় কূটনীতিককে দেশে তলব করেছে জাপান। এ খবর দিয়েছে অনলাইন সিএনএন। এতে আরও বলা হয়, দক্ষিণ কোরিয়ার বুসানে রয়েছে জাপানের কনসুলেট অফিস। ডিসেম্বরে ওই কনসুলেটের বাইরে একটি নারী মূর্তি বসায় সুশীল সমাজের একটি গ্রুপ। বলা হয়, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় যেসব নারীকে জোর করে জাপানি সেনাদের মনোরঞ্জনে ব্যবহার করা হয়েছিল এই মূর্তি তারই প্রতীক। জাপানের মন্ত্রীপরিষদের মূখ্য সচিব ইয়োশিহিদে সুগা শুক্রবার এ নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। তিনি বলেছেন, শুধু দু’জন কূটনীতিককে দেশে তলব করার মধ্যে শেষ নয়। দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে মুদ্রা বিনিময় বিষয়ে যে আলোচনা হওয়ার কথা ছিল তা-ও স্থগিত করবে টোকিও। পাশাপাশি দু’দেশের মধ্যে অর্থনীতি সংক্রান্ত আলোচনা শুরুর পর্বও বিলম্বিত করা হবে। তিনি আরও বলেছেন, কোরিয়া ও জাপানের মধ্যে যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে তাকে খর্ব করতে ওই নারীমূর্তি বসানো হয়েছে। এ ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। তাই অস্থায়ী ভিত্তিতে দক্ষিণ কোরিয়ায় নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত ও কনসুলেট জেনারেলকে তলব কর হয়েছে। তার এ বক্তব্যের জবাব দিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে জাপানের সিদ্ধান্তের নিন্দা জানানো হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, আরও একবার আমাদের সরকার বলছে দু’দেশের মধ্যে বিভিন্ন জটিল ইস্যু থাকলেও দু’দেশের সরকার আস্থার ভিত্তিতে আমাদের সম্পর্কের উন্নতি অব্যাহত রাখবে। উল্লেখ্য, নির্যাতিত নারীদের বিষয়ে দু’দেশ ২০১৫ সালে একটি চুক্তিতে উপনীত হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নির্যাতিত যেসব নারী এখনও বেঁচে আছেন তাদেরকে সহায়তা করতে ১০০ কোটি ইয়েন দিতে সম্মত হয় জাপান। তবে জাপানের এমন চুক্তির সমালোচনা করে নির্যাতিত নারীদের অধিকার বিষয়ক গ্রুপ। তারা এ ঘটনাকে কূটনৈতিক অবমাননা বলে আখ্যায়িত করেছে। প্রায় দুই লাখ নারীকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপানি সেনাদের যৌনদাসী বানানো হয়েছিল। এর বেশির ভাগই কোরিয়ান নারী। এর বাইরে আরও যেসব নারী ছিলেন তারা ছিলেন চীনা, তাইওয়ানের ও ইন্দোনেশিয়ার।

Share Now
January 2026
M T W T F S S
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
262728293031