মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস ইরানের সঙ্গে সই হওয়া পরমাণু সমঝোতা ছেড়ে না যেতে ।
ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি-কে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, ২০১৫ সালে সই হওয়া এ সমঝোতা যদি রক্ষা করা না হয় তাহলে যুদ্ধের বাস্তব ঝুঁকি রয়েছে।
আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার শর্তে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির লাগাম টানতে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, চীন, জার্মানি ও রাশিয়ার সঙ্গে তিন বছর আগে ওই চুক্তি করেছিল তেহরান।
ট্রাম্প শুরু থেকেই বারাক ওবামার আমলে স্বাক্ষরিত ওই সমঝোতা চুক্তির কঠোর বিরোধিতা করে আসছেন। যুক্তরাষ্ট্র শেষ পর্যন্ত চুক্তিতে থাকবে কি না, ১২ মে-র মধ্যে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারণার সময় থেকে ট্রাম্প এ সমঝোতার সমালোচনা করে আসছেন এবং তিনি বার বার বলেছেন, এটা হচ্ছে তার মতে সবচেয়ে খারাপ চুক্তি। তবে ইরান বলছে, ট্রাম্প এটা বানচাল করতে পারেন না কারণ এটা বহুপক্ষীয় আন্তর্জাতিক সমঝোতা।
সমঝোতা সম্পর্কে গুতেরেস বলেন, ইরানের সঙ্গে সই হওয়া এ সমঝোতা ছিল গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক বিজয় এবং তা রক্ষা করতে হবে।
তিনি বলেন, ‘বিকল্প না পাওয়া পর্যন্ত আমাদের এ সমঝোতা বাতিল করা উচিত হবে না।আমরা বিপজ্জনক সময় পার করছি।’
তেহরানের ‘গোপন পারমাণবিক কর্মসূচির নথি উন্মোচনে’ ইসরায়েলের দাবির কয়েকদিনের মধ্যেই গুতেরেস ইরান পরমাণু চুক্তির পক্ষে নিজের এ অবস্থান ব্যক্ত করলেন।
চুক্তির আড়ালে ইরান এখনো পারমাণবিক কর্মসূচির ‘জ্ঞান অর্জন’ করে যাচ্ছে বলেও অভিযোগ তেল আবিবের।
নেতানিয়াহুর বক্তব্য সমর্থন করে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও বলেছেন, নেতানিয়াহুর দেয়া তথ্য প্রমাণ করে যে, মিথ্যার ওপর ভিত্তি করে ওবামার আমালে পরমাণু সমঝোতা সই হয়েছিল।
ইরান সবসময় বলে আসছে তার পরমাণু কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ এবং একথা প্রমাণের পরই ২০১৫ সালে পরমাণু সমঝোতা সই হয়েছিল।
