সরকার হিসেবে আমাদের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য থাকতে হবে, কীভাবে দেশ ও জাতির উন্নয়ন করা যায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন । তিনি বলেন, একটি মানুষও গৃহহারা থাকবে না। একটি মানুষও অভুক্ত থাকবে না। আমরা সেই লক্ষ্যে কাজ করছি। আজ বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মন্ত্রণালয় ও বিভাগসমূহের বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদ সদস্য ও বিভাগসমূহের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা অংশ নেন। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত, জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম ও প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব কামাল আব্দুল নাসের চৌধুরী। আমলাতান্ত্রিক মনোভাব পরিহার করে কাজ করতে সরকারি কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী উন্নয়ন প্রকল্পগুলো দ্রুত ও সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নেরও তাগিদ দিয়েছেন। চলতি অর্থবছরের বিশাল বাজেটের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, কালক্ষেপণ না করে দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। প্রকল্পগুলো যেন ইলাস্টিকের মতো টেনে নেওয়া না হয়। বর্ষাকালে কাগজ-পত্রের যতো কাজকর্ম আছে সেগুলো সেরে ফেলতে হবে। যখনই বর্ষা নেমে যাবে, সঙ্গে সঙ্গে কাজ শুরু করে দিতে হবে। যে কাজগুলো ঘরে বসে করার, তা বর্ষাকালেই সেরে ফেলতে হবে। তাহলে বর্ষা শেষের সঙ্গে সঙ্গেই কাজ শুরু করে করে দিলে প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য আমরা প্রচুর সময় পাবো। অধিক কাজ বাস্তবায়ন করতে পারবো। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা ২৯ জুন বাজেট পাস করেছি, ৬ জুলাই কর্মসম্পাদন চুক্তি স্বাক্ষর করেছি। এর ফলে বাজেটের প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করার বেশি সময় পাবো। শেখ হাসিনা তার দলের নির্বাচনী ইশতেহার ও তা বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে বলেন, আমরা নির্বাচনী ইশতেহার দিয়ে ভুলে যাই না। বরং আরও কিভাবে বেশি উন্নয়ন করা যায় তা নিয়ে আমরা চিন্তা করি। ২০০৯ সালে সরকার গঠন করে যে উন্নয়নে ধারা শুরু করেছি তা ধরে রাখতে পেরেছি। জনগণ সুফল পেয়েছে। আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন হয়েছে। এবারের বিশাল বাজেটের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা জনগণকে সঙ্গে নিয়েই এ বাজেট বাস্তবায়ন করবো। তিনি বলেন, সরকার হিসেবে আমাদের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য থাকতে হবে, কীভাবে দেশ ও জাতির উন্নয়ন করা যায়। একটি মানুষও গৃহহারা থাকবে না। একটি মানুষও অভুক্ত থাকবে না। আমরা সেই লক্ষ্যে কাজ করছি। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যার পর দেশ ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত ২১ বছর অন্ধকারে ছিল মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশের ভাগ্য থেকে ২১ বছর হারিয়ে গেল। তারপর নানা সংগ্রামের মধ্যদিয়ে আমরা ক্ষমতায় এলাম। দেশের জনগণ প্রথমবারের মতো উপলব্ধি করতে পারলো সরকার জনগণের জন্য, জনগণের সেবার জন্য। কিন্তু ২০০১ সালে আওয়ামী লীগকে আবারও হারিয়ে দেওয়া হয় অভিযোগ করে তিনি বলেন, তারা দেশের সম্পদ (বিদেশিদের হাতে) দিয়ে দেওয়ার মুচলেকা দিয়ে ক্ষমতায় আসে। আমরা মুচলেকা দিয়ে ক্ষমতায় আসার শিক্ষা পাইনি। সেজন্য সেবার ক্ষমতায় আসতে পারিনি। পরে জনগণ ২০০৯ সালে আবার আমাদের ভোট দিয়ে ক্ষমতায় আনে। সরকার প্রধান বলেন, এখন আমরা বিশ্বসভায় উন্নয়নের রোল মডেল। সবাই আমাদের আর্থ-সামাজিক উন্য়নের প্রশংসা করে চলছে। অর্থমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, আমাদের দেশ ও জাতির উন্নয়নে অর্থনৈতিক নীতিমালাকে ১০ বছর পরপর আরও আধুনিক করে প্রণয়ন করতে হবে। সংগ্রামের পথ বেয়েই বাঙালি স্বাধীন জাতির মর্যাদা পেয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী এসময় স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় বঙ্গবন্ধুর অবদানের কথা স্মরণ করেন।
| M | T | W | T | F | S | S |
|---|---|---|---|---|---|---|
| 1 | ||||||
| 2 | 3 | 4 | 5 | 6 | 7 | 8 |
| 9 | 10 | 11 | 12 | 13 | 14 | 15 |
| 16 | 17 | 18 | 19 | 20 | 21 | 22 |
| 23 | 24 | 25 | 26 | 27 | 28 | |
