গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও ২১জনের মৃত্যু হয়েছে। বাংলাদেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েই চলছে। এ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়াল ৩৭০ জনে। এছাড়া এই সময়ে নতুন শনাক্তের তালিকায় যুক্ত হয়েছেন আরও ১ হাজার ২৫১ জন। এ নিয়ে শনাক্তের সংখ্যা ২৫ হাজার ১২১ জনে দাঁড়াল। আর নতুন সুস্থ হয়েছেন ৪০৮ জন।

মঙ্গলবার দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত বুলেটিনে যুক্ত হয়ে করোনাভাইরাস সর্বশেষ পরিস্থিতি তুলে ধরেন অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক নাসিমা সুলতানা।

তিনি বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা সংগ্রহ করা হয় ৯ হাজার ৯১ জনের। নমুনা পরীক্ষা করা হয় ৮ হাজার ৪৪৯ জনের। এতে ১ হাজার ২৫১ জনের দেহে করোনা শনাক্ত হয়। গতকাল (১৮ মে) শনাক্ত হয়েছিল সর্বোচ্চ ১ হাজার ৬০২ জনের। এ পর্যন্ত ১ লাখ ৯৩ হাজার ৬৪৫ জনের করোনা পরীক্ষা করে দেশে মোট শনাক্তের সংখ্যা দাঁড়াল ২৫ হাজার ১২১ জনে।

এছাড়া এই সময়ে মৃত্যু বরণ করেছেন ২১ জন। এর আগের গতকালও ২১ জনের মৃত্যু হয়েছিল, যা একদিনে সর্বাধিক। এ নিয়ে মোট মৃত্যু ৩৭০ জনের।

নাসিমা বলেন, নতুন মৃতরা বয়স বিবেচনায় ১১-২০ বছরে মধ্যে ১ জন, ২১-৩০ বছরের মধ্যে ২ জন, ৩১-৪০ বছরের মধ্যে ২ জন, ৪১-৫০ বছরের মধ্যে ৫ জন, ৫১-৬০ বছরের মধ্যে ৫ জন, ৬১-৭০ বছরের মধ্যে ৪ জন, ৭১-৮০ বছরের মধ্যে ২জন।

তিনি আরও বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন সুস্থ হয়েছেন ৪০৮ জন। এ নিয়ে মোট ৪ হাজার ৯৯৩ জন সুস্থ হয়েছেন। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন আইসোলেশনে এসেছেন ৩২৬ জন। ছাড় পেয়েছেন ৯৩ জন। আর বর্তমানে আইসোলেশনে আছেন ৩হাজার ৬১৬জন।

ব্রিফিংয়ে করোনা প্রতিরোধে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর পরামর্শ দিয়ে অধ্যাপক নাসিমা বলেন, তরল খাবার, কুসুম গরম পানি ও আদা চা পান করবেন। সম্ভব হলে মৌসুমী ফল খাবেন ও ফুসফুসের ব্যায়াম করবেন। এ সময় ধূমপান ত্যাগ করার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, এটি ফুসফুসের কার্যকারীতা নষ্ট করে দেয়।

চীনের উহান থেকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া প্রাণঘাতী ভাইরাস করোনা বাংলাদেশে প্রথম শনাক্ত হয় গত ৮ মার্চ। সেদিন তিনজনের শরীরে করোনা শনাক্তের কথা জানিয়েছিল আইইডিসিআর।

এর ১০ দিন পর ১৮ মার্চ করোনায় প্রথম মৃত্যুর খবর আসে। দিন দিন করোনা রোগী শনাক্ত ও মৃতের সংখ্যা বাড়ায় নড়েচড়ে বসে সরকার।

ভাইরাসটি যেন ছড়িয়ে পড়তে না পারে সেজন্য ২৬ মার্চ থেকে বন্ধ ঘোষণা করা হয় সব সরকারি-বেসরকারি অফিস। কয়েক দফা বাড়ানো হয় সেই ছুটি, যা এখনও অব্যাহত আছে। ৭ম দফায় বাড়ানো ছুটি চলবে ৩০ মে পর্যন্ত।

করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের সংখ্যা ও প্রাণহানির পরিসংখ্যান রাখা ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটার তথ্যানুযায়ী মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত করোনায় বিশ্বব্যাপী নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে তিন লাখ ২০ হাজার ১৩৪ জনে এবং আক্রান্তের সংখ্যা ৪৮ লাখ ৯১ হাজার ৩২৬ জন। অপরদিকে ১৯ লাখ ৭ হাজার ৪১৩ জন চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

Share Now
March 2026
M T W T F S S
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031