বাংলাদেশ অর্থনীতির আকারের দিক থেকে বিশ্বে চলতি বছর তিন ধাপ অগ্রগতি হতে যাচ্ছে । ৪৩তম বৃহৎ অর্থনীতির দেশ থেকে চলতি বছরেই ৪০তম শীর্ষ অর্থনীতির দেশ হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ।

বুধবার ‍দুপুরে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে মিট দ্যা প্রেস অনুষ্ঠানে এ কথা জানান পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ২০১০ সালে বিশ্ব অর্থনৈতিক দেশ হিসেবে ৫৮তম স্থানে ছিলাম। সেখান থেকে এখন আমরা ৪৩তম অবস্থান। আমরা আশা করি, এই বছরেই ৪০তম অবস্থানে যাব।’

‘২০৪১ সালে আমরা উন্নত দেশ হবো। সে সময় আমরা ২০তম অর্থনৈতিক দেশ হিসেবে অবস্থান করব।’

‘এই ক্ষেত্রে আমাদের অবকাঠামো উন্নয়নসহ কিছু চ্যালেঞ্জ আছে। সেগুলোর জন্য আমরা প্রস্তুত আছি।’

মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা অবকাঠামো উন্নয়নে হাত দিয়েছি। গভীর সমুদ্র বন্দর করছি। গ্যাস, বিদ্যুতের উন্নয়ন করছি। ২০৩০ সালে ৩৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করব।’

‘হয়ত আমাদের প্রাইভেট সেক্টরে বিনিয়োগ কম। তবে আমরা তাদের বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা দিচ্ছি তাদের বিনিয়োগ বাড়বে। আমাদের প্রাইভেট পাবলিক পার্টনারশিপের মাধ্যমে কাজ করা দরকার।’

স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উন্নয়নশীল দেশের স্বীকৃতিপত্র পাওয়ায় বৃহস্পতিবার দেশে ‘উৎসব’কে সামনে রেখে এইঅনুষ্ঠানের আয়োজন করে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রী বলেন, ‘গরিব দেশ হওয়ার যন্ত্রণা থেকে আমরা মুক্ত হয়েছি। স্বাধীনতার তিন বছরের মধ্যে স্বল্পোন্নত দেশের তালিকায় উঠেছিল বাংলাদেশ। সেখানে ৪৩ বছর পর আমরা উন্নয়নশীল দেশের স্বীকৃতি পেলাম।’

‘হয়ত আমাদের এখানে আসতে অন্য দেশের তুলনায় সময় বেশি লেগেছে। কিন্তু এখন আমরা খুব দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নয়ন করব।’

‘কারণ আমাদের কর্মক্ষম জনসংখ্যা বেশি। ডেমোগ্রাফি ডিভিডেন্টে আমরা সব দেশ থেকে এগিয়ে। আমাদের মতো কর্মক্ষম জনবল কোন দেশে নেই। যেটা আমরা ধরে রাখতে পারব ২০৬১ সাল পর্যন্ত।’

এক প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, ‘উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় স্থান করে নিতে মাথাপিছু আয়, মানবসম্পদ সূচক এবং অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা সূচক- এই তিনটির যে কোনো দুটি অর্জন করতে পারলেই স্বীকৃতি মেলে।

উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হতে একটি দেশের মাথাপিছু আয় হতে হবে কমপক্ষে এক হাজার ২৩০ ডলার। সেখানে বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় এক হাজার ২৭১। মানবসম্পদ সূচকে প্রয়োজন ৬৬ বা এর বেশি। বাংলাদেশ সেখানে অর্জন করেছে ৭২ দশমিক ৯। এছাড়া অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা সূচকে হতে হবে ৩২ বা এর কম। সেখানে বাংলাদেশের আছে ২৪ দশমিক ৮ শতাংশ। জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসির (সিপিডি) হিসাব এটি।

উন্নয়নশীল দেশ হওয়ায় বাংলাদেশের কিছু সুযোগ সুবিধা কমে যাবে। আবার বিদেশি ঋণের জন্য বেশি হারে সুদ দিতে হবে। এখন স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে পাওয়া বাণিজ্য সুবিধাও মিলবে না।

এ বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের লসের কোন কারণ নেই। আমারা কোনো বেনিফিট হারাব না। আমাদের রপ্তানিও কমবে না।’

‘বরং বৈদেশিক বিনিয়োগ বাড়বে। আমাদের জন্য এখন অনেক সহজ হবে ঋণ সংগ্রহ।’

অন্য এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের রপ্তানি শুধু পোশাক খাতের উপর নির্ভরশীল থাকবে না। ফার্মাসিউটিক্যালসে (ওষুধ), লেদার (চামড়া), আইসিটি (তথ্য প্রযুক্তি) সহ বিভিন্ন খাতের পণ্য রপ্তানি করবে। আইসিটি হবে রপ্তানির প্রধান খাত।’

Share Now
April 2026
M T W T F S S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
27282930