২৬ বছর বয়সী নারী সাফিয়া ফিরোজি আগানিস্তানের  শৈশবে তিনি ছিলেন শরণার্থী। এখন পাইলট। তার নামের আগে যুক্ত হয়েছে ক্যাপ্টেন। তিনি ক্যাপ্টেন সাফিয়া ফিরোজি। আফগানিস্তানের মতো দেশে তিনি দেশটির দ্বিতীয় নারী পাইলট। বিমান বাহিনীর জন্য একটি পরিবহন বিমান চালান ফিরোজি। তাকে নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বার্তা সংস্থা এপি। ফিরোজি বিয়ে করেছেন আরেক পাইলটকে। তার স্বামী পদাতিক বাহিনীর জন্য পরিবহন বিমান চালান। তারা দু’জনেই আফগানিস্তানের বিমানবাহিনীর অংশ। তালেবানদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। ফিরোজি যে বিমানটি চালান তা হলো সি-২০৮। তিনি বলেছেন, যখন আমি সেনাবাহিনীর পোশাক পরি প্রকৃতপক্ষেই তখন নিজেকে একজন নারী ভাবতে গর্ব অনুভব করি। ২০০১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে আফগানিস্তানে তালেবানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু হয়। সেই যুদ্ধে তালেবান শাসনের ইতি ঘটে ওই দেশটিতে। তার প্রায় ১৬ বছর পরে দেশটির নারীরা সমাজ, পার্লামেন্ট, সরকার ও সেনাবাহিনীদের ক্রমবর্ধমান হারে তাদের উপস্থিতি জানান দিতে শুরু করেছে। এখনও তাদের সামনে প্রচ- রক্ষণশীল সমাজের প্রতিবন্ধকতা। ১৯৯০ এর দশকে ফিরোজি শিশু। ওই সময়ে আফগানিস্তানের যুদ্ধবাজ নেতারা গৃহযুদ্ধে লিপ্ত হয়। এ সময় ফিরোজির পরিবার কাবুলের বাড়ি ছেড়ে পালায়। তারা চলে যান পাকিস্তানে। সেখানে শরণার্থী হিসেবে অবস্থান করেন তারা। শেষ পর্যন্ত তালেবানদের পতনের পরেই তার পরিবার ফিরে আসে দেশে। স্কুলে ভর্তি হন ফিরোজি। এ সময় তিনি তিনি টেলিভিশন চ্যানেলে একটি বিজ্ঞাপন দেখতে পান। তাতে নারীদেরকে সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে আহ্বান জানানো হচ্ছিল। উদ্বুদ্ধ হয়ে ওঠেন ফিরোজি। তিনি গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করার পর যোগ দেন মিলিটারি একাডেমিতে। সেখানে যোগাযোগ বিষয়ক অফিসার হওয়ার বিষয়ে পড়াশোনা করতে থাকেন। এ সময়ে ওই একাডেমিতে ঘোষণা দেয়া হয়, পাইলট হওয়ার জন্য নারীদের খুঁজছে বিমানবাহিনী। এ ঘোষণায় ফিরোজি ও অন্য ১২ জন মেয়ে আবেদন করেন। তবে পরীক্ষায় টিকে যান শুধু একজন। তিনি হলেন সাফিয়া ফিরোজি। পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ হেরাতে তিনি যখন প্রশিক্ষণ নিচ্ছিলেন সেখানে তার সঙ্গে পরিচয় হয় পাইলট ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ হাওয়াদ নাহাফির সঙ্গে। পরে তারা দু’জনে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। প্রায় দু’বছর হয় তাদের দাম্পত্য জীবন। স্ত্রীর পাইলট হওয়ার আকাঙ্খায় সমর্থন দিয়েছেন পাইলট নাজাফি। প্রশিক্ষণ থেকে ফিরোজি গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করেন ২০১৫ সালে। জন্ম হয় তাদের কন্যা সন্তান নারগিসের। বর্তমানে তার বয়স ৮ মাস। আবার মিশনে যোগ দিয়েছেন ফিরোজি। উল্লেখ্য, ২০১৩ সালে আফগানিস্তানে ৩০ বছরের মধ্যে প্রথম নারী পাইলট হিসেবে যোগ দেন ক্যাপ্টেন নিলুফার রহমানি। তার পরের রেকর্ড ফিরোজির। তিনি বলেন, এখন অন্য নারীদের তিনি উদ্বুদ্ধ করবেন। তার ভাষায়, নারী হিসেবে আপনি অনেক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হবে। কিন্তু সে সব সমস্যাকে যেকোনো উপায়ে আপনাকে কাটিয়ে উঠতে হবে। আফগানিস্তানের এক লাখ ৯৫ হাজার সদস্যের সেনাবাহিনীতে এখন নারী আছেন ১৮০০।

Share Now
March 2026
M T W T F S S
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031