আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের আওয়ামী লীগে কর্মী কমে যাচ্ছে, নেতা বেড়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন। রোববার দুপুরে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। নেতা-কর্মিদের উদ্দেশ্যে ওবায়দুল কাদের বলেন, কমিটি করতে গিয়ে কেউ পকেট কমিটি করবেন না। নিজস্ব বলয়, নিজস্ব সিন্ডিকেট তৈরি করা যাবে না। সুবিধাবাদীরা সুসময়ে আছে, দু:সময়ে থাকে না। ত্যাগী নেতাদের দিয়ে দলকে ঢেলে সাজাতে হবে। গ্রহণযোগ্য নেতাদের দিয়ে আওয়ামী লীগ পরিচালিত হবে। ভোগের লিপ্সা ও ক্ষমতার দম্ভ ত্যাগ করতে হবে। আওয়ামী লীগকে শক্তিশালী করতে হবে।
ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়। মানুষের কাছে আরো বেশি গ্রহণযোগ্য হতে হবে। এসময় বিএনপির সমালোচনা করে তিনি বলেন, বিএনপি আন্দোলনে ব্যর্থ, ভোটের রাজনীতিতে ব্যর্থ। এখন তারা চক্রান্তে ব্যস্ত। বাংলাদেশের জনগণ বিএনপিকে ক্ষমতায় দেখতে চায় না। সম্মেলনের উদ্বোধনী পর্বে আগামী তিন বছরের জন্য রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি পদে এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ডাবলু সরকারের নাম পুনঃঘোষণা করেন আওয়ামী লীগের এই সাধারণ সম্পাদক। এর আগে বেলা সাড়ে ১১টায় বেলুন-ফেস্টুন, দলীয় ও জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মোহাম্মদ নাসিম। সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান, যুগ্ম-সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম কামাল হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক ও জাতীয় সংসদের হুইপ আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, দলের উপদেষ্টা ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুল খালেক, অধ্যাপক সাইদুর রহমান খান প্রমুখ। রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের সভাপতিত্বে সম্মেলন পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার। সম্মেলনে রাজশাহী মহানগরীর সাংগঠনিক ৩৭টি ওয়ার্ডের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালের ২৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিত ত্রি-বার্ষিক কাউন্সিলে সভাপতি পদে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন খায়রুজ্জামান লিটন। আর সাধারণ সম্পাদক পদে ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হন ডাবলু সরকার। বিগত সাড়ে ৫ বছর ধরে লিটন-ডাবলু রাজশাহী নগর আওয়ামী লীগকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
