সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ঈদে ঘরমুখো মানুষের নির্বিঘ্নে ঈদ যাত্রার নিশ্চয়তা দিতে পারছেন না । এর জন্য বৈরী আবহাওয়াকে দায়ী করেছেন তিনি। মন্ত্রী বলেন, ‘টানা ভারী বর্ষণের মধ্যেও রাস্তাঘাট, মহাসড়কগুলো সচল আছে এবং এগুলো স্মুথলি চলছে। কিন্তু জেলা সড়কগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে টানা বর্ষণে। যে কারণে এবারকার যাত্রা খুব ভালো হবে, খুব স্বস্তিদায়ক হবে, এটা আমি দাবি করতে পারব না।’

সোমবার দুপুরে রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউতে বিআরটিএ এর মোবাইল কোর্ট কার্যক্রমে পরিদর্শনে গিয়ে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘তবে ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক করার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করা হচ্ছে। বৃষ্টি যদি কন্টিনিউ করে, তাহলে খুব কঠিন হবে এ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করা। তারপরও এ চ্যালেঞ্জ যতটা সম্ভব সহনীয় করার জন্য এবং ঘরমুখো যাত্রীদের ভোগান্তি কমানোর জন্য আমাদের চেষ্টা থাকবে।’

প্রতি বছর ঈদের আগে ঘরমুখো যাত্রীর চাপ বেড়ে গেলে তীব্র যানজট বাঁধে। দীর্ঘ সময় সড়কে আটকে থেকে ভোগান্তিতে পড়ে মানুষ। এর জন্য যাত্রী চাপ বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি ভাঙা সড়ক এবং সড়ক ব্যবস্থাপনায় ত্রুটিও একটি কারণ।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক চার লেন হয়ে যাওয়ায় সে পথে ভোগান্তি কিছুটা কমলেও ঢাকা ছাড়ার চারটি পয়েন্টে অবৈধ দখল, বিশৃঙ্খল যান চলাচলের কারণে ভোগে লাখো মানুষ। আবার ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক চার লেন হয়ে গেলেও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে এই কাজ চলমান থাকায় তীব্র যানজটে ভোগে মানুষ। এবার টানা বৃষ্টির কারণে এই মহাসড়কে খানা খন্দক বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি নির্মাণ সামগ্রীর কারণে সড়ক সরু হয়ে গেছে। ফলে ঈদ যাত্রায় ব্যাপক ভোগান্তির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ঈদ যাত্রা শুরুর আগেই ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যানজট প্রায়ই তীব্র আকার ধারণ করছে। কখনও তা ১৫ থেকে ২০ কিলোমিটার ছাড়িয়ে যায়। আবার আবদুল্লাহপুর মোড় থেকে জয়দেবপুর চৌরাস্তা পর্যন্ত সড়ক পারি দিতেও স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি সময় লেগে যাচ্ছে। এই সড়ক উন্নীতকরণে সরকারের উদ্যোগগুলো কাজে আসছে না সেভাবে।

মন্ত্রী বলেন, ‘ঘুরমুখো মানুষের ঈদযাত্রার বিড়াম্বনা দূর করতে সড়ক পরিবহন বিভাগের সংশ্লিষ্টদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। শুধু ঈদের দিন সকাল থেকে দুপুর দুটা পর্যন্ত ছুটি দিয়ে, ঈদের তিন দিন পর পর্যন্ত সবার ছুটি বাতিল করেছি আমি।’

‘ইঞ্জিনিয়ারদের সমাবেশেই আমি ইফতার মাহফিলে আমরা অনেকেই ছিলাম, আমি সেখানে সবাইকে অনুরোধ করেছি তারাও বিষয়টাকে গ্রহণ করেছে।’

Share Now
February 2026
M T W T F S S
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
232425262728