শিল্পবিপ্লবের মাধ্যমে বিশ্ব অর্থনীতির সবচেয়ে বেশি অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। বর্তমান বিশ্বও এমনকি টিকে রয়েছে শিল্পভিত্তিক অর্থনীতির ওপর। মূলত আঠারো শতকের শেষার্ধে শিল্প উৎপাদনের ক্ষেত্রে ইংল্যান্ডে যে বৈপ্লবিক পরিবর্তনের সূচনা হয় তাই সাধারণভাবে শিল্পবিপ্লব নামে পরিচিত। শিল্পবিপ্লবের ফলে ইংল্যান্ড বিশ্বের প্রথম শিল্পোন্নত দেশে পরিণত হয় এবং অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক দিক থেকে এগিয়ে যায় দেশটি অনেকদূর। এ পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে মোট তিনটি শিল্পবিপ্লব ঘটেছে এবং আর এই তিনটি শিল্পবিপ্লব বদলে দিয়েছে সারাবিশ্বের অর্থনীতির গতিপথ ও গতিধারা। বিশ্বের প্রথম শিল্লবিপ্লব সংঘটিত হয়েছিল ১৭৮৪ সালে রেলপথের নির্মাণ ও বাষ্পীয় ইঞ্জিনের নানামুখী ব্যবহারের কৌশল আবিষ্কারের মাধ্যমে। প্রথম শিল্পবিপ্লবের মাধ্যমে উৎপাদন শিল্পের ব্যাপক সম্প্রসারণ হয় এবং বিশ্ব এগিয়ে যায় অনেকদূর যার স্থায়িত্ব ছিল ১৭৬০ থেকে ১৮৪০ সাল পর্যন্ত। পরে ১৮৭০ সালে বিদ্যুৎ আবিষ্কারের ফলে একেবারেই পাল্টে যায় মানুষের জীবনের চিত্র। মানুষের কায়িক পরিশ্রমের জায়গা দখল করে নেয় বিদ্যুৎচালিত যন্ত্রপাতি এবং একইসঙ্গে উৎপাদন শিল্পে আমূল পরিবর্তন সাধিত হয়। আর বিশ্বের এই পরিবর্তিত রূপকে বলা হয় দ্বিতীয় শিল্পবিপ্লব। প্রথম শিল্পবিপ্লব থেকে দ্বিতীয় শিল্পবিপ্লবের প্রভাব ছিল অনেক বিস্তৃত ও টেকসই। দ্বিতীয় শিল্পবিপ্লবের ঠিক ১০০ বছরের মাথায় ১৯৬৯ সালে আবিষ্কৃত হয় ইন্টারনেট এবং শুরু হয় ইন্টারনেটভিত্তিক তৃতীয় শিল্পবিপ্লব। ইন্টারনেটের আবির্ভাবে তৃতীয় শিল্পবিপ্লবের সময় তথ্যপ্রযুক্তির সহজ ও দ্রুত বিনিময় শুরু হলে সারাবিশ্বের কার্যক্রমের গতি কয়েকগুণ বেড়ে যায়। ম্যানুয়াল জগৎ ছেড়ে যাত্রা শুরু হয় ভার্চুয়াল জগতের। চতুর্থ শিল্পবিপ্লব এসেছে এ ভার্চুয়াল জগতেরই আরও বিস্তৃত পরিসর নিয়ে। যেখানে মানুষের আয়ত্তে আসছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং ইন্টারনেট অব থিংস বা যন্ত্রের ইন্টারনেট যা সম্পূর্ণরূপেই মানবসম্পদের বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হবে। চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের ধারণাটি সর্বপ্রথম জার্মানিতে আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপিত হয় ২০১৩ সালে। সম্প্রতি সুইজারল্যান্ডের দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) বার্ষিক সম্মেলনে আলোচনার অন্যতম বিষয় ছিল চতুর্থ শিল্পবিপ্লব। সারাবিশ্বের রাজনৈতিক নেতা, বহুজাতিক করপোরেট প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী, উদ্যোক্তা, প্রযুক্তিবিদ ও বিশ্লেষকরা ডিজিটাল শিল্পবিপ্লব নিয়ে বহুমুখী আলোচনায় অংশ নিয়েছেন। ৪র্থ শিল্পবিপ্লব আমাদের সামনে বিভিন্ন রকমের বাস্তবতা নিয়ে এসেছে। এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা ২০৩০, ভিশন-২০৪১ এর সফল বাস্তবায়ন এবং সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিতকল্পে ৪র্থ শিল্পবিপ্লবের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হবে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশ চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের প্রভাব এবং চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের সুফলকে কাজে লাগিয়ে অর্থনীতির চাকা আরও কীভাবে গতিশীল করা যায় সে বিষিয়ে গভীরভাবে মনোনিবেশ করেছে। প্রতিটি মন্ত্রণালয় বা বিভাগ ও দপ্তরসমূহ চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের সম্ভাবনাকে কীভাবে কাজে লাগানো যায় সেটা নিয়ে যেমন কাজ করছে ঠিক একইভাবে চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় করণীয় নির্ধারণে কাজ করে যাচ্ছে।
