সাবেক এমপি ও শ্রমিক নেতা শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টারের ১৫তম মৃত্যুবার্ষিকী মঙ্গলবার (৭ মে)। দিনটি পালনে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠন নিয়েছে নানা কর্মসূচি গাজীপুরে ।

হত্যার ১৫ বছরেও খুনিদের বিচারের রায় কার্যকর না হওয়ায় হতাশ স্থানীয় নেতাকর্মী ও স্বজনরা। এ কারণে আদালতের দেয়া ফাঁসির রায় অবিলম্বে কার্যকর দেখতে চায় নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসী।

২০০৪ সালের ৭ মে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে গাজীপুরের টঙ্গীর নোয়াগাঁও এমএ মজিদ মিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্মেলনে দিনদুপুরে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হন সাবেক এমপি ও শ্রমিক নেতা আহসান উল্লাহ মাস্টার। নৃশংস এ হত্যার পর বিক্ষোভে ফুঁসে ওঠে পুরো গাজীপুর। বিভিন্ন স্থানে হত্যার প্রতিবাদে চলে সাধারণ মানুষের আন্দোলন। এ ঘটনায় পরদিন ৮ মে নিহতের ভাই মতিউর রহমান টঙ্গী থানায় ১৭ জনের নামোল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ১০-১২ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

ওই মামলায় ২০০৪ সালের ১০ জুলাই অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। বিচার শেষে ২০০৫ সালের ১৬ এপ্রিল ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিন রায়ে বিএনপি নেতা নুরুল ইসলাম সরকারসহ ২২ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং ছয়জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। এছাড়া দুজনকে খালাস দেয়া হয়। পরে আপিল বিভাগে এ মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের জেল আপিলের শুনানি শেষে ছয়জনের ফাঁসি, আটজনকে যাবজ্জীবন এবং ১১জনকে বেকসুর খালাস দেয় আদালত।

২০১৬ সালের ১৫ জুন বিচারপতি ওবায়দুল হাসান এবং বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেয়।

আহসান উল্লাহ মাস্টারের ১৫তম মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষে গাজীপুর ও টঙ্গীতে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন নিহত আহসান উল্লাহ মাস্টারের স্বজন ও বিশিষ্ট সাংবাদিক আতাউর রহমান। তিনি জানান, মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষে টঙ্গী এবং গাজীপুরের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের উদ্যোগে মিলাদ, দোয়া ও খাবার বিতরণ করা হবে। এসব কর্মসূচিতে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দসহ সর্বস্তরের মানুষ অংশগ্রহণ করবেন।

৭ মে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় দলীয় কার্যালয়ে পবিত্র কোরআনখানি, শোক পতাকা, জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন, নেতাকর্মীদের কালোব্যাজ ধারণ, সকালে শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টারের গ্রামের বাড়ি হায়দরাবাদের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ, আলোচনাসভা, মিলাদ মাহফিল ও দোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ও শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টারের পুত্র  জাহিদ আহসান রাসেল এমপি তার পিতার ১৫তম শাহাদতবার্ষিকীর বিভিন্ন কর্মসূচিতে সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণের জন্য অনুরোধ জানান।

এদিকে, ১৫ বছরেও বিচার না পেয়ে হতাশ ও মর্মাহত নিহতের মা বেগম রুসমুতুন্নেছা। নৃশংস এ হত্যার বিচারের রায় কার্যকর করার জন্য সরকারের কাছে দাবি করে তিনি বলেন, ‘আহসান উল্লাহ মাস্টারের বাবা মারা গেছেন, আমিও অসুস্থ। এ অবস্থায় মরার আগে সন্তান হত্যার বিচার দেখে যেতে চাই।’

একই দাবি করে এলাকাবাসী বলছেন, ‘শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার একজন আদর্শ শিক্ষক ছিলেন, গরিব খেঁটে খাওয়া মানুষের জন্য তিনি কাজ করতেন। তিনি ছিলেন অনুকরণীয় একজন শ্রমিক নেতা।’

১৯৫০ সালের ৯ নভেম্বর গাজীপুরের সাবেক পূবাইল ইউনিয়নের হায়দরাবাদ গ্রামে শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা শাহ্ সুফি আব্দুল কাদের, মাতা বেগম রুসতুমুনন্নেছা। তিনি গাজীপুর ২ (গাজীপুর সদর, টঙ্গী) আসন হতে ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে পরপর দুইবার আওয়ামী লীগ মনোনীত সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯০ সালে গাজীপুর সদর উপজেলা চেয়ারম্যান এবং ১৯৮৩ ও ১৯৮৭ সালে দুইদফা পূবাইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এছাড়াও তিনি আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটির সদস্য, শিক্ষক সমিতিসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন, আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের সাথে জড়িত ছিলেন। তিনি ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন। স্বাধীন হওয়ার পর একদিকে শিক্ষক, অন্যদিকে রাজনীতি ও সমাজসেবায় আমৃত্যু নিয়োজিত ছিলেন।

Share Now
February 2026
M T W T F S S
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
232425262728