ডুবে গেছে সড়ক বাসা-বাড়ির নিচতলা, দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। ফলে দুর্ভোগ বেড়েছে নাগরিক জীবনের। মাত্র তিনঘন্টার মাঝারী বর্ষণে চট্টগ্রাম মহানগরের নিচু এলাকায় থই-থই করছে বৃষ্টির পানি।

আজ শুক্রবার ভোরের আলো ফোটার আগে ৬টা নাগাদ শুরু হয় বজ্রসহ বৃষ্টি। সকাল ৯টা পর্যন্ত টানা বৃষ্টি ঝরে। এরপর বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা কমলেও এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত থেমে থেমে ঝরছে বৃষ্টি। কালবৈশাখীর প্রভাবে এ বৃষ্টি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস।

পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ শেখ ফরিদ আহমেদ জানান, ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস ছিল। কিন্তু নদীবন্দরে কোন সংকেত ছিল না। কালবৈশাখীর প্রভাবে চট্টগ্রামজুড়ে এ বৃষ্টিপাত হচ্ছে। ভোর থেকে এ পর্যন্ত ৩৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আর এ বৃষ্টিপাতে নগরীর এক-তৃতীয়াংশ এলাকা ডুবে গেছে।

চট্টগ্রাম নগরীর চান্দগাঁও আবাসিক এলাকার বাসিন্দা নজরুল ইসলাম জানান, নগরীর মুরাদপুর থেকে চান্দগাঁও আবাসিক এলাকার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত খাল বিভিন্ন ময়লা-আবর্জনায় ভরাট হওয়ায় পানি নামতে পারছে না। তাই খালের আশপাশের সব নিচু এলাকায় পানি জমে থই-থই করছে। সড়ক বাসা-বাড়ির নিচতলা, দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ডুবে নানা দুর্ভোগে পড়েছে মানুষ।

একই অবস্থা হয়েছে ষোলশহর দুই নম্বর গেইট এলাকার। এ এলাকার চশমা খালের সংস্কার না হওয়ায় পানি জমে জলজট সৃষ্টি হয়েছে বলে জানান স্থানীয় লোকজন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বৃষ্টিতে নগরীর কাপাসগোলা, বাদুঁরতলা, রাহাত্তারপুল, কালামিয়া বাজার, মোহরা, হালিশহর, পতেঙ্গা, বন্দর, আগ্রাবাদ, চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ, চকবাজার, নাসিরাবাদসহ সবকটি এলাকায় পানি থই-থই করছে এখন। বৃষ্টির সাথে ক্রমেই বাড়ছে পানির উচ্চতা।

বিশেষ করে নগরীর প্রধান সড়কের মধ্যে কালুরঘাট পতেঙ্গা সড়কের বাসসিগনেল, বহদ্দারহাট, মুরাদপুর, আগ্রাবাদ এলাকায় ডুবে যাওয়ায় যানবাহন চলাচল করতে পারছে না। একইভাবে বাঁদুরতলা, কাপাসগোলা সড়ক, বহদ্দারহাট-শাহ আমানত সড়কসহ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সড়ক ডুবে গিয়ে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।

সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়ায় সড়কে কর্মজীবি শ্রমিক তেমন দেখা না গেলেও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে যাওয়া আসায় দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।

এছাড়া নগরীর চকবাজার কাঁচাবাজারের ব্যবসায়ী আরিফ জানান, বৃষ্টিতে বাজারের অলি-গলি ডুবে গেছে। দোকানপাটে পানি ঢুকে বিভিন্ন পণ্য ভিজে নষ্ট হয়েছে। বহদ্দারহাট হক মার্কেটের ব্যবসায়ী আজিম উদ্দিন জানান, মার্কটের নিচতলার সবকটি দোকানে পানি থই-থই করছে। এ মার্কেটের নিচে ১০-১২টি ওষুধের দোকানে পানিতে সয়লাব হয়ে গেছে।

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন বলেন, এমন বৃষ্টিতে দু বছর আগেও নগরীর দুই তৃতীয়াংশ খোঁজে পাওয়া যেত না। পানিতে তলিয়ে যেত। গত দেড় বছরের প্রচেষ্টায় তা কমে এক তৃতীয়াংশে নেমেছে। যেসব এলাকা এখন ডুবেছে সেখানেও জলবদ্ধতা নিরসনে কাজ চলমান রয়েছে। আশা করি খুব কম সময়ে ওসব এলাকার জলবদ্ধতা নিরসনও আমরা করতে পারব।

সিটি করপোরেশন সূত্র জানায়, জলবদ্ধতা প্রবণ এলাকা চিহ্নিত করে সবচেয়ে ঝুকিপূর্ণ এলাকায় নালা-খাল সংস্কার, সড়ক উচুকরণসহ প্রয়োজনীয় কাজ করা হয়েছে। এসব এলাকা এখন ডুবেনি। আশা করি সামনের বছর জলজট থেকে মুক্তি পাবে নগরবাসী।

Share Now
March 2026
M T W T F S S
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031