ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা শেষে ৭০ দিন পর দেশে ফিরে নতুন উদ্যমে দলের কাজ করার প্রত্যয় জানিয়েছেন ।

বুধবার সন্ধ্যায় দেশে ফিরে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভিভিআইপি টার্মিনালে সাংবাদিকদের তিনি একথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘দুই মাস ১১ দিন আগে আমার জীবন ছিল চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে। বাঁচব কি-না এ নিয়ে সংশয় ছিল। সেই জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে পরম করুণাময় আল্লাহ তায়ালার ইচ্ছায় এবং আমাদের প্রিয় নেত্রী- যিনি চরম সংকটে মা তার সন্তানের জন্য যা করেন তিনি আমার জন্য তা-ই করেছেন।’

‘তার (শেখ হাসিনা) কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশের ভাষা আমার জানা নেই। যিনি মমতাময়ী মা, সত্যিই তার কাছে আমার ঋণের বোঝা বেড়ে গেল।’

আওয়ামী লীগ সাধারন সম্পাদক বলেন, ‘শেখ রেহানা, তিনি কোরআন শরিফ পাঠ করে আমার জন্য দোয়া করেছেন। তার প্রতি আমার কৃতজ্ঞতা। যদিও সেই সময়ে আমার মধ্যে আমি ছিলাম না।’

‘শুনেছি, আপনজন এই সময় কাছে এসে ডাকলে মৃত্যুপথযাত্রী সাড়া দেয়। শেখ হাসিনা আমাকে নাম ধরে ডেকে ছিলেন, তখন আমি সাড়া দিয়েছিলাম- এটা পরে আমাকে বলেছে।’

কাদের বলেন, ‘সারা দেশের মানুষ, দলের এবং দলের বাইরের সবাই আমার জন্য দোয়া করেছেন- এমনকি প্রবাসী বাঙালিরা আমার পাশে ছিলেন। সবচেয়ে বড় পাওয়া হলো মানুষের ভালোবাসা। সবার কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি, আমি আপনাদের পাশে আছি। একজন রাজনীতিবিদের সবচেয়ে বড় অর্জন জনগণের ভালোবাসা পাওয়া, যা আমি পেয়েছি।’

আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ওবায়দুল কাদের। বলেন, ‘আসুন, আমরা নতুন উদ্যমে কাজ করে আমাদের নেত্রীর হাতকে আরও শক্তিশালী করি। আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি, আওয়ামী লীগের নেতাদের প্রতি যারা আমার অনুপস্থিতিতে টিমওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন হতে দেননি।’

তিনি বলেন, ‘আর পাঁচ মিনিট পরে যদি আমি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় আসতাম তাহলে অন্য ঘটনাও ঘটে যেতে পারত, আপনারা কী তা ভেবেছেন?’

এ সময় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসক, মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালের চিকিৎসক এবং ডা. দেবী শেঠীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।

গত ৩ মার্চ সকালে বুকে প্রচণ্ড ব্যথা নিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) ভর্তি হন ওবায়দুল কাদের। সেখানে এনজিওগ্রাম করার পর তার করোনারি ধমনিতে তিনটি ব্লক ধরা পড়ে। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ৪ মার্চ সিঙ্গাপুর নেয়া হয়।

সেখানে মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে ডা. ফিলিপ কোহ’র নেতৃত্বে ওবায়দুল কাদেরের চিকিৎসা চলে। ২০ মার্চ ওই হাসপাতালে তার বাইপাস সার্জারি হয়।শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলে গত ২৬ মার্চ ওবায়দুল কাদেরকে হাসপাতালের আইসিইউ থেকে কেবিনে নেয়া হয়। গত ৫ এপ্রিল হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়ে হাসপাতালের কাছেই একটি ভাড়া বাসায় উঠেন ওবায়দুল কাদের।

Share Now
February 2026
M T W T F S S
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
232425262728