জাপান নতুন বছরে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন দেখতে চায় । ঢাকায় নিযুক্ত দেশটির রাষ্ট্রদূত ইতো নওকি স্পষ্ট করে বলেছেন, ২০২১ সালে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরুর বিষয়ে টোকিও কাজ করছে। বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে কূটনীতিক সংবাদদাতা সমিতি (ডিকাব)-এর সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এসব বলেন। মিয়ানমারের সামরিক ও বেসামরিক নেতৃত্বের সঙ্গে জাপানের ভালো বোঝাপড়া রয়েছে জানিয়ে রাষ্ট্রদূত বলেন, রোহিঙ্গা সঙ্কটের  সমাধানে তাদের সঙ্গে আমাদের আলোচনা চলছে। এ সঙ্কটের স্থায়ী সমাধানের জন্য প্রত্যাবাসন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের মতো মিয়ানমারও জাপানের ঐতিহ্যবাহী বন্ধু। উভয় দেশের প্রতিই জাপানের আগ্রহ রয়েছে। প্রায় ১১ লাখ বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিক এখন বাংলাদেশে অস্থায়ী আশ্রয়ে রয়েছে, যারা বিভিন্ন সময়ে নিজ দেশ নির্যাতনের কারণে পালিয়ে সীমান্ত পাড়ি দিতে বাধ্য হয়েছে।

ডিকাব সভাপতি আঙ্গুর নাহার মন্টির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ডিকাব টক-এ সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক তৌহিদুর রহমান স্বাগত বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে সংগঠনের সদস্য ছাড়াও বাংলাদেশের ফরেন পলিসি নিয়মিত কভার করা রিপোর্টাররা উপস্থিত ছিলেন। উন্নয়ন-অগ্রগতি এবং কৌশলগত অবস্থানের কারণে বাংলাদেশকে জাপান খুবই গুরুত্ব দেয় উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত আশা করেন এ অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ এশিয়া ও এর বাইরের বাজারে সরবরাহ চেইনকে আরও সংহত করতে পারবে। বাংলাদেশে যে বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্প চলছে তাতে আগামী তিন থেকে পাঁচ বছরে দেশের অবকাঠামোতে আমূল পরিবর্তন দৃশ্যমান হবে মন্তব্য করে তিনি বাংলাদেশে চলমান অবকাঠামো উন্নয়নে জাপানের সহযোগিতার বিস্তারিত তুলে ধরেন। বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নয়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকার দুর্দান্ত কাজ করেছে মন্তব্য করে রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশ ভালো বিনিয়োগ পরিবেশ তৈরি করায় জাপানি কোম্পানিগুলো এদেশে বিনিয়োগের ব্যাপারে আরও বেশি আগ্রহী হয়ে ওঠেছে। অবকাঠামো উন্নয়ন, কানেক্টিভিটি, শুল্ক সংক্রান্ত কানুন সহজীকরণসহ বিনিয়োগের উন্নয়নে বাংলাদেশ সরকার নানা ধরণের ইতিবাচক পদক্ষেপ নিচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব পদক্ষেপের ফলে বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগের যে ধারা তাতে আগামী বছর থেকে ইতিবাচক প্রভাব দৃশ্যমান হবে। রাষ্ট্রদূত জানান, বাংলাদেশে জাপানের তিন শতাধিক কোম্পানি কাজ করছে। ঢাকা থেকে মাত্র ২৫ কিলোমিটার দূরে আড়াই হাজার উপজেলায় জাপানের জন্য বরাদ্দ করা স্পেশাল ইকোনমিক জোনে বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ আসবে বলে আশা করেন তিনি। জাপানকে যুক্তরাষ্ট্রের ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার আখ্যা দিয়ে রাষ্ট্রদূত বলেন, এই স্ট্র্যাটেজি এশিয়ার সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতার ভিশন। এতে বাংলাদেশসহ এ অঞ্চলের সবার কল্যাণ রয়েছে। করোনা পরিস্থিতি বাংলাদেশ ভালোভাবে সামলেছে বলে উল্লেখ করেন রাষ্ট্রদূত। দ্রুত আগের অবস্থায় ফিরে যাওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশ যে সব উদ্যোগ নিয়েছে তিনি তার প্রশংসা করেন।

Share Now
March 2026
M T W T F S S
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031