আগামী জাতীয় নির্বাচনকে মাথায় রেখে চার ইস্যু নিয়ে সারাদেশ সফর করবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নতুন কমিটি। ইস্যুগুলো হলো—সমাজের নিঃস্ব ও গৃহহীনদের তালিকা প্রণয়ন, জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন, জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় জনগণকে আরও বেশি সম্পৃক্ত করা ও সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডগুলো মানুষের কাছে তুলে ধরা। ডিসেম্বরের শেষের দিকে অথবা আগামী বছরের শুরুর দিকে এ সফর শুরু করবে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ। নতুন কমিটির এমন পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন দলটির শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা। তারা জানান, সব কিছু ছাপিয়ে আগামী সংসদ নির্বাচনই হলো এর মূল লক্ষ্য।

আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা বলেন, নির্বাচনের আগে এসব ইস্যু নিয়ে কাজ করে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পেতে চাই আমরা। তারা বলেন, আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই ইস্যুগুলো নিয়ে কাজ করার জন্য নতুন কমিটিকে দায়িত্ব দিয়েছেন। সম্মেলনের দিন থেকে পরবর্তী যে কয়েক দফা নতুন কমিটির সঙ্গে দলীয় সভাপতির কথা হয়েছে, প্রতিবারই উল্লিখিত ইস্যুগুলো নিয়েই কাজ করতে নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ শিগগিরই জেলা সফর শুরু করবে।’ তিনি বলেন, ‘এ দলটি জনগণ নির্ভর দল। আগামী নির্বাচনে জিততে হলে জনগণের কাছেই বেশি করে যেতে হবে। তাই আওয়ামী লীগ জনগণের সংস্পর্শে থাকার জন্য যেসব কাজ রয়েছে, এ কমিটি সেগুলোকেই অগ্রাধিকার দেবে।’
জানা গেছে, জনগণের সংস্পর্শে গিয়ে তাদের মন জয় করে নেওয়ার পাশাপাশি দল ও সরকারকে আরও বেশি শক্তিশালী করার উদ্দেশ্যেই এ সফর শুরু করতে চায় ক্ষমতাসীন দলটি। আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা দলের জাতীয় ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেছেন, ‘গৃহহীনদের ঘর করে দেবে সরকার।’ এ জন্য দলের নেতাকর্মীদের নিজ-নিজ এলাকা থেকে গৃহহীনদের তালিকা তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন।
জানা গেছে, বিশেষ করে গৃহহীনদের ঘর করে দেওয়ার পরিকল্পনা আগামী দিনের ভোটযুদ্ধকে কেন্দ্র করেই নেওয়া হয়েছে। দলের নীতি-নির্ধারকরা মনে করছেন, এই উদ্যোগে সফল হতে পারলে দলের জনসমর্থন যেমন বাড়বে, তেমনি ভোটও বাড়বে। তারা মনে করেন, এ উদ্যোগের ফলে ফলভোগীরা কখনোই উপকারের কথা ভুলতে পারবে না। তাই আগামী নির্বাচনের আগে এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারলে হতদরিদ্র শ্রেণির সমর্থন কোনোভাবেই আওয়ামী লীগের বিপক্ষে যাবে না।
আওয়ামী লীগের নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা জানান, আগামী ৮ নভেম্বর আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সভা রয়েছে। সেখানে জেলায়-জেলায় সফর শুরু করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সংগঠনকে কিভাবে আরও বেশি গতিশীল করা যায়, সে ব্যাপারেও সবার অভিমতের ভিত্তিতে কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হবে। এ ধরনের ইঙ্গিত দিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের মঙ্গলবার রাজধানীতে একটি দলীয় কর্মসূচিতে বলেন, ‘আওয়ামী লীগের পরবর্তী এজেন্ডা জাতীয় নির্বাচন। নির্বাচনকে সামনে রেখে জনগণের ভালোবাসা অর্জন এবং মন জয় করতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনা আজ আমাদের দলের চেয়েও অনেক উচ্চতায় রয়েছেন। তিনি যে দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন, সেই আওয়ামী লীগকেও জনপ্রিয়, শক্তিশালী, আধুনিক এবং গতিময় করতে হবে। তবেই সরকার যেমন শক্তিশালী তেমন আওয়ামী লীগও শক্তিশালী হবে। ’
ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘সরকার শক্তিশালী, আওয়ামী লীগ দুর্বল হলে সরকারের মধ্যে হারিয়ে যাবে। সেটা আওয়ামী লীগের জন্য শুভ লক্ষণ নয়। দলের মধ্যে সরকার হারিয়ে যাবে, সরকারের মধ্যে দল হারাবে না। তাই আমাদের লক্ষ্য।’
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজি জাফরউল্যাহ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘নির্বাচিত নতুন কমিটি সারাদেশ সফরে নামবে। আগামী ৮ নভেম্বর দলের কার্যনির্বাহী সংসদের প্রথম সভা। সেই সভায় আমরা কিছু কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করব। আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা তা অনুমোদন দেবেন। সে অনুযায়ী আমরা কাজ শুরু করে দেব।’ তিনি বলেন, ‘এই কমিটির লক্ষ্যই হবে আগামী নির্বাচনে দলকে জয়ী করা।’
জানতে চাইলে দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবউল আলম হানিফ বলেন, ‘সম্মেলনে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা তার ভাষণে বেশ কিছু দায়িত্ব দিয়েছেন দলের নেতাদের। এরমধ্যে অন্যতম হলো সমাজের হতদরিদ্র ও গৃহহীন মানুষের তালিকা প্রণয়ন করে সরকারের কাছে জমা দেওয়া। একেবারে তৃণমূল থেকে এ তালিকা করতে হবে। এর জন্য আমাদের সফরে নামার প্রয়োজন রয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে জনগণকে সম্পৃক্ত করতেও আমাদের মানুষের কাছে যেতে হবে। এরই অংশ হিসেবে জেলা সফর করবে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।’

Share Now
March 2026
M T W T F S S
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031