জুলেখা বেগম নামে এক প্রসূতির বাচ্চার মাথা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করার পর প্রসূতির জরায়ু কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে কুমিল্লায় । কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটেছে।

জুলেখা বেগম নামে এক প্রসূতি এক সপ্তাহ ধরে তার সন্তান ও শরীরের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হারিয়ে এখন দুঃসহ যন্ত্রণা নিয়ে হাসপাতালের শয্যায় কাতরাচ্ছেন। শনিবার এ খবর জানাজানি হয়।

তবে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের দাবি, ওই প্রসূতির জীবন রক্ষার্থেই অপারেশন করে নবজাতকের মাথা বিচ্ছিন্ন করে বের করা হয়েছে এবং জরায়ূ কেটে ফেলা হয়েছে।

সূত্র জানায়, জেলার মুরাদনগর উপজেলার যাত্রাপুর গ্রামের সফিক কাজীর স্ত্রী জুলেখা বেগম প্রসব ব্যথা নিয়ে গত ১৭ মার্চ রাতে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। পরদিন রবিবার দুপুরে অপারেশন থিয়েটারে হাসপাতালের গাইনি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. করুনা রানী কর্মকারের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের চিকিৎসক দল ওই অপারেশন করেন। এসময় ডা. নাসরিন আক্তার পপি, ডা. জানিবুল হক, ডা. দিলরুবা শারমিন ও ডা. আয়েশা আফরোজসহ অন্যান্যরা অংশগ্রহণ করেন।

প্রসূতির স্বামী সফিক কাজী জানান, প্রসব ব্যথায় ছটফট করলেও চিকিৎসকরা তার স্ত্রীকে সিজারের কোন উদ্যোগ নেননি। পরদিন ১৮ মার্চ দুপুরে জুলেখার সিজার করা হয়। এ সময় তার নবজাতক ছেলের মাথা বিচ্ছিন্ন এবং তার স্ত্রীর জরায়ূ কেটে ফেলা হয়েছে বলেও তিনি জানান।

তিনি আরও জানান, ওইদিন হাসপাতালের একজন দারোয়ান এসে তার কাছে মৃত নবজাতককে মাটি চাপা দেয়ার জন্য ৫শ টাকা চায়। পরে তিনি ৩শ টাকা দিলে ওই দারোয়ান হাসপাতালের বারান্দা দিয়ে নবজাতকের মরদেহ মাটিচাপা দেয়ার জন্য নিয়ে যাওয়ার সময় দেখতে পান তার সন্তানের মাথা কেটে দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয়েছে। এসময় তিনি মোবাইলে নবজাতকের ছবি তুলে রাখেন। এরপর দারোয়ান হাসপাতালের অদূরে নিয়ে নবজাতককে মাটিচাপা দেয়।

এদিকে শনিবার হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, গাইনি ও প্রসূতি বিভাগের অতিরিক্ত ১নং বেডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন প্রসূতি জুলেখা বেগম। তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, চিকিৎসকরা আমার জীবনটা শেষ করে দিয়েছে। হাসপাতালে আসার পরও আমার পেটে সন্তান নড়াচড়া করছিল। আমি সিজারের কথা বললেও তারা (ডাক্তার) রাতে সিজার করেনি। আমার জরায়ূপথে পেটের ভেতর হাত দিয়ে টানাটানি করে আমার সন্তান নষ্ট করে ফেলেছে।

অপারেশনে অংশ নেয়া হাসপাতালের ডা. নাসরিন আক্তার পপি, ডা. আয়েশা আফরোজ, ডা. জানিবুল হক, ডা. দিলরুবা শারমিন জানান, প্রসূতির গর্ভের সন্তান মৃত ও অস্বাভাবিক পজিশনে ছিল। কিন্তু শিশুটির হাত-পা জরায়ূ মুখ দিয়ে বের হয়ে চলে আসায় বাধ্য হয়ে অপারেশনের মাধ্যমে মৃত শিশুর দেহ ও মাথা বিচ্ছিন্ন করে আলাদাভাবে বের করা হয়েছে। এসময় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে রোগীর জীবন ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় আমরা জরায়ূটি কেটে ফেলি। অপারেশনের আগে এসব বিষয়ে প্রসূতির স্বামীর অনুমতি নেয়া হয়েছে। এতে ডাক্তারদের কোন অবহেলা ছিল না বলে তারা দাবি করেন।

হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. মতিউর রহমান সংশ্লিষ্ট চারজন চিকিৎসককে তার কার্যালয়ে ডেকে আনেন। পরে তিনি সাংবাদিকদের জানান, প্রসূতির জীবন রক্ষার্থে অপারেশন করে গর্ভের সন্তান দুই খণ্ডে বের করে আনেন। এক্ষেত্রে তাদের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ সঠিক কি- না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Share Now
March 2026
M T W T F S S
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031