‘প্রভাবশালীদের হাতে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মানবতা লঙ্ঘিত হচ্ছে । মানুষ আজ মানুষের দ্বারাই ক্ষতির শিকার হচ্ছে। বিবেকবোধের উপস্থিতি দিনদিন কমে যাচ্ছে। মানুষের কল্যাণের কথা মানুষ চিন্তা করতে ভুলে গেছে। এই পরিস্থিতি থেকে আগামী প্রজন্মকে বাঁচাতে হবে।’
শক্রবার বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার সমিতি বগুড়া জেলা শাখার পক্ষ থেকে ভাষাসৈনিক রেজাউল করিমকে নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক সংগঠনের চেয়ারম্যান মঞ্জুর হোসেন ঈসা একথা বলেন। এসময় তিনি মানুষের কল্যাণে মানুষকে সম্পৃক্ত করে সমাজের মধ্যে শান্তি শৃঙ্খলা আনতে সংগঠনের কর্মীদের প্রতি আহবান জানান।
ভাষাসৈনিক রেজাউল করিম বলেন, আমি বগুড়ার সন্তান। ৫২ সালের ভাষা আন্দোলন এবং মুক্তিযুদ্ধের সময় সরাসরি যুদ্ধ করতে পেরে আমি বরাবরই গর্ববোধ করি। দেশে এবং দেশের মানুষ সব সময় ভালো থাক এই চাওয়া আমার জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির বগুড়া জেলা শাখার সভাপতি এ বি এম মাজেদুর রহমান জুয়েল।
প্রধান অতিথি ছিলেন- সহকারী পুলিশ সুপার সনাতন চক্রবর্তী, বিশেষ অতিথি ছিলেন, বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার সমিতির মহাসচিব মুহাম্মদ মফিজুর রহমান, সাংবাদিক ইউনিয়ন বগুড়ার সভাপতি মীর্জা সেলিম রেজা।
অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন, বগুড়া জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আরমান হোসেন ডলার।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শেষে বগুড়া জেলার শাখার নতুন কমিটির অভিষেক হয়।
বগুড়া জেলা কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্তরা হলেন, সভাপতি এ বি এম মাজেদুর রহমান জুয়েল, সাধারণ সম্পাদক আরমান হোসেন ডলার, সাংগঠনিক সম্পাদক জাহিদ ইকবাল জিতু, সিনিয়র সহ-সভাপতি দেওয়ান কবির হোসেন, সহ-সভাপতি মাসুদ সরকার কনক, সিনিয়র সহ-সাধারণ সম্পাদক আকমল হোসেন সজল, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক, সহ-সাংগঠনিক আবু জাফর, অর্থ সম্পাদক আজাদ হোসেন, দপ্তর সম্পাদক সুলতান সরদার, প্রচার সম্পাদক ইমাম হোসেন রকি, যুব সম্পাদক, আসিফ মাহমুদ, সদস্যরা হলেন, কামরুন নাহার, আপেল মাহমুদ, আবু সাঈদ মো. সাজ্জাতুর রহমান, ইলিয়াস হোসেন, সাজেরাতুল ইয়াকিন নিরু, আল আমীন, সোহান ইসলাম।
ভাষাসৈনিক রেজাউল করিমের পরিচয়: রেজাউল করিম ৫২’র জীবন্ত কিংবদন্তী ভাষাসৈনিক ও বীরমুক্তিযোদ্ধা রেজাউল করিম ১৯৩৭ সালের ৪ এপ্রিল বগুড়ার সারিয়াকান্দা থানার নারচি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম মোজাহেদ উদ্দিন তরফদার এবং মাতার নাম আকলিমা খাতুন। ১৯৫২ সালে ওয়েস্ট অ্যান্ড হাইস্কুলের ছাত্র থাকাকালীন তিনি একুশের আন্দোলনের সাথে জড়িত হন এবং নানা কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন।
তৎকালীন পাকিস্তান কেমিকেল ইন্ডাস্ট্রি সিআইপিতে কর্মরত থাকাকালে স্বাধীনতা যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েন। অতঃপর ১৯৭৩ সালে বদলি বিসিআইসির অধীনে ঘোড়াশাল ও আশুগঞ্জ সারকারখানায় ব্যবস্থাপক হিসেবে চাকরি করেন। অতঃপর ফেঞ্জুগঞ্জ সার কারখানার মহাব্যবস্থাপকের পদ থেকে অবসর নেন ১৯৯৭ সালে।
