‘আমি পরবর্তীতে স্বীকারও করেছি। আমি যদি কারও সমালোচনা করি…, আমি ভুলটা স্বীকারও করেছি। তার মানে কী? রাষ্ট্র আজকে মানসিক বিকারগ্রস্ত হয়ে গেছে।’
‘গণতন্ত্র মানে হলো কথা বলার সুযোগ থাকা, সমালোচনা করা, এমনকি ভুল সমালোচনা করলেও তাকে করতে দিতে হবে। ভুল হলে সংশোধন করবে। যেমন আমি করেছি। এটাকে ইস্যু হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না।’
শেখ হাসিনা অনেক ভালো কাজ করেছেন বলেও স্বীকার করেন জাফরুল্লাহ। বলেন, ‘হাসিনা দেশের যথেষ্ট উন্নয়ন করেছে। পদ্মা সেতু করছে।’
তবে এই সেতু করতে আট হাজার কোটি টাকা লাগার কথা ছিল দাবি করে ঐক্যফ্রন্ট নেতা প্রশ্ন তোলেন কেন সেখানে ৩৮ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হচ্ছে।
এই বাড়টি টাকা শেখ হাসিনা নয়, তার চারপাশের চাটুকারদের হাতে গেলে চলেও দাবি করেন জাফরুল্লাহ।
আগামী নির্বাচনে শেখ হাসিনা হারলে তাকে জেলে যেতে হবে না বলেও নিশ্চয়তা দেন ঐক্যফ্রন্ট নেতা। বলেন, ‘তার যথাযথ বিচার হবে। তিনি জামিন পাবেন। খালেদা জিয়ার উপরে যে অন্যায় অত্যাচার হচ্ছে তার উপরে হবে না। একই জিনিস যদি পুনরাবৃত্তি হয়, তাহলে দেশে শান্তি আসবে কোথা থেকে?’
জাফরুল্লাহ বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার সমালোচনা করেন সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা মইনুল হোসেনও। বলেন, ‘আমার বন্ধু জাফরুল্লাহ সাহেব একটা ভুল করেছে, ক্ষমাও চেয়েছে। …এর পরে যা হলো, আমি নিশ্চই বিশ্বাস করি না এটা আর্মি চিফের চিন্তাভাবনা।’
‘এটা একটা স্বাধীন দেশ। ঠিক আছে একটা ভুলভ্রান্তি তো হতেই পারে। সেই জন্য দেশদ্রোহী মামলা দিতে হবে, এটা কী কথা?’
‘কষ্ট লাগে, আজকে মুক্তিযোদ্ধা রাষ্ট্রদ্রোহী হয়ে গেল? কি কথা একটু সমালোচনা করছে। এটা যেহেতু আমাদেরই সামরিক বাহিনী, একটু আধটু ভুলভ্রান্তি হতে পারে’- বলেন মইনুল।
সংগঠনের প্রধান সমন্বয়ক সানাউল হক নীরু এর সভাপতিত্বে সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতা মইনুল হোসেন, আ ব ম মোস্তফা আমিন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক আসিফ নজরুল প্রমুখ।
