পুলিশ রংপুরের হারাগাছ থানায় হামলা-ভাঙচুরের অভিযোগে অজ্ঞাত ২০০ জনের নামে মামলা করেছে । এ ছাড়া তাজুল ইসলামের কাছ থেকে হেরোইন উদ্ধারের অভিযোগে পুলিশের পক্ষ মাদক দ্রব্য আইনে একাধিক মামলাও হয়েছে। অন্যদিকে পুলিশি নির্যাতনে তাজুল ইসলামের মৃত্যুর অভিযোগ হত্যা মামলা হিসেবে না নিয়ে জিডি হিসেবে নেওয়ায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

তাজুল ইসলাম কাউনিয়া উপজেলার হারাগাছ পৌরসভার দালাল হাটখোলা সাবানটারী এলাকার মৃত সাখাওয়াত হোসেনের ছেলে। মাদকসেবনের অভিযোগে সোমবার সন্ধ্যায় দরদী উচ্চ বিদ্যালয়ের পেছন থেকে আটক করে তাকে হাতকড়া পরায় হারাগাছ থানাপুলিশ। স্থানীয়দের ভাষ্য, আটকের পর তাকে বেধড়ক পেটানো হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এর পর এলাকাবাসী হারাগাছ থানা ঘেরাও করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। ভাঙচুর করা হয় কয়েকটি গাড়ি। তাদের ছত্রভঙ্গ করতে রবার বুলেট ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে পুলিশ।রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার আলতাফ হোসেন বলেন, থানায় হামলা, ভাঙচুর, সরকারি কাজে বাধা ও নাশকতাসহ নানা অভিযোগে অজ্ঞাত ২০০ জনের নামে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা হয়েছে। অন্যদিকে তাজুল ইসলামের কাছ থেকে হেরোইন উদ্ধারের ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে দুটি মামলা করেছে। আর নিহতের ভাই অস্বাভাবিক মৃত্যুর অভিযোগে জিডি করেছেন।

তবে তাজুলের পরিবারের অভিযোগ, পুলিশের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করতে গেলেও তা নেওয়া হয়নি। মামলার পরিবর্তে তাদের অভিযোগ জিডি হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়।

পুলিশের মামলার পর হারাগাছবাসীর মধ্যে পুলিশি হয়রানি ও গ্রেপ্তার আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। বেশিরভাগ বাড়ির পুরুষ সদস্যরা আত্মগোপনে চলে গেছেন। পুলিশ নিরপরাধ ব্যক্তিদের ধরে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী। নুরুন্নাহার বেগম, সুমন মিয়া, শাওন ইসলাম, রাহাত আলী, জীবন হোসেন, রিয়াজ আহমেদসহ স্থানীয় অনেকেই জানান, তাজুল ইসলাম মাদকাসক্ত নন। মাদক কারবারেও জড়িত নন। তাকে অন্যায়ভাবে নির্যাতন করে পুলিশ হত্যা করেছে।

নতুন বাজার এলাকার বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমার সামনে পুলিশ তাজুলকে আটক করে নির্যাতন করেছে। পরে আমার সামনেই তার মৃত্যু হয়। অথচ পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, সে মাদকাসক্ত। এটি পুরোপুরি মিথ্যা।’

রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার (অপরাধ) আবু মারুফ হোসেন জানান, পুলিশি নির্যাতনে তাজুলের মৃত্যু হয়নি। মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানের সময় পুলিশের তালিকাভুক্ত ও একাধিক মাদক মামলার আসামি তাজুলকে আটক করা হয়। তিনি নিয়মিত হেরোইন সেবন করতেন। এ কারণে অসুস্থ ছিলেন। পুলিশ তাকে আটক করা মাত্রই তিনি মল-মূত্র ত্যাগ করে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তখন পুলিশ তাকে ছেড়ে দেয়। ঘটনাস্থলেই ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে তিনি মারা যান। এ ঘটনাকে পুঁজি করে একটি স্বার্থান্বেষী মহল লোকজনকে উসকানি দিয়ে থানা ঘেরাও, হামলা ও ভাঙচুর চালায়।’

এদিকে তাজুল ইসলামকে (৫৫) পিটিয়ে হত্যার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট। রংপুরের পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে কথা বলে বিস্তারিত ঘটনা এবং এ ঘটনায় কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা জানাতে বলা হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত দাশ গুপ্তকে মৌখিকভাবে এ আদেশ দেন বিচারপতি মামনুন রহমান ও বিচারপতি খোন্দকার দিলীরুজ্জামানের হাইকোর্ট বেঞ্চ। আদেশের পর অমিত দাশ গুপ্ত সাংবাদিকদের বলেন, ‘এ ঘটনা নিয়ে রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে কথা বলে আগামীকাল (আজ) তা আদালতকে জানাব।’

এ ঘটনায় গতকাল একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত সংবাদ হাইকোর্ট বেঞ্চে উপস্থাপন করে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা চেয়ে আবেদন জানান ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া।

Share Now
January 2026
M T W T F S S
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
262728293031