রাতের খাবার খাচ্ছিলাম সন্তানদের নিয়ে । অকস্মাৎ বাতাসে ‘নাচতে’ শুরু করে আমাদের বাসাটি। প্রথমে কিছু বুঝতে পারি নি। মনে করেছিলাম কোথাও প্রকা- বোমা হামলা হয়েছে। তার জন্যই এমনটা হচ্ছে। কিন্তু মুহূর্তেই আমার ভ্রম কেটে যায়।
শুনতে পাই সবাই আর্ত চিৎকার করছে। বলছেÑ ভূমিকম্প!! রোববার রাতের ভূমিকম্পের কথা এভাবেই বর্ণনা করছিলেন ইরাকের রাজধানী সালিহিয়া জেলার তিন সন্তানের মা মাজিদা আমির। ভূমিকম্পের সময় এক অবর্ণনীয় অবস্থার সৃষ্টি হয় চারদিকে। এতে ইরাকে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কুর্দি অঞ্চলের আধা-শায়ত্তশাসিত সুলাইমানিয়া এলাকার দারবান্ধিখান শহর। কুর্দি স্বাস্থ্যমন্ত্রী রিকায়ট হামা রশিদের মতে, সেখানে আহত হয়েছেন কমপক্ষে ৩০ জন। তার ভাষায়, সেখানকার পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ। জেলা শহরের সবচেয়ে বড় হাসপাতালটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানে নেই কোনো বিদ্যুত। এ জন্য আহতদের নিয়ে যাওয়া হয়েছে সুলাইমানিয়ায়। এ ছাড়া ওই অঞ্চলে বাড়িঘর, অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ভয়াবহভাবে। হালাবজা এলাকার একজন সরকারি কর্মকর্তা বলেছেন, বিদ্যুতের তার ছিড়ে পড়ে তা থেকে শক খেয়ে মারা গেছে ১২ বছর বয়সী একটি শিশু। ভূমিকম্পের সময় রাজধানী বাগদাদের অসংখ্য মানুষ ঘরের বাইরে বেরিয়ে পড়েন। দালান বা পাকা ভবন থেকে লোকজনকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়েছে ইরাকের আবহাওয়া বিষয়ক প্রতিষ্ঠান। একই সঙ্গে অনুরোধ করেছে এলিভেটর ব্যবহার না করতে। ওদিকে ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে তুরস্কের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে। সেখানকার দিয়ারবাকির শহর প্রচ- জোরে কেঁপে ওঠে। ওই শহরে কি পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায় নি। তুরস্কে রেড ক্রিসেন্টের চেয়ারম্যান কারিম কিনিক জাতীয় টেলিভিশন এনটিভি’কে বলেছেন, তার টিম ইরবিল যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিয়েছে। এ ছাড়া প্রস্তুতি নিচ্ছিল তুরস্কের জাতীয় দুর্যোগ বিষয়ক এজেন্সি আফাদ, জাতীয় মেডিকেল রেসক্যু টিম। ইরাকে সহায়তা দিতে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল তারা। এক টুইচে কারিম কিনিক বলেছেন, এরই মধ্যে ৩০০০ তাঁবু ও হিটার, ১০ হাজার বেড, কম্বল সংগ্রহ করেছে তারা। এসব নিয়ে ইরাক সীমান্তের দিকে অগ্রসর হচ্ছে তাদের টিম। তিনি বলেন, আমরা ইরান ও ইরাকি রেড ক্রিসেন্ট গ্রুপগুলোর সঙ্গে সহযোগিতার ভিত্তিতে কাজ করবো।
