ঝালমুড়ি। বাংলাদেশের সর্বত্র জনপ্রিয় একটি মুখরোচক খাবারের নাম। যা মুড়ি, চানাচুর ও অন্যান্য মসলা সংমিশ্রণে তৈরি হয়। বাহিরের খাবারের মধ্যে ঝাল মুড়িটাই যেন পছন্দের তালিকায় সবার আগে থাকে।
রাজধানীর বিভিন্ন পার্কের সামনে, ফুটপাতে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গেটের সামনে সাধারণত ঝালমুড়ি বিক্রির দৃশ্য দেখা যায়। এমনই একজন ঝালমুড়ি বিক্রেতা রুবেল হোসেন (২৮)। তিনি ঝালমুড়ি বিক্রি করেন নীলক্ষেত মার্কেটের ভিতরে। ঝালমুড়ি যদি ঝালই না হয়, তাহলে ঝালমুড়ি নাম কেন হবে। তাই বিক্রেতা রুবেল হোসেন তার ঝালমুড়ির নাম দিয়েছেন ‘চোখের পানি’।
রুবেলের ঝালমুড়ি খেয়ে চোখে পানি আসবে না তা কি করে হয়। ১০ টাকার
ঝালমুড়িতে ক্রেতার চাহিদা থাকলে পনের টাকার বোম্বাই মরিচ দিতেও কোন কার্পণ্য করেন না এই মুড়ি বিক্রেতা। তার মতে প্রতিদিন বিকেল ৫টা থেকে রাত ৯ টা পর্যন্ত নীলক্ষেত মার্কেটের ভিতরে মসজিদের সামনের গলিতে তিনি মুড়ি বিক্রি করেন। প্রতিদিন অসংখ্য মানুষের চোখের পানি বের করেন তিনি সিলেটী বোম্বাই মরিচের ঝাল দিয়ে।
তার এই চোখের পানির স্বাদ নিতে সন্ধ্যার পর রীতিমত লাইন ধরতে হয় ক্রেতাদের। তার মুড়ির অন্যান্য বৈশিষ্ট্য হলো- সিলেটী বোম্বাই মরিচ, টমোটে এবং আলুসিদ্ধর সঙ্গে অধিক পরিমাণ বিভিন্ন মসলার সংমিশ্রণ।

ঝালমুড়ি বিক্রেতা রুবেল হোসেনের গ্রামের বাড়ী নোয়াখালী জেলার হাতিয়া উপজেলায়। বাবা-মা নিয়ে থাকেন পুরানো ঢাকার রায়েরবাজার এলাকায়। মা-বাবা আর তিন ভাই, দুই বোন নিয়ে তাদের সংসার। পরিবারে সবার বড় হওয়ায় সংসারের ঘানি তারই টানতে হচ্ছে। ছোট দুই ভাইয়ের লেখাপড়ার খরচ জোগানোসহ সংসারের পুরো দায়ীত্বই তার।
প্রতিদিন কত টাকার মুড়ি বিক্রি হয় জানতে চাইলে রুবেল হোসেন ব্রেকিংনিউজকে বলেন, ‘প্রতিদিন চার/পাচঁ হাজার টাকার মুড়ি বিক্রি হয়। তবে লাভ সীমিত করি বিধায় বিক্রির পরিমান বেশি।’
ক্রেতাদের খুশি রাখতে পারলেই তার ভাল লাগে উল্লেখ করেন এই মুড়ি বিক্রেতা। ক্রেতাদের চাহিদামত বোম্বাই মরিচের স্পেশ্যাল ঝালসহ যে যা চাইবে তা দিতে তিনি কৃপণতা করেন না। রুবেল হোসেনের মুড়ির স্বাদ নিতে নীলক্ষেত মার্কেটের দোকানদারসহ দূর-দূরান্ত থেকে ক্রেতারা আসেন। তার এই চোখের পানির নাম এখন নীলক্ষেতসহ অনেক জায়গায় ছড়িয়েছে।