ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ পানি সম্পদমন্ত্রী  জানিয়েছেন, দেশের উপকূলীয় অঞ্চলের পোল্ডারগুলোকে জলবায়ুর ক্রমবর্ধমান উষ্ণতার কারণে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, সমুদ্রের পানির উচ্চতা বৃদ্ধি, ভাঙন ইত্যাদির কবল থেকে রক্ষার জন্য একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। বিশ্ব ব্যাংকের আর্থিক সহায়তায় বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড ‘কোস্টাল এমভার্কমেন্ট ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্ট-ফেজ ১’- শীর্ষক এ প্রকল্পের অনুমোদিত ব্যয় তিন হাজার ২৮০ কোটি টাকা।

আজ মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে মন্ত্রী এসব তথ্য জানান। সরকারি দলের সদস্য এম আবদুল লতিফের প্রশ্নের লিখিত জবাবে তিনি জানান, এ প্রকল্পের মেয়াদকাল ২০১৩ সালের জুলাই থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত। এ ছাড়া উপকূলীয় পটুয়াখালী, বরগুনা ও পিরোজপুরে জেলার ৭০৩ কোটি ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে ‘ইমারজেন্সি ২০০৭ সাইক্লোন রিকোভারি এ রেস্টোরেশন’ প্রজেক্টের কাজ চলমান রয়েছে।

আওয়ামী লীগের মো. আবুল কালামের প্রশ্নের লিখিত জবাবে পানি সম্পদমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ ও ভারতের প্রধানমন্ত্রীর দিক নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে তিস্তা নদীর অন্তর্বর্তীকালীন পানিবন্টন চুক্তির ফ্র্রেমওয়ার্ক চূড়ান্ত করা হয়েছে। তিস্তা ছাড়াও ফেনী নদীর অন্তর্বর্তীকালীন পানি বণ্টন চুক্তির ফ্র্রেমওয়ার্ক চূড়ান্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মনু, মুহুরী, খোয়াই, গোমতী, ধরলা ও দুধ কুমার নদীর পানি বণ্টন বিষেয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। অচিরেই সমতা, ন্যয়ানুগতা এবং পারস্পরিক ক্ষতি না করার নীতির ভিত্তিতে তিস্তা নদীর পানি বন্টন চুক্তি সম্পাদন করা হবে। ভারতের সঙ্গে আলোচনা পূর্বক চুক্তি স্বাক্ষরের প্রচেষ্টা অব্যহত রয়েছে।

সরকারি দলের সদস্য সুকুমার রঞ্জন ঘোষের লিখিত প্রশ্নের জবাবে আনিসুল ইসলাম জানান, ২০১৭ সালের মে মাস পর্যন্ত দেশে মোট ৩৯৭ দশমিক ৭২ কিলোমিটার নদী ড্রেজিং করা হয়েছে। আরো ৯৩ দশমিক ২০ কিলোমিটার পুনঃখননের কাজ চলছে। তিনি জানান, নদীর ভাঙন রোধ, নদীর প্রবাহ বৃদ্ধি ও জলাবদ্ধতা নিরসনে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে পানি উন্নয়ন বোর্ড এ নদী খনন কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

আওয়ামী লীগের সেলিনা বেগমের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, দেশের প্রধান তিনটি নদী যমুনা, গঙ্গা ও পদ্মার ভাঙন রোধে সরকার ‘ফ্লাড এ- রিভার ব্যাঙ্ক ইরোশান রিক্স ম্যানেজমেন্ট ইনভেস্টমেন্ট প্রোগ্রাম (এফআরইআরএমআইপি) শীর্ষক একটি প্রকল্প গ্রহণ করেছে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের আর্থিক সহায়তায় প্রকল্পটি ২০১৪-১৫ অর্থ বছরে শুরু হয়ে ২০২২-২০২৩ অর্থ বছর পর্যন্ত তিনটি পর্যায়ে বাস্তবায়িত হবে। তিনি জানান, বিগত ২০১৪ সালের ১৭ জুন ৮২৮ কোটি ৫৬ লাখ টাকা ব্যয় সম্বলিত প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ের ডিপিপি অনুমোদিত হয়েছে।

ইতিমধ্যে প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে, প্রকল্পের আওতায় মোট ১৭ দশমিক ৮০ কিলোমিটার নদী তীর সংস্কার, ২৩ কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মান , চারটি রেগুলেটর নির্মাণ, ভূমি পুনরুদ্ধার পাইলটিং কাজ ও ৬০টি কমিউনিটি বেইজ ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট ইউনিট স্থাপিত হবে।

Share Now
March 2026
M T W T F S S
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031