এক ব্যক্তি হাসপাতালে এক আত্মীয়কে চিকিৎসা করাতে নিয়ে গিয়েছিলেন। চিকিৎসক রোগীর এক্স-রে করাতে দেন। এই সময় হাসপাতালে এক্স-রে করাতে আরো অনেক রোগী অপেক্ষা করছিলেন। ঐ ব্যক্তি অপেক্ষা করতে রাজি হলেন না। তার চাচা অনেক বড় রাজনীতিবিদ পরিচয় দিয়ে ভিআইপি সুবিধা চাইলেন। কিন্তু হাসপাতালের কর্মকর্তারা তা দিতে অস্বীকৃতি জানান। এরপরেই ঘটে লঙ্কাকাণ্ড! হাসপাতালের এক চিকিৎসক ও ল্যাব টেকনিশিয়ানকে বেধড়ক মারধর শুরু করে দেন তিনি। সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশকে ফোন করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। পুলিশ এসে অভিযুক্তকে থানায় নিয়ে যায়।
বুধবার এনডিটিভি জানায়, গত শনিবার সমাজবাদী পার্টির এক নেতার ভাতিজা থানার ভেতরে ঢুকে এক পুলিশ কর্মকর্তাকে চড় মেরেছেন। এইসময় থানার অন্যান্য পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করে গালিগালাজ ও হুমকি দেন তিনি।এই দৃশ্যের ক্যামেরাবন্দী করেছেন এক পুলিশ সদস্য।
‘আমার নাম মোহিত ইয়াদেব। আর এই লোকটি…এই বলেই পুলিশের উপ-পরিদর্শক জিতেন্দ্র কুমারকে একটি চড় মারেন। এই সময় অন্যান্য পুলিশ কর্মকর্তারা তাকে থামানোর চেষ্টা করলে অন্য আরেক পুলিশের শার্টের কলার ধরেন ঐ ব্যক্তি। এই ঘটনার পর কর্তব্যরত এক পুলিশকে লাঞ্ছিত ও কাজে বাধা দেয়ার অভিযোগে মামলা করা হয়।
মোহিত ইয়াদেব উত্তরপ্রদেশের আইন পরিষদের সদস্য ও সমাজবাদীর জ্যেষ্ঠ নেতা রমেষ ইয়াদেবের ভাতিজা মোহিত।
উত্তরপ্রদেশের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ ইয়াদেবের পাঁচ বছর ক্ষমতা থাকাকালে সমাজবাদী পার্টির অনেক নেতা ও তাদের আত্মীয়-স্বজনের বিরুদ্ধে এ রকম আচরণের অভিযোগ ছিল।
পুলিশ কর্মকর্তারা বলেছেন, আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে বিন্দুমাত্র ছাড় না দেয়ার জন্য বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের কঠোর নির্দেশ রয়েছে।
মোহিত ইয়াদেব কোনো কাজকর্ম করেন না। তার বাবার একটি বন্দুকের দোকান রয়েছে। শনিবার সকালে এক আত্মীয়কে হাসপাতালে যান মোহিত। সেখানে এক্স-রে করাতে ভিআইপি সুবিধা দাবি করেন তিনি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এই সুযোগ দিতে অস্বীকৃতি জানালে হাসপাতালের একজন ল্যাব টেকনিশিয়ান এবং একজন চিকিৎসকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন তিনি। এরপর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পুলিশদের ফোন করলে তাকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা সতীর্থ অনিরুধ পঙ্কজ জানান, মনে হচ্ছে মোহিত ইয়াদেব মাতাল অবস্থায় ছিলেন।
