মলম পার্টি কিংবা অজ্ঞান পার্টি, গামছা পার্টি বা মরিচের গুঁড়া পার্টি, যা–ই বলা হোক না কেন কাজ তাদের একটাই; ছিনতাই। তবে সিএনজি অটোরিক্সা নিয়ে আগে অপরাধ করে বেড়ালেও এখন তারা বিকল্প যান হিসেবে ব্যবহার করছে প্রাইভেটকার ও মোটরসাইকেল। আঁধার ঘনিয়ে আসতেই ঘুরতে বের হয় ৫/৬ জন। সুবিধেমতো স্থানে টার্গেট করা ব্যক্তিকে জোরপূর্বক প্রাইভেট কারে তুলে নেয়। চোখে মরিচের গুঁড়া কিংবা মলম লাগিয়ে সর্বস্ব কেড়ে নেয়। গতকাল বিকেলে নগরীর চান্দগাঁও থানার বানিয়াপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে অস্ত্র, গুলি, মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকারসহ এ চক্রের ৫ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব–৭ এর একটি দল। বিষয়টি নিশ্চিত করে র‌্যাব–৭ এর সিনিয়র সহকারি পরিচালক মিমতানুর রহমান বলেন, গোপন সংবাদের মাধ্যমে র‌্যাব ৭ জানতে পারে যে, ছিনতাইকারী গ্রুপের কিছু সদস্য চট্টগ্রাম নগরীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউ টু অক্সিজেন সড়কের বানিয়া পাড়া এ্যাপোলো হাসপাতালের বিপরীতের রাস্তায় ১ টি প্রাইভেটকার ও ১ টি মোটরসাইকেল নিয়ে অবস্থান করছে। এ তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে লেঃ কমান্ডার আশেকুর রহমানের নেতৃত্বে র‌্যাবের একটি আভিযানিক দল অভিযান চালায়। এ সময় পালানোর চেষ্টাকালে পাঁচ ছিনতাইকারী ধরা পড়ে। তারা হলো, মোঃ মোর্শেদ আলম (২৮), মোঃ জাবেদ (২৮), শামীম হোসেন (২৯), মোঃ জাহেদুল আলম (৩৪) ও মোঃ মামুন (২২) । আসামীদের দেহ তল্লাশি করে ১ টি বিদেশী পিস্তল, ২ টি ওয়ান শুটারগান, ৭ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয় এবং প্রাইভেটকারটি তল্লাশি করে ছিনতাই কাজের জন্য ব্যবহৃত বিপুল পরিমাণ মরিচের গুড়া পাওয়া যায়। গ্রেপ্তারকৃত ছিনতাইকারীরা নগরীর বিভিন্ন এলাকায় চুরি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধ করে আসছে। এদিকে আটক ছিনতাইকারী জাবেদ নজুমিয়াহাট ও শিকার ইউনিয়নের ত্রাস হিসেবে মানুষের কাছে পরিচিত। তাকে ভাগিনা জাবেদ হিসেবেই মানুষ ডাকে। কারন জাবেদ তার নানা বাড়ি কুয়াইশ অনন্যা আবাসিক এলাকায়ই থাকে। স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতার হয়ে কাজ করার অভিযোগ করে এলাকার লোকজন জানান, র‌্যাব কর্তৃক জাবেদের গ্রেপ্তারে এলাকার মানুষ উৎফুল্ল। এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে তার গ্রেপ্তারের খবরে। জানা গেছে, জাবেদের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে।

Share Now
March 2026
M T W T F S S
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031