শেখ হাসিনা পঁচাত্তরের পনেরো আগস্ট সপরিবারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যায় জড়িতদের নিয়মিত তাদের বাসায় যাতায়াত ছিল বলে জানিয়েছেন । আগস্ট মাসের প্রথম দিন মঙ্গলবার কৃষক লীগের একটি কর্মসূচিতে বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, কত বড় ‘বেঈমানী’ হয়েছিল, তা বাংলার জনগণের জানা উচিত। এরপর একে একে সেনা কর্মকর্তা শরিফুল হক ডালিম, নূর চৌধুরী, সৈয়দ ফারুক রহমান, আব্দুর রশিদ ও জিয়াউর রহমানের বঙ্গবন্ধুর পরিবার এবং তার সরকারের গুরুত্বপূর্ণদের সঙ্গে সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন। খবর বিডিনিউজের।

তৎকালীন মেজর ডালিমের বিষয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ডালিমের শাশুড়ি, বউ আর শালী দিনরাত আমাদের বাসায় পড়ে থাকত। আরেক খুনি নূর চৌধুরী মুক্তিযুদ্ধকালে শেখ কামালের সঙ্গে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক এম এ জি ওসমানীর এডিসি ছিলেন। বঙ্গবন্ধুর মন্ত্রিসভার অর্থমন্ত্রী আজিজুর রহমান (এ আর) মল্লিক ছিলেন আরেক খুনি সৈয়দ ফারুক রহমানের খালু। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর খন্দকার মোশতাক আহমেদের সরকারেরও মন্ত্রী হয়েছিলেন এআর মল্লিক। বঙ্গবন্ধুর আরেক খুনি কর্নেল আব্দুর রশিদ ছিলেন তার সরকারের আরেক মন্ত্রী খন্দকার মোশতাকের আত্মীয়। শেখ হাসিনা বলেন, মোশতাক আহমেদ ১৯৪৯ সালে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে যুগ্ম সম্পাদকের দায়িত্ব পান। মোশতাক একই কেবিনেটের মন্ত্রী ছিলেন। তিনিও বেঈমানী করেন।

বঙ্গবন্ধুই জিয়াউর রহমানকে পদোন্নতি দিয়ে মেজর জেনারেল করেছিলেন জানিয়ে তিনি বলেন, তার পারিবারিক সমস্যারও সমাধান করে দেন জাতির পিতা। ‘মাসে দুইতিন বার করে আমাদের বাসায় চলে আসত, সোজা চলে আসত। জিয়া ও তার স্ত্রী খালেদা নিয়মিত আমাদের বাসায় যাতায়াত করত।’

১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতির বিজয় ও আদর্শকে হত্যা করা হয় বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। পাকিস্তানি শত্রুরা যা করতে পারেনি, আপনজন হয়ে দিনরাত যারা আমাদের বাসায় আসত, তারাই হত্যাকাণ্ড ঘটাল। ১৫ আগস্টকে বাংলাদেশের জন্য ‘সবচেয়ে কালো অধ্যায়’ আখ্যায়িত করেন প্রধানমন্ত্রী।

জাতির জনক রক্ত দিয়ে ঋণ শোধ করে গেছেন মন্তব্য করে তার মেয়ে বলেন, তিনি কিছুই নিয়ে যাননি। কাফনের কাপড়ও কেনার সুযোগ ছিল না। যে গরিব মানুষের জন্য জাতির পিতা রিলিফের কাপড় দিতেন, সেই রেড ক্রিসেন্টের অফিস থেকে কাপড় নিয়ে পাড় ছিড়ে দাফন করা হয়েছিল। এই হত্যাকাণ্ডের জন্য স্বাধীনতাবিরোধীদের দায়ী করে তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের বিজয়টা যারা সহ্য করতে পারেনি, তারাই জাতির পিতাকে হত্যা করেছিল।

 

Share Now
February 2026
M T W T F S S
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
232425262728