চতুর্থ শিল্পবিপ্লব : প্রযুক্তিনির্ভর ডিজিটাল বিপ্লবকেই বলা হচ্ছে চতুর্থ শিল্পবিপ্লব। চতুর্থ শিল্পবিপ্লব মূলত কম্পিউটার ও তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর ডিজিটাল বিপ্লব। চতুর্থ শিল্পবিপ্লব শব্দটির উৎপত্তি ২০১১ সালে, জার্মান সরকারের একটি হাইটেক প্রকল্প থেকে। একে সর্বপ্রথম বৃহৎ পরিসরে তুলে নিয়ে আসেন ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা এবং চেয়ারম্যান ক্লাউসশোয়াব। তিনি চতুর্থ শিল্পবিপ্লব নিয়ে নিজের লেখা একটি প্রবন্ধে বলেছেন, স্মার্টফোনের মাধ্যমে সারাবিশ্বের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের পরিবর্তন, ইন্টারনেট অব থিংস, যন্ত্রপাতি পরিচালনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রয়োগ, রোবোটিকস, জৈবপ্রযুক্তি, কোয়ান্টাম কম্পিউটিংয়ের মতো বিষয়গুলো চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের সূচনা করেছে। এখন আমরা এক প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের ফলে নানামুখী সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে। অটোমেশনের প্রভাবে কর্মক্ষেত্রে ঝুঁকি হ্রাস পাবে, উৎপাদন শিল্পে নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধি পাবে, স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা খাতে বড় পরিবর্তন আসবে, বিশেষায়িত পেশার চাহিদা বৃদ্ধি পাবে এবং সামগ্রিকভাবে জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন হবে ব্যাপকভাবে।
চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের প্রভাব : চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের প্রভাব পর্যালোচনায় দেখা যায় যে, প্রযুক্তিগত ব্যাপক পরিবর্তনের কারণে আগামী ১০ বছরে অনেক পেশা একদিকে যেমন হারিয়ে যেতে পারে, অন্যদিকে যোগ হবে নতুন নতুন কর্মক্ষেত্র। বিশ্বব্যাংকের ডিজিটাল ডিভিড্যান্ডস শীর্ষক প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইন্টারনেটের মাধ্যমে এখন একদিনে বিশ্বে ২০ হাজার ৭০০ কোটি ই-মেইল পাঠানো হয়, গুগলে ৪২০ কোটি বিভিন্ন বিষয় খোঁজা হয়। বহুজাতিক মোবাইল অপারেটর ডিজিসেলের চেয়ারম্যান ডেনিস ও ব্রায়েন বলেন, ‘চতুর্থ শিল্পবিপ্লব হিসেবে ডিজিটালাইজেশন আমাদের কাজের সব ক্ষেত্রে ইতোমধ্যে বিশাল পরিবর্তন নিয়ে এসেছে, তবে এই পরিবর্তনকে আমি দেখি সূচনা হিসেবে। আগামী ১০ বছরে ডিজিটাল বিপ্লবের ফলে আমরা এমন সব পরিবর্তনের মুখোমুখি হতে যাচ্ছি, যা এর আগে ৫০ বছরে সম্ভব হয়নি।
চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের ফলে আমাদের সামনে চ্যালেঞ্জ রয়েছে মূলত ৩টি যথা-
১। শিল্পক্ষেত্রে রোবোটিক্স কিংবা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বহুল ব্যবহারের কারণে জনশক্তির প্রয়োজনীয়তা অনেকাংশে হ্রাস পাবে। ফলে ব্যাপকসংখ্যক মানুষের পেশা পরিবর্তন অথবা দক্ষতা উন্নয়ন প্রয়োজন।
