পরিস্থিতি সামাল দিতে সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) তৌহিদ ওই ছাত্রের কাছে মোবাইল ফোনে ক্ষমা চেয়েছেন এবং তাকে ছেড়ে দেয়ার জন্য নেয়া ঘুষের টাকাও ফেরত দিয়েছেন। ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ছাত্র জাহাঙ্গীর আলমকে বিনা অপরাধে থানায় আটকে চোখ বেঁধে নির্যাতনের ঘটনায় জেলাব্যাপী ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

কিন্তু এ ঘটনায় পুলিশ প্রশাসন এখনো এএসআই তৌহিদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।
জাহাঙ্গীরকে নির্যাতন ও ঘুষ নেয়ার খবর প্রচার হওয়ার পর অভিযুক্ত এএসআই তৌহিদুর রহমান গত দুই দিন বিভিন্ন মহলে দৌড়ঝাঁপ করেন। ঘটনা ধামাচাপা দিতে প্রথমে জাহাঙ্গীর ও তার পরিবারকে ভয়ভীতি দেখান তিনি। কিন্তু তাদের টলাতে না পেরে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের কাছে ধরনা দিয়ে ঘুষের টাকা ফেরত দিয়ে বিষয়টির সমাধান করেন তিনি।
এ ব্যাপারে ঢাবি শিক্ষার্থী জাহাঙ্গীর আলমের বাবা হকার মিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘বৃহস্পতিবার রাতে এমপি আনার সাহেবের উপস্থিতিতে বিষয়টি সমাধান হয়। দারোগা আমার ছেলের কাছে দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা চেয়েছে এবং ঘুষের টাকা ফেরত দিয়েছে। এ জন্য আমি মিডিয়া ও এমপি সাহেবের প্রতি কৃতজ্ঞ।’
ঘটনার ব্যাপারে ঝিনাইদহ-৪ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য ও কালীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুল আজিম আনার বলেন, ‘একটি মেয়েকে উদ্ধার করার ঘটনায়্য তাকে (জাহাঙ্গীর) পুলিশ আটক করেছিল। হয়তো সামান্য মারপিট করেছে এবং মেয়েটিও উদ্ধার হয়েছে। উভয় পক্ষকে এক জায়গায় করে বিষয়টির সমাধান করে দিয়েছি।’
গত ২৮ অক্টোবর গভীর রাতে একটি মেয়েলি ঘটনায় কালীগঞ্জ উপজেলার পাইকপাড়া গ্রামের শ্বশুরবাড়ি থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র জাহাঙ্গীর আলমকে আটক করেন এএসআই তৌহিদুর রহমান। পরে থানায় নিয়ে হাত-পা ও চোখ বেঁধে তার ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালানো হয়। দেয়া হয় বাঁশকল। এ সময় দারোগা ‘তুই ঘটনার সাথে জড়িত বলে যদি স্বীকার না করিস তাহলে তোকে ক্রসফায়ারে দিব’ বলে ভয় দেখান।
কিন্তু যে ঘটনায় জাহাঙ্গীরকে আটক করা হয়, এর সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতা নেই বলে পরিবারের দাবি। পরে জাহাঙ্গীরের বাবা মিরাজুলের কাছ থেকে ঘুষ নিয়ে ২২ ঘণ্টা পর তাকে ছাড়া হয়।
জাহাঙ্গীর আলম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ বিষয়ের শেষ বর্ষের ছাত্র।

Share Now
April 2026
M T W T F S S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
27282930