১৪ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন নড়াইলের কালিয়া উপজেলায় জমির বিরোধ নিয়ে সংঘর্ষে। শুক্রবার রাত সাড়ে ৯ টার দিকে উপজেলার পানিপাড়া গ্রামের মোল্যা খবির উদ্দিন ও খাশিয়াল গ্রামের মিজানুর রহমান মিজু বিশ্বাসের লোকদের মধ্যে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। তবে গুলিবিদ্ধ আকিদুল ও জাকিরের অবস্থা খুবই আশঙ্কাজনক। মিজু বিশ্বাস বলেন, মোল্যা খবিরের অরুনিমা পার্কের পাশের ১৮ বিঘা জমি নিয়ে তার সাথে মোল্যা খবিরের দীর্ঘ দিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। ওই জমিতে সেঁচ কাজের জন্য তিনি শুক্রবার স্যালো মেশিনের বোরিং করতে যান।

কাজ করতে করতে রাত হয়ে যায়। রাত সাড়ে ৯টার দিকে খবিরের লোকজন তাদের ওপর গুলি ছোড়ে। পাল্টা অভিযোগ করে অরুনিমা ইকো পার্কের ম্যানেজার শাহাদত হোসেন বলেন, মিজু বিশ্বাস হিং¯্র প্রকৃতির লোক। রাতে তার জমি দখল করতে গেলে পার্কের সিকিউরিটি গার্ড বাধা দেয়। এ সময় দু’পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা হয়। মিজুর সন্ত্রাসী বাহিনী অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে পার্কে হামলা চালায়। পার্কের গার্ড রবিজুল মোল্যাকে পিটিয়ে আহত করে। এসময় আতœরক্ষার্থে পার্কের প্রহরীরা ফাঁকা গুলি করে। পাল্টা গুলি চালায় আক্রমন কারিরা। রাতের অন্ধকারে চালানো গুলিতে ১৪ জন গুলির ছররা লেগে আহত হন। অরুনিমা ইকোপার্ক ও রিসোর্ট গলফ ক্লাবের চেয়ারম্যান খবির উদ্দিন আহম্মেদ বলেন, অরুনিমা রিসোর্টের একটি জমি নিয়ে মিজু বিশ্বাসের সাথে তার আদালতে মামলা চলছে। মামলার রায়ও তার (খবির উদ্দিন) পক্ষে রয়েছে। আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মিজানুর রহমান মিজু বিশ্বাস ওই জমিতে স্যালো মেশিনের পাইপ বোরিং করছিলেন। এসময় তার লোকজন বাঁধা দিলে দু’গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। পার্কে লোকজন কম থাকায় পার্কের সিকিউরিটি গার্ড নিরাপত্তার স্বার্থে বাধ্য হয়ে ফাঁকা গুলি ছোড়ে। পাল্টাগুলি চালায় মিজু বাহিনী।  এর আগেও মিজানুর রহমানের সন্ত্রাসী বাহিনী হামলা চালিয়ে তার ছেলে ইরফানসহ কয়েকজনকে গুরুতর আহত করে। ওই ঘটনায় আদালতে মামলাও রয়েছে। পর্যটন কেন্দ্রটিকে ধ্বংস করতে ষড়যন্ত্র এই মিজু চক্র ষড়যন্ত্র অব্যাহত রেখেছে। এদিকে মিজু’র পক্ষীয় লোকজন জানান, মিজু পক্ষের কেউ গুলি করেনি। পার্কের পাহারাদার লাইসেন্স করা বন্দুক দিয়ে গুলি করেছে। মোঃ বেলায়েত হোসেন জানান, তিনি শুনেছেন পার্কের পাহারাদারের ছোড়া গুলিতে ১৪ জন আহত হয়েছে। মারাতœক আহত ৯ জনকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদের মধ্যে গুলিবিদ্ধ আকিদুল ও জাকিরের অবস্থা খুবই আশঙ্কাজনক। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এলাকার পরিস্থিতি শান্ত আছে। আর এ ঘটনায় কে বা কারা কতটুকু অপরাধি তা তদন্তে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

Share Now
February 2026
M T W T F S S
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
232425262728