দুর্নীতির অভিযোগ উড়িয়ে নিজস্ব অর্থে পদ্মা সেতু করে ফেলার মধ্য দিয়ে ‘সততার শক্তি’ প্রমাণিত হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন। বহু প্রতীক্ষিত পদ্মা সেতু উদ্বোধনের ক্ষণ গণনা শুরুর পর গতকাল বুধবার গণভবনে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সভায় এসব কথা বলেন।

শেখ হাসিনা এ সময় পদ্মা সেতু নির্মাণের শুরুতে একটি ভুয়া দুর্নীতির অভিযোগ তুলে এর অর্থায়ন বন্ধে বিশ্ব ব্যাংকের পদক্ষেপের পেছনে ঘরের শত্রু ‘বিভীষণকে’ দায়ী করেন। বিশ্ব ব্যাংককে দোষ দেব না, কারণ ঘরের শত্রু বিভীষণই হয়। আপনারা জানেন যে ড. ইউনূসই এই কাণ্ডটা ঘটিয়েছিলেন, গ্রামীণ ব্যাংকের এমডি পদটার জন্য। যে পদ তিনি বয়সের কারণে হারিয়েছিলেন। পরে তিনি সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরসহ সকলের বিরুদ্ধে দুটি মামলা করেও সেখানে পরাজিত হন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ব্যাংকের আইন অনুযায়ী তিনি সে ব্যাংকের এমডি থাকতে না পারাতেই প্রতিহিংসা পরায়ণ হয়ে ব্যক্তিগত সম্পর্কের সূত্র ধরে হিলারি ক্লিনটনের মাধ্যমে অর্থাৎ আমেরিকার সরকারকে দিয়ে সে বিশ্ব ব্যাংকের প্রেসিডেন্টকে বাধ্যকে করে পদ্মা সেতুর অর্থায়ন বন্ধ করে দিতে। খবর বাসস ও বিডিনিউজের। শেখ হাসিনা বলেন, আমি মনে করি, সততার একটা শক্তি থাকে। কাজেই সেই সততার শক্তি ছিল বলেই এই চ্যালেঞ্জ নিতে পেরেছিলাম। দেশের মানুষের অফুরন্ত সহযোগিতা পেয়েছি আমি। আর যার ফলে আজকে পদ্মা সেতু আমরা করতে পেরেছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করেই তাঁর সরকার দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। তাঁর সরকার তৃণমূল পর্যায় থেকে মানুষের উন্নয়ন করেছে বলেই দেশের সার্বিক উন্নয়নটা করা সম্ভবপর হয়েছে এবং দারিদ্র্যের হার ৪০ শতাংশ থেকে ২০ শতাংশে নামিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে, বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন করোনার ছোবল সত্ত্ব্বেও এবারের সেন্সাস রিপোর্টে দেশের দারিদ্র্যের হার আরো কমে আসবে। তাঁর সরকার যে প্রবৃদ্ধির হার ৮ শতাংশের ওপরে তুলেছিল তা করোনাকালীন ৩ দশমিক ৫ এ নেমে গেলেও (৩ মাসের জন্য) এখন আবার প্রায় ৭ এ তুলে আনতে সক্ষম হয়েছেন। ২০২৬ সাল নাগাদ বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে তাঁর কার্যক্রম শুরু করতে সক্ষম হবে বলেও তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, এজন্য যে চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করতে হবে সে বিষয়ে প্রস্তুতি এবং পদক্ষেপও তাঁর সরকার নিচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে এখন রেমিট্যান্স যেমন ভালো আসছে তেমনি রপ্তানি বৃদ্ধি পেয়েছে এবং জনশক্তি রপ্তানিও বেড়েছে এবং আগামীতে যে ৪র্থ শিল্প বিপ্লব আসার সম্ভাবনা সেখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার মত দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার কাজও সরকার হাতে নিয়েছে। আগামী ডিসেম্বর নাগাদ জাতীয় সম্মেলনও আয়োজন সম্ভব বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি বৈঠকে উপদেষ্টাদের দলের ‘থিংক ট্যাংক’ আখ্যায়িত করে দলের তৃণমূল থেকে সংগঠনকে শক্তিশালী করে তোলার জন্য সম্মেলন করার বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণের কথাও জানান।

Share Now
March 2026
M T W T F S S
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031