জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস ও মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখার পাশাপাশি তা কঠোরভাবে দমন করা হবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন । একই সঙ্গে বিপথগামীদের জঙ্গিবাদ থেকে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। যারা ধর্মের নামে জঙ্গিবাদে জড়িয়ে হত্যা-সন্ত্রাসে জড়াচ্ছে, তাদের সৎ পথে ফেরার আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেছেন, তাদের জীবন-জীবিকার জন্য সরকার সবকিছু করবে।
গতকাল মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে ঢাকা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে জাতীয় শিশু-কিশোর সমাবেশে বক্তব্য দেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস, মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান চলছে, এটা চলবে এবং কঠোর হাতে তা আমরা দমন করব। জঙ্গিদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা বিপথে যাচ্ছে, আমি তাদের আহ্বান করব, এই বিপথ ছেড়ে তারা যেন সৎ পথে ফিরে আসে। তাদের জীবন-জীবিকার জন্য যা প্রয়োজন সরকার তা করবে। কিন্তু এভাবে যেন তারা আত্মহননের পথ বেছে না নেয়, জঙ্গিবাদ বা সন্ত্রাসের পথ যেন বেছে না নেয়। শিক্ষার্থীরা যাতে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসের সঙ্গে সম্পৃক্ত না হয়, সেজন্য শিক্ষক ও অভিভাবকদের আরো বেশি নজর দেয়ার তাগিদ দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, আমরা চাই, আমাদের শিশুরা মন দিয়ে লেখাপড়া করবে। অভিভাবক, শিক্ষকদের কথা শুনবে। তাদের মান্য করে চলবে। মাদক বা কোনো ধরনের জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসের সঙ্গে সম্পৃক্ত হবে না। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সকলের প্রচেষ্টায় আমাদের ছেলেমেয়েরা যেন উন্নত জীবন পায়, সৎ চরিত্রের হয়, মানুষের মতো মানুষ হয়। আজকের প্রজন্মই আগামী দিনে জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তুলবে। অভিভাবক এবং শিক্ষকদের ঐক্যবদ্ধভাবে উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে শিশু-কিশোরদের নৈতিক ও আদর্শগত শিক্ষা দিয়ে আগামীর নেতৃত্ব প্রদানে সক্ষম ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়ে তোলার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আজকের যে প্রজন্ম তারাই একদিন শিক্ষা-দীক্ষায় পরিপূর্ণ হয়ে উন্নত মানবসম্পদে পরিণত হবে। এদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। সোনার বাংলাদেশ গড়ার জন্য সোনার ছেলেমেয়ে হিসেবে নিজেরা তৈরি হবে। সেটাই আমি আশা করি। তিনি বলেন, সকল ছেলেমেয়ে উন্নত ও সমৃদ্ধ জীবন লাভ করবে এবং ভালোভাবে চলবে।
তিনি বলেন, আজকে আমি প্রধানমন্ত্রী হয়েছি এবং আজকের যারা শিশু, আমি মনে করি তাদের মধ্য থেকেই আগামীতে কেউ না কেউ প্রধানমন্ত্রী হবেন। মন্ত্রী হবেন, অফিসার হবেন, সেনা-নৌ ও বিমানবাহিনী থেকে শুরু করে পুলিশ, বিজিবি কর্মকর্তা হবেন। তারা দেশকে গড়ে তুলবেন। দেশকে উন্নত সমৃদ্ধশালী করে গড়ে তুলবেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং দেশের অগ্রযাত্রাকে কেউ যাতে বাধাগ্রস্ত করতে না পারে- সেদিকে সবাইকে সতর্ক থাকতে বলেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে সকলে ঐক্যবদ্ধভাবে আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি। মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপট স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতার নেতৃত্বে মহান মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়। ২৫শে মার্চ কালরাতে যখন পাকিস্তানি সামরিক জান্তা নিরস্ত্র বাঙালিদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে গণহত্যা শুরু করে তখন বঙ্গবন্ধু ২৫শে মার্চের শেষ এবং ২৬শে মার্চের প্রথম প্রহরে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। এর আগে ৭ই মার্চের ভাষণে বঙ্গবন্ধু সমগ্র জাতিকে মুক্তিযুদ্ধের জন্য প্রস্তুত করতে ঘোষণা দেন- ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’ এর মাধ্যমে তিনি একটি সম্পূর্ণ গেরিলা যুদ্ধ পরিচালনার দিকনির্দেশনা দিয়ে যান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু শিশুদের জন্য শিশু অধিকার আইন করে যান, প্রাথমিক শিক্ষা অবৈতনিক এবং বাধ্যতামূলক করে যান। মেয়েদের শিক্ষা মাধ্যমিক পর্যন্ত অবৈতনিক করে দেন। তিনি আমাদেরকে একটি সংবিধান দেন যেখানে সরকার সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকারগুলো নিশ্চিতের দায়িত্ব নিয়েছে। তিনি ক্রমেই একটি যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশকে গড়ে তুলছিলেন। কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য, আমাদের উন্নয়ন-অগ্রগতির চাকাকে স্তব্ধ করে দিয়ে পরিবার-পরিজনসহ জাতির পিতাকে হত্যা করা হয়।
বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে উল্লেখ করে বাংলাদেশের সরকার প্রধান বলেন, জাতির পিতাই তার ৭ই মার্চের ভাষণে বলে গেছেন ‘আমাদের কেউ দাবায়ে রাখতে পারবা না’। তবে, অনেক ষড়যন্ত্র হয়েছে, ২১টা বছর এদেশের মানুষকে দাবায়ে রাখার চেষ্টা হয়েছে। কিন্তু আমরা ’৯৬ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই যে কাজ শুরু করেছি আজও দেশের মানুষ তার সুফল পাচ্ছে। শেখ হাসিনা বলেন, অর্থনৈতিক মুক্তির কর্মসূচিকে এবার আন্দোলনে রূপ দিতে হবে। তবেই আমরা গড়ে তুলতে পারবো ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত জাতির পিতার স্বপ্নের ‘সোনার বাংলা’। আমরা স্বাধীনতার সুফল বাংলার প্রতিটি ঘরে পৌঁছে দিতে চাই। এর আগে সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে পৌঁছালে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক তাকে স্বাগত জানান। অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীয় সংগীতের সঙ্গে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন প্রধানমন্ত্রী। কুচকাওয়াজে অভিবাদন গ্রহণ ও শিক্ষার্থীদের মনোজ্ঞ ডিসপ্লে উপভোগ করেন তিনি। অনুষ্ঠানে ঢাকার জেলা প্রশাসক মো. সালাউদ্দিন ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।
| M | T | W | T | F | S | S |
|---|---|---|---|---|---|---|
| 1 | 2 | 3 | 4 | |||
| 5 | 6 | 7 | 8 | 9 | 10 | 11 |
| 12 | 13 | 14 | 15 | 16 | 17 | 18 |
| 19 | 20 | 21 | 22 | 23 | 24 | 25 |
| 26 | 27 | 28 | 29 | 30 | 31 | |
