পোশাক কারখানা বন্ধের প্রতিবাদে শ্রমিকরা সড়ক অবেরাধ করে বিক্ষোভ-ভাঙচুর শুরুর পর গুলি ও টিয়ার শেল ছুড়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করেছে পুলিশ। আজ মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত অন্তত চারটি কারখানায় ঢিল ছুড়ে ভাঙচুর চালান বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা টঙ্গী বিসিক এলাকায় গাজীপুরের ।
পুলিশ ও শ্রমিকরা জানায়, টঙ্গী বিসিক এলাকায় টিভোলী অ্যাপারেলস লিমিটেডের শ্রমিকরা সকালে কাজে যোগ দিতে এসে প্রধান ফটকে তালা ও কারখানা বন্ধের নোটিশ দেখতে পান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তারা আন্দোলন শুরু করেন। এক পর্যায়ে বিসিকের সড়ক অবরোধ এবং আশপাশের কারখানার জানালার কাঁচ ভাঙচুর করেন তারা।
খবর পেয়ে গাজীপুর মেট্রোপলিটন ও শিল্প পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। কিন্তু তার শ্রমিকদের বুঝিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যর্থ হয়। উল্টো শ্রমিকরা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। পরে কয়েক রাউন্ড টিয়ারশেল ছোড়ে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ।
গাজীপুর মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার মোহাম্মদ ইলতুৎমিশ বলেন, বিক্ষোভের একপর্যায়ে টিভলি অ্যাপারেলস লিমিটেড কারখানার শ্রমিকরা পাশের চারটি কারখানায় ভাঙচুর করেন। তাদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ ৩০টি শটগানের গুলি, ১০টি সাউন্ড গ্রেনেড ও ছয়টি টিয়ারশেল নিক্ষেপ করেছে। এ ঘটনায় ১০ শ্রমিকসহ পুলিশের পাঁচ সদস্য আহত হয়েছেন।
জানা গেছে, গত ২৯ জানুয়ারি শ্রমিকদের অযৌক্তিক দাবি, কর্মবিরতি পালন, শিপমেন্ট দেরি ও কোম্পানি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় কারখানা মালিকপক্ষ ১ ফেব্রুয়ারি কারখানা বন্ধ ঘোষণা করে।
এর আগে গত ২৯ জানুয়ারি কারখানার পিএম লুৎফর রহমান এক নারী শ্রমিককে থাপ্পড় দেন বলে অভিযোগ উঠে। এ ঘটনায় কারখানার শ্রমিকরা পিএমের বিচার ও তার অপসারণের দাবিতে কর্মবিরতি পালন করেন।
এছাড়া শ্রমিকদের চাকরির তিন মাস হলে ঈদ বোনাস, হাজিরা বোনাস ৮০০ টাকা, রাত ১০টার পর কাজ করলে টিফিন বিলসহ বিভিন্ন দাবি জানিয়ে আসছিল।
এ বিষয়ে টিভলি অ্যাপারেলস লিমিটেডের মালিক মোশারফ হোসেন বলেন, শ্রমিকের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগের দিনই উৎপাদন ব্যবস্থাপককে অপসারণ করা হয়েছে। কিন্তু শ্রমিকরা আরও কিছু দাবি পেশ করে, যা শ্রম আইনের পরিপন্থী।