২। শিল্পে জনশক্তির বর্তমান দক্ষতা পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে অনুপযুক্ত হয়ে পড়বে। ফলে নতুন দক্ষতাসমৃদ্ধ জনশক্তি তৈরির প্রয়োজন হবে। জনশক্তির দক্ষতা বৃদ্ধিতে এবং নতুন প্রয়োজনীয় দক্ষতা তৈরিতে আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।
৩। চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের প্রেক্ষাপটে যে কোনো শিল্পে ব্যবসা শুরুর জন্য প্রয়োজনীয় প্রাথমিক বিনিয়োগের পরিমাণ অনেক বৃদ্ধি পাবে। ফলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় মূলধন চ্যালেঞ্জ হয়ে দেখা দেবে।
চতুর্থ শিল্পবিপ্লব মোকাবিলায় সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ : বর্তমান বিশ্বের আধুনিক সব তথ্যপ্রযুক্তির সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নিতে কাজ করে যাচ্ছে বর্তমান সরকার। তথ্যপ্রযুক্তি খাতের প্রসারের জন্য সরকারি-বেসরকারি উভয় খাতকেই সমানভাবে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রাতিষ্ঠানিক এবং অপ্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার বাইরেও ই-গভর্নেন্স, সার্ভিস ডেলিভারি, পাবলিক পলিসি অ্যান্ড ইমপ্লিমেনটেশন, তথ্যপ্রযুক্তি, বিকেন্দ্রীকরণ, নগর উন্নয়ন ও পরিকল্পনা এবং এসডিজি বাস্তবায়নে চ্যালেঞ্জ ও প্রশাসনিক নীতি-কৌশল নিয়ে বাংলাদেশের সরকারি কর্মকর্তাদের ক্লাউড সার্ভার, ইন্টারনেট অব থিংস এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাবিষয়ক প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশ দুটি সাবমেরিন ক্যাবলের সঙ্গে সংযুক্ত হয়েছে এবং তৃতীয় সাবমেরিন ক্যাবলের সঙ্গে কানেক্টিভিটির কাজ চলমান রয়েছে। বাংলাদেশ মহাকাশে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উড়িয়েছে। বর্তমান সরকারের উদ্যোগে ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন এবং অত্যাধুনিক হাইটেক পার্ক নির্মাণ করা হয়েছে। সরকার ২০৪১ সালে স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে আইসিটি ক্ষেত্রে মাস্টার প্ল্যান ২০৪১ করার উদ্যোগ হাতে নিয়েছে।
চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় করণীয়
১। সব শ্রেণি ও পেশার মানুষের মধ্যে চতুর্থ শিল্পবিপ্লববিষয়ক ধারণা প্রদান এবং চতুর্থ শিল্পবিল্পবের সঙ্গে সম্পর্কিত অগ্রসরমান প্রযুক্তি সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে ব্যাপক প্রচার করতে হবে।
২। চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের ফলে যেসব কর্মসংস্থান সংকুচিত হবে এবং যেসব নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে তা চিহ্নিত করতে হবে এবং এ লক্ষ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণসহ উপযুক্ত শিক্ষা ও দক্ষতা তৈরির জন্য সময়বদ্ধ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করতে হবে। দক্ষতা উন্নয়নমূলক প্রোগ্রামসমূহে চতুর্থ শিল্পবিল্পব উপযোগী প্রযুক্তি অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। বর্তমান কারিকুলামসমূহ চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের আলোকে আপগ্রেড করতে হবে। শিল্প প্রতিষ্ঠানের চাহিদার আলোকে দক্ষতা উন্নয়ন করতে হবে এবং এজন্য দক্ষ প্রশিক্ষক তৈরি করতে হবে।
৩। সব মন্ত্রণালয়/বিভাগ ও দপ্তর/সংস্থার চাহিদা অনুযায়ী চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের উপযোগী দ্রুত বাস্তবায়নযোগ্য অন্তত একটি প্রকল্প পাইলটিং আকারে বাস্তবায়ন করতে হবে। পরবর্তীকালে পাইলট প্রকল্পের কার্যকারিতা বিবেচনায় তা সম্প্রসারিত আকারে বাস্তবায়ন করা এবং সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে নতুন নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন।
৪। বিশ্ববিদ্যালয়সমূহে চতুর্থ শিল্পবিপ্লববিষয়ক গবেষণা এবং উদ্ভাবনমূলক কার্যক্রম বাড়াতে হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং শিল্পক্ষেত্রের মধ্যে সমন্বয় সাধনের ব্যবস্থা করতে হবে। শিল্পকারখানায় চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের সুবিধা কাজে লাগাতে প্রযুক্তিগুলোর ব্যবহার বৃদ্ধি করতে হবে।
৫। চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের নেতিবাচক দিক মোকাবিলা করে এর সুযোগ কাজে লাগানোর নিমিত্ত নীতি ও শাসন পদ্ধতিতে উদ্ভাবনমূলক অভিনব কর্মপদ্ধতি ডিজাইন এবং ব্যবহার চালু করার জন্য সরকার, বড় বড় কোম্পানি, নাগরিক সমাজ, যুবসমাজ, উদ্যাক্তা, রাজনীতিবিদ, নবিন-উদ্যাগ (স্টার্ট-আপ) এবং সমাজের সব স্তরের বিশেষজ্ঞদের নিয়ে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
৬। জাতীয় পর্যায় প্রযুক্তিগত অবকাঠামো গড়ে তুলতে হবে। চতুর্থ শিল্পবিপ্লব পুরো জীবনব্যবস্থাকে যথা- প্রযুক্তির সঙ্গে মানুষ, প্রকৃতি এবং সমাজের সম্পর্ক বৃহত্তর রূপান্তর হতে পারে। তাই চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য আমাদের প্রস্তুত থাকতে হবে। ২০৪১ সালের মধ্যে চতুর্থ শিল্প বিপ্লব থেকে বাংলাদেশের প্রাপ্ত সুফল যেন সম্ভাব্য ক্ষতির চেয়ে ৫০% বেশি হয়, সে লক্ষ্য নিয়ে আমাদের কাজ করতে হবে। শিল্পকারখানায় যে পরিমাণ কাজের সুযোগ নষ্ট হবে তার চেয়ে অধিক কর্মসংস্থান সৃজনের লক্ষ্যে বিগ ডাটা, ডেটা এনালিটিক্স, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং অটোমেশনের সমন্বিত ব্যবহার করতে দ্রুত কৌশলগত পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।
চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের সুফল পেতে আমাদের তিনটি বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে যথা- মানবসম্পদ উন্নয়ন, সরকারের ডিজিটাল রূপান্তর বা ডিজিটাল সরকার এবং ডিজিটাল সমাজব্যবস্থা গড়ে তোলা। সুতরাং চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের সুযোগকে কাজে লাগাতে হলে আমাদের প্রধানতম লক্ষ্য হতে হবে চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের উপযোগী সুদক্ষ মানবসম্পদ সৃষ্টি আর এজন্য প্রয়োজন হবে শিক্ষাব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন অর্থাৎ আমাদের শিক্ষাব্যবস্থাকে প্রযুক্তিনির্ভর হিসেবে ঢেলে সাজাতে হবে। তথ্যের সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ, ইন্টারনেট ও অন্যান্য প্রযুক্তির মধ্যে অব্যাহত যোগাযোগ রক্ষা করতে হবে। প্রতিনিয়ত প্রযুক্তিযন্ত্রগুলো আপডেট করার পাশাপাশি প্রযুক্তির নিরাপত্তাঝুঁকি আপডেটের মাঝে সমন্বয় সাধনের জন্য কেন্দ্রীয়ভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ইতোমধ্যে চতুর্থ শিল্পবিপ্লব মোকাবিলায় বাংলাদেশের সব মন্ত্রণালয়/বিভাগ, অধিদপ্তর/পরিদপ্তর, সংস্থা, বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ে সেমিনার অনুষ্ঠিত হচ্ছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে প্রযুক্তি বিপ্লবের মাধ্যমে বাংলাদেশকে ২০৪১ সালে স্মার্ট বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে দুলতে পারবে মর্মে আমরা আশাবাদী।
জিয়াউর রহমান : পিএমপি, উপসচিব ও কনসালটেন্ট, এটুআই প্রোগ্রাম, ঢাকা
