যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। কয়েক ঘণ্টা পরই সোমবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত জো বাইডেনের বিজয় নিশ্চিত করতে তাকে অনুমোদন (এন্ডোর্স) দেবেন ইলেক্টোরাল কলেজ ভোট। কিন্তু নির্বাচনে এখনো পরাজয় মানতে রাজি নন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। এরই মধ্যে তিনি বার বার নির্বাচনে জালিয়াতি, ভোট চুরির অভিযোগে আদালতে পরাজিত হয়েছেন। সুপ্রিম কোর্টে দু’বার তিনি হেরে গেছেন। সর্বশেষ গত শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টের ৯ জন বিচারকের বেঞ্চ একটি মামলার শুনানি প্রত্যাখ্যান করেন। তারা ওই মামলা প্রত্যাখ্যান করে অলিখিত রায় দেন। নিউজউইক এ খবর দিয়ে লিখেছে- নির্বাচনে জালিয়াতির অভিযোগ এনে এবং চারটি সুইং স্টেটের ফল পাল্টে দেয়ার দাবিতে এই মামলা করেছিলেন টেক্সাসের এটর্নি জেনারেল কেন প্যাক্সটন।
এই মামলায় বেশ কিছু এটর্নি এবং কংগ্রেস সদস্যের সমর্থন ছিল। কিন্তু কিছুতেই ওই চারটি রাজ্যের ফল পাল্টে দিতে পারেননি রিপাবলিকানরা। সুপ্রিম কোর্ট তাদের পক্ষে যায়নি। একের পর এক মামলায় যখন তিনি আদালতে হেরে যাচ্ছেন তখন তাকে ভিন্ন এক পরামর্শ দিলেন টুইটার ব্যবহারকারীরা। তাকে এবার রিয়েলিটি টিভি শো’র একজন বিচারকের দ্বারস্থ হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা। একজন টুইটার ব্যবহারকারী ট্রাম্পের উদ্দেশে লিখেছেন, এখনও সব শেষ হয়ে যায়নি। এখনও ট্রাম্পের জন্য আছেন জাজ জুডি, দ্য পিপলস কোর্ট, নাইট কোর্ট। এখানে উল্লেখ্য, জাজ জুডি এবং দ্য পিপলস কোর্ট দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক জনপ্রিয়। এর মধ্যে নাইট কোর্ট প্রচারিত হয়েছে ১৯৮৪ সাল থেকে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত। এই শো’টি শেষ হয়ে যাওয়ায় ট্রাম্পের সেখানে যাওয়া উচিত নয় বলে অনেকে মত দিয়েছেন। তবে জাজ জুডির কাছে তাকে নির্বাচন নিয়ে বিচার দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন এসব টুইটকারীরা।
উল্লেখ ‘জাজ জুডি’ হলো একটি আমেরিকান জনপ্রিয় সালিশি রিয়েলিটি কোর্ট শো। যেখানে জুডি শিন্ডলিনের সভাপতিত্বে কোর্টের আদতে সুটিং সেটে একটি কোর্টরুম বানানো হয়। এই কোর্ট রুমে নাগরিকদের বাস্তব জীবনের ছোট ছোট দাবি সংক্রান্ত বিরোধগুলোর বিচার করা হয়। ট্রাম্প এবং রিপাবলিকান দলে তার কিছু সমর্থক টেক্সাসের এটর্নি জেনারেল কেন প্যাক্সটনের করা মামলাকে বড় একটি ইস্যু হিসেবে দেখেছিলেন। তারা আশা করেছিলেন, এই মামলার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট চারটি রাজ্যে আদালত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে বিজয়ী ঘোষণা করবেন এবং তার দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্সি নিশ্চিত করবেন। কিন্তু সেই মামলাটি হাওয়ায় উবে গেছে। ফলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ব্যবহারকারীরা ট্রাম্প শিবিরকে নতুন পরামর্শ দিচ্ছে। তারা আইন-আদালত ভিত্তিক রিয়েলিটি শো ‘জাজ জুডি’র কাছে নালিশ জানানোর আহ্বান জানাচ্ছেন। তাদের একজন বেবি ট্রুথ২। এই ব্যবহারকারী এক টুইটে মজা করে লেখেনÑ ট্রাম্প এখন ‘জাজ জুডি’, পিপলস কোর্ট, নাইট কোর্ট এবং মল ফুড কোর্টে (শপিং সেন্টারগুলোর খাবারের দোকান) তার মামলার বিচার চাইতে পারেন।
‘জাজ জুডি এবং দ্য পিপলস কোর্ট’ এ দুটি বিচার ভিত্তিক টেলিভিশন রিয়েলিটি শো। তবে নাইট কোর্টের কাছে ট্রাম্প তার আবেদন করতে পারবেন না। কারণ জনপ্রিয় এ শো’টি ১৯৮৪ সাল থেকে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত সম্প্রচারিত হয়েছিল।
তবে এ বিষয়ে অন্য ব্যবহারকারীরা ট্রাম্পকে এ্যামি অ্যাওয়ার্ড জয়ী অনুষ্ঠান ‘জাজ জুডি’ এর শরনাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দেন। এ টিভি শো’টি ১৯৯৬ সাল থেকে প্রচারিত হচ্ছে এবং এটি অনেক দর্শকদের কাছে ভীষণ জনপ্রিয়। লেখক অ্যামি ভ্যান্ডারপুল এক টুইটে লিখেছেন, আপনারা অনেকে বলছেন ট্রাম্পের শেষ সুযোগ এখন ‘জাজ জুডি’। আপনাদের সবার এখনই যথার্থ কিছু তথ্য জানা উচিত। তা হলো, ট্রাম্পের উদ্ভট অভিযোগ সমর্থন করবেন না জুডি শিন্ডলিন। কারণ স্মার্ট নারীদের নিয়ে বেশ আতঙ্কিত ট্রাম্প। সেখানে তিনি কোন যৌন সুবিধা নিতে পারবেন না।
ক্রিস ইভানন্স নামে একজন টুইটে লিখেছেন- ‘জাজ জুডি’ শো টি নিয়ে লোকজন ট্রেন্ডিং করছেন। কারণ তারা মনে করে জুডি শিন্ডলিনের কোর্টরুম হবে ট্রাম্পের সর্বশেষ অবলম্বন। আমার মনে হয় আপনারা কেউই মিস শিন্ডলিন সম্পর্কে ভালভাবে জানেন না। এই টুইটে শিন্ডলিনের দুই মিনিটের একটি ভিডিও যুক্ত করেছেন ক্রিস ইভান্স।
হোয়াট হাউজে সিএনএন-এর প্রতিনিধি জিম অ্যাকোস্টা ৯ই ডিসেম্বর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং অন্য রিপাবলিকানরা নির্বাচন বিষয়ক মামলায় হেরে যাওয়ার পর একই কৌতুক করেছিলেন। জিম অ্যাকোস্টা বলেছেন, ট্রাম্প হেরেছেন পেনসিলভ্যানিয়াতে। কিন্তু তিনি এখনও তা প্রত্যাখ্যান করার মতো অবস্থানে রয়েছেন। তারা সুপ্রিম কোর্টে হেরে যাওয়ার পর কোথায় যাবেন তা স্পষ্ট নয়। হয়তো তারা যেতে পারেন জাজ জুডি অথবা দ্য পিপলস কোর্টে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের একজন উপদেষ্টার কাছে আমি জানতে চেয়েছিলাম, তিনি কি পরাজয় মেনে নিচ্ছেন। জবাবে ওই উপদেষ্টা বলেছেন- জবাব হলো জিরো।
