মাঠ তো দেখেই না কংক্রিটে মোড়া এই নগরী সবুজ ঘাসে ভরা । ফলে বিদ্যাপীঠগুলোও প্রায় মাঠশূন্য। সরকারি কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাঠ থাকলেও নেই বেসরকারিগুলোতে। কিন্তু মুজিব বর্ষে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ১০০টি করে বৃক্ষরোপণের নির্দেশ দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। ফলে মাঠহীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো পড়েছে বিপাকে।
মঙ্গলবার রাজধানীর মোহাম্মদপুরের উত্তর আদাবরে গিয়ে দেখা যায় একই গলির পাশাপাশি গ্রিন লিফ ইন্টান্যাশনাল স্কুল ও কলেজ এবং মিশন ইন্টারন্যাশনাল কলেজ নামে দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। মাঠ না থাকায় বৃক্ষরোপণের কার্যক্রমটি পর্যবেক্ষণে গিয়ে জানা যায় নির্দেশনাটি নিয়ে তারা বেশ চিন্তিত।
মিশন ইন্টারন্যাশনাল কলেজের উপাধ্যক্ষ শফিকুল ইসলাম স্বপন ঢাকা টাইমকে বলেন, ‘আমাদের তো মাঠই নেই। বৃক্ষরোপণ করবো কোথায়? তবে মুজিব বর্ষ উপলক্ষে ১০০টি রোপণের মতো জায়গা না থাকলেও অন্যান্য কর্মসূচি যেমন কেক কাটা, দোয়াসহ সভাগুলো সম্পন্ন করেছি। পর্যাপ্ত জায়গা থাকলে আমরা অবশ্যই বৃক্ষরোপণ করতাম।’
টবে কয়েকটি গাছের চারা রাখা আছে গ্রিন লিফ ইন্টান্যাশনাল স্কুল ও কলেজের ভেতরে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষক ঢাকা টাইমসকে তাদের বিপাকের কথা জানান। বলেন, ‘এটা তো সবাই জানে ঢাকার স্কুলগুলোতে মাঠ নেই। সেখানে ১০০টি গাছ কোথায় রোপণ করবো?’
তাদের মধ্যে একজন শিক্ষক থানা শিক্ষা অফিসে গিয়ে বিষয়টি নিয়ে সুরাহার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবেন বলেও জানান।
কুইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজেও নেই মাঠ। প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ জানালেন মাঠ না থাকলেও ছাদে গাছ লাগিয়েছে। শুরুতে প্রতিষ্ঠানে অবস্থান করছেন বললেও পরে রোপণকৃত গাছগুলো দেখার আগ্রহ দেখালে তিনি এখন নেই বলে জানান।
তবে বিশাল মাঠ থাকায় বাদশা ফয়সাল ইনস্টিটিউটে সুন্দরভাবে সম্পন্ন হয়েছে বৃক্ষরোপণ পর্ব। প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ লেফটেন্যান্ট এ কে এম মাকসুদুল হক ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘পর্যাপ্ত জায়গা রয়েছে আমাদের। গাছও লাগানো হচ্ছে। তবে শুধু গাছরোপণ পর্যন্তই শেষ নয়। নিয়মিত যত্নের বিষয়টিও খেয়াল রাখছি।’

ছবি: বাদশা ফয়সাল ইনস্টিটিউটের বৃক্ষরোপণ
এদিকে মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ ভবনের পার্লামেন্ট ক্লাব বাগান থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমের অনুষ্ঠানিকতা উদ্বোধন করেন। সেখানে ১০০টি গাছ লাগানো হয়।
এর আগে পরিবেশ সংরক্ষণের অংশ হিসেবে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীর আয়োজন স্মরণীয় করে রাখতে ১৭ মার্চের আগেই সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের পরিবেশ সংরক্ষণের বিষয়ে জানাতে হবে, সচেতন করতে হবে তেমনি ছাড়া, উপযুক্ত কর্মসূচির ভিত্তিতে একটি ডকুমেন্টারি তৈরি করে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে আপলোড করার কথাও পরিপত্রে বলা হয়েছে।
বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীতে সারাদেশে ৩৩ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ১০০টি করে মোট ৩৩ লাখ গাছ লাগানোর এই কর্মসূচিতে ধারণা করা হচ্ছে দেশে প্রায় দেড় কোটি শিক্ষার্থী প্রত্যেকে একটি করে গাছ লাগালে মোট দেড় কোটি বৃক্ষরোপণ হবে। আর এমন কার্যক্রম চলবে প্রতিবছর।
তবে ‘মুজিব বর্ষে অনড় পণ-পরিবেশের সংরক্ষণ’ প্রকল্পের অংশ হিসেবে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) এই উদ্যোগটি নিঃসন্দেহে চমৎকার মনে করা হলেও শহরকেন্দ্রিক মাঠহীন স্কুলগুলো এটি তেমন কার্যকর পরিবর্তন আসবে না বলে মনে করছেন শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা।
শিক্ষাবিদ রাশেদা কে চৌধুরী ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ তো অবশ্যই পরিবেশ উপযোগী। কিন্তু বাস্তবতার পরিপ্রেক্ষিতে শহরকেন্দ্রিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এটা অসুবিধা হয়ে যায়। তবে তারা চাইলে প্রতিষ্ঠানের বাইরে যেমন, রমনা বা বিভিন্ন উদ্যান বা খোলা জায়গায় সেই ১০০টি বৃক্ষরোপণ করতে পারে।’
মাঠহীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গাছ লাগানোর নির্দেশে বিপাকের বিষয়টি নিয়ে ঢাকা টাইমসের সঙ্গে কথা বলেছেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. সৈয়দ মো. গোলাম ফারুক। তিনি বলেন, ‘নির্দেশনায় বলা আছে প্রতিষ্ঠানের প্রাঙ্গণে অথবা নিকটবর্তী সুবিধাজনক স্থানে ১০০টি ফলদ, বনজ, ভেষজ ও ফুলের গাছ রোপণ করবে। ফলে প্রতিষ্ঠানেই গাছ রোপণ করতে হবে এমন নয়। বৃক্ষরোপণটাই মূল কথা। মাঠহীন প্রতিষ্ঠানগুলো ছাদটাকেও ব্যবহার করে টবে লাগিয়ে নিতে পারে বা সুবিধাজনক যেকোনো স্থানে গাছ লাগাতে পারে।’
