গত ২৯শে মে থেকে ৮ই জুন পর্যন্ত এই ১১ দিন রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় এসব হতাহতের ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)। এবছর ঈদ-উল-ফিতরের ছুটিতে সারা দেশে ১২৭ টি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১৮৪ জন। আর আহত হয়েছেন ৩৩২ জন।
তবে ২০১৮ সালের ঈদুল ফিতরের দুর্ঘটনার সংখ্যা তুলনায় কম। নিসচার এক পর্যবেক্ষণে এ তথ্য উঠে এসেছে। বিভিন্ন পত্রিকা, পত্রিকার অনলাইন সংস্করণ, স্বতন্ত্র অনলাইন নিউজ পোর্টাল, সংবাদ সংস্থা ও টেলিভিশন চ্যানেলের তথ্য-উপাত্তের উপর ভিত্তি করে নিসচার এ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে বলে জানানো হয়।
নিসচা তাদের পর্যবেক্ষণে বলেছে, এবার সড়কপথে ঈদযাত্রা ছিল তুলনামূলক স্বস্তিদায়ক। নৌপথে দুই একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়াও ঈদযাত্রা ছিল অনেকটা এমনি। ঈদের আগের দিন সদরঘাট টার্মিনালে অতিরিক্ত যাত্রীর চাপ সামলাতে পারেননি কর্তৃপক্ষ। এতে করে একটি পরিবারের কয়েকজন সদস্যের পানিতে পড়া ও অনেকে টিকিট থাকা সত্ত্বেও লঞ্চে উঠতে পারেননি। এসব বিষয়ে আগামীতে নজর দিলে নিসচা মনে করে নৌপথও আরো যাত্রীবান্ধব হয়ে উঠবে।
পাশাপাশি অনলাইনে ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রিতে প্রযুক্তিগত সমস্যা ও সিডিউল বিপর্যয়ের কারণে রেলের যাত্রীদের কিছুটা বিড়ম্বনা পোহাতে হয়েছে।
নিসচা আরো জানায়, সড়ক দুর্ঘটনার দিক দিয়ে এবারের ঈদে মোটরসাইকেলের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। নিসচার পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে সড়কে মোটর সাইকেল বিধ্বংসী বাহন হয়ে উঠেছে চালকের খেয়ালীপনাসহ নানা কারণে। এই ঈদে গণমাধ্যমের সংবাদে সেই চিত্রটিই উঠে এসেছে। সড়কে যখনশৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার সমন্বিত উদ্যোগ চলছে তখন মোটর সাইকেলের দৌরাত্ম ও এর চালকদের বেপরোয়া হয়ে উঠায় ভাবতে হবে সকল মহলকে। বিশেষ করে অভিভাবকদের মোটর সাইকেল সন্তানের হাতে তুলে দেয়ার আগে এর ভয়াবহতা সম্পর্কে ভাবতে হবে, সেই সাথে সংশ্লিষ্ট মহলেরও ভাবতে হবে। কারণ এবার ৪৫টি মোটর সাইকেল দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা ৩৮জন (চালক ও আরোহী)। ঈদযাত্রায় যাত্রীদের কাছ থেকে সবদরণের যানবাহনে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের প্রবণতাও নিসচার পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট মহলের এসব অনিয়ম বন্ধে তৎপরতাও চোখে পড়েছে।
নিসচা চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন
বলেন, সড়কে মোটর সাইকেলের দৌরাত্ম্য ও স্বেচ্ছাচারিতা বন্ধে মোটর সাইকেল
চালকদের দুই মাসের ওরিয়েন্টেশন কোর্স চালু ও অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক করার
প্রস্তাব করেছেন। তিনি মোটর সাইকেল কিনতে গেলে এই কোর্সের সাটর্টিফিকেট
প্রদর্শন বাধ্যতামূলক করা এবং নিয়মিত মনিটরিং করার উপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
