মেহেদী হাসান সাগর বড় হয়ে সেনা কর্মকর্তা হওয়ার স্বপ্নটি শৈশব থেকে লালন করতো । স্বপ্ন পূরণের খুব কাছাকাছি চলে এসেছিল মেহেদী। এসএসসিতে জিপিএ-৫ পাওয়ার পর ভর্তি হয়েছিল ঢাকা সেনানিবাস এলাকার অবস্থিত শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজে। কিন্তু একটি দুর্ঘটনায় চুরমার হয়ে গেছে তার সব স্বপ্ন। বিমানবন্দর রোডে দুর্ঘটনায় হারাতে বসেছে বাম চোখ। তার স্বজনরা জানিয়েছে, হাসপাতালের বেডে শুধু একটি কথাই বলছে সাগর।
একই কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র মেহেদী হাসান সাগর। ওই দিন ক্লাস শেষে আশকোনা বাসায় ফেরার জন্য বাসের জন্য অপেক্ষা করছিল। তার ভাই মো. সোলায়মান বলেন, বাসটি যখন গাছের সঙ্গে ধাক্কা লেগে সামনে গ্লাস ভেঙে সাগরের মুখের মধ্যে পড়ে। তাৎক্ষণিক মুখের অনেক অংশ কেটে যায়। এরপর চোখ দিয়ে রক্ত বের হতে থাকে। হাসপাতাল নেয়ার পর