khaleda_112523ঢাকা১০মে:আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন, গ্যাটকো দুর্নীতি মামলার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট খারিজ করে হাইকোর্টের দেয়ার রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল  করেছেন মামলাটির অন্যতম আসামি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

মঙ্গলবার খালেদা জিয়ার পক্ষে আপিল আবেদন করেন তার আইনজীবী ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন।

পরে মাহবুব উদ্দিন খোকন সাংবাদিকদের জানান, গ্যাটকো দুর্নীতি মামলার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে খালেদা জিয়ার করা রিট হাইকোর্ট খারিজ করে মামলা চলবে বলে রায় দিয়েছিলেন। একইসঙ্গে বেগম জিয়াকে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন আদালত। সেই অনুযায়ী তিনি নিম্ন আদালত থেকে চলতি বছর ৫ এপ্রিল জামিনও নিয়েছেন।

২০০৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর সাবেক চারদলীয় জোট সরকারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া, তার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে তেঁজগাও থানায় গ্যাটকো দুর্নীতি মামলা করেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উপ-পরিচালক গোলাম শাহরিয়ার চৌধুরী।

মামলার পরদিন খালেদা জিয়া ও কোকোকে গ্রেপ্তার করা হয়। ১৮ সেপ্টেম্বর মামলাটি অন্তর্ভুক্ত করা হয় জরুরি ক্ষমতা আইনে। পরের বছর ১৩ মে খালেদা জিয়াসহ ২৪ জনের বিরুদ্ধে এ মামলায় অভিযোগপত্র দেয়া হয়।

এতে বলা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান গ্যাটকোকে ঢাকার কমলাপুর আইসিডি ও চট্টগ্রাম বন্দরের কন্টেইনার হ্যান্ডলিংয়ের কাজ পাইয়ে দিয়ে রাষ্ট্রের ১৪ কোটি ৫৬ লাখ ৩৭ হাজার ৬১৬ টাকার ক্ষতি করেছেন।

মামলাটি জরুরি ক্ষমতা আইনের অন্তর্ভুক্ত করার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে এবং বিচারিক আদালতে মামলার কার্যক্রমের ওপর স্থগিতাদেশ চেয়ে ২০০৭ সালের সেপ্টেম্বর হাইকোর্টে রিট করেন খালেদা জিয়া।

এর তিন দিন পর খালেদা ও কোকোর বিরুদ্ধে মামলার কার্যক্রম স্থগিত করে রুল দেয় হাইকোর্ট। মামলাটি জরুরি ক্ষমতা আইনের অন্তর্ভুক্ত করা কেন ‘বেআইনি ও কর্তৃত্ব বহির্ভূত’ ঘোষণা করা হবে না- ওই রুলে সে বিষয়টি জানতে চাওয়া হয়। তবে হাইকোর্টের দেয়া স্থগিতাদেশ পরে আপিল বিভাগে বাতিল হয়ে যায়।

দুদক আইনে গ্যাটকো মামলা দায়েরের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ২০০৮ সালে আরেকটি রিট আবেদন করেন খালেদা জিয়া। তার আবেদনে হাইকোর্ট আবারও মামলার কার্যক্রমের ওপর স্থগিতাদেশ দেন।

দীর্ঘদিন আটকে থাকার পর দুদক মামলাটি সচল করার উদ্যোগ নেয়। ২০১৫ সালের ১৯ এপ্রিল রুলের শুনানি শুরু হয়। শুনানি শেষে ১৭ জুন মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখেন আদালত। একই বছর ৫ আগস্ট হাইকোর্ট খালেদা জিয়ার রিট খারিজ করে দেন। চলতি বছর ১৫ ফেব্রুয়ারি সেই রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশিত হয়।

চারদলীয় সরকারের মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন, এম শামসুল ইসলাম, এম কে আনোয়ার, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, মতিউর রহমান নিজামীও এ মামলার আসামি।

অভিযোগপত্র দাখিলের পর মামলাটি বর্তমানে ঢাকার বিশেষ জজ আদালতে অভিযোগ গঠনের অপেক্ষায় রয়েছে।

Share Now
January 2026
M T W T F S S
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
262728293031