দেখা যাচ্ছে আশার আলো। কাটতে শুরু করেছে আতংকের কালোমেঘ।পুরনো চেহারা ফিরে পাবার অপেক্ষায় এখন দুনিয়ার রাজধানী। মৃত্যুপুরীর ভয়াল পরিবেশ থেকে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার প্রহর গুনছেন নিউ ইয়র্কের মানুষ। এরইমধ্যে নিউ ইয়র্ক স্টেটের গভর্ণর অ্যান্ড্রু কুওমো ঘোষণা দিয়েছেন, মে মাসের ১৫ তারিখ থেকে সীমিত আকারে উঠিয়ে নেওয়া হবে জনজীবনের নিয়ন্ত্রণ। ধীরে ধীরে চালু করা হবে অর্থনৈতিক কর্মকান্ড। তবে একইসঙ্গে ব্যাপকভাবে চালানো হবে রাজ্যের বাসিন্দাদের করোনা পরীক্ষা এবং এন্টিবডি টেস্টের কাজও।
করোনা ভাইরাসের সংক্রমণজনিত মহামারির কারণে নিউ ইয়র্কের জনজীবনের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয় গত ৯ মার্চ থেকে।
‘স্টে ইন হোম’ বা ‘ঘরে থাকুন’ নামের আদেশের আওতায় কেবলমাত্র
অতিজরুরী ছাড়া বাকি সকল কর্মকান্ড বন্ধ হয়ে যায়। এরপর অস্বাভাবিক দ্রুত
গতিতে এক ভয়াল আতংকের জনপদে পরিণত হয় নিউ ইয়র্ক। লাফিয়ে বাড়তে থাকে
আক্রান্ত মানুষ এবং মৃতের সংখ্যা। এক সময় দুনিয়ায় করোনা ভাইরাসের অন্যতম
কেন্দ্রস্থলে পরিণত হয় এই নগরী। সোমবার পর্যন্ত কেবলমাত্র নিউ ইয়র্ক
স্টেটেই মারা গেছেন ২২ হাজার ৬২৩ জন এবং এ সময় পর্যন্ত এখানে আক্রান্ত
হয়েছেন ২ লাখ ৯৮ হাজার মানুষ। তবে এপ্রিলের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে ধীরে ধীরে
কমতে শুরু করে সংক্রমণ ও মৃত্যুহারের গতি। আর গত সপ্তাহখানেক ধরে নতুন
সংক্রমণ, হাসাপাতালে ভর্তি, ইনটিউবেশন (ভেন্টিলেশন) এবং মৃত্যুহার কমেছে
তাৎপর্যপূর্ণভাবে। সোমবার ২৪ ঘন্টায় এখানে মৃত্যু হয়েছে ৩৪৮ জনের। অথচ
শনিবারও এই সংখ্যা ছিল সাড়ে ৬শ’। সোমবার নিউ ইয়র্কে প্রায় ২১ হাজার মানুষের
করোনা পরীক্ষায় পজিটিভ হয়েছেন চার হাজারেরও কম। অথচ এই এপ্রিলের গোড়ার
দিকেও প্রতিদিন যত মানুষের পরীক্ষা হতো তারমধ্যে প্রায় অর্ধেকের রেজাল্ট
হতো পজিটিভি। গত ২৪ এপ্রিল শুক্রবার নিউ ইয়র্কে একদিনে সর্বোচ্চ ৪৭ হাজার
মানুষের করোনা পরীক্ষায় পজিটিভ রেজাল্ট হয় সাড়ে ১০ হাজার মানুষের। গত দেড়
মাসে এই স্টেটে সবমিলিয়ে প্রায় সাড়ে ৮ লাখ মানুষের করোনা টেস্টে পজিটিভ
হয়েছেন ২লাখ ৯২ হাজার মানুষ। এরমধ্যে পুরুষ ৫২ শতাংশেরও বেশি এবং মহিলা
প্রায় ৪৮ শতাশ।
নিউ ইয়র্ক সিটিতে করোনায় সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে
হিস্প্যানিক বা দক্ষিণ আমেরিকার বিভিন্ন দেশের অভিবাসীদের। সর্বশেষ সরকারি
হিসাবে মৃতদের মধ্যে ৩৪ শতাংশ হিস্প্যানিক। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৮ শতাংশ
মারা গেছে কৃষ্ণাঙ্গ বা আফ্রিকান-আমেরিকানরা। মৃত্যুহারের দিক থেকে তৃতীয়
স্থানে রয়েছে শেতাঙ্গরা। তাদের মৃত্যুহার ২৭ শতাংশ। এখানে মৃত্যুহার সবচেয়ে
কম, মাত্র ৭ শতাংশ ছিল এশীয়দের। তবে সামগ্রিকভাবে এশীয়দের মৃত্যুহার কম
হলেও এই মহামারিতে নিউ ইয়র্কে প্রায় ২শ’ বাংলাদেশী প্রাণ হারিয়েছেন করোনা
বাইরাসের থাবায়। নিউ ইয়র্কের পাশ্ববর্তী নিউজার্সি এবং কিছুটা দূরের
ভার্জিনিয়া, মেরিল্যান্ড ও মিশিগান স্টেটেও মারা গেছেন বেশ ক’জন বাংলাদেশী।
করোনায় সংক্রমিত হয়ে এখনও বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশী হাসপাতালে কিংবা
বাসাবাড়িতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তবে এরইমধ্যে সুস্থ হয়ে উঠেছেন অনেকেই।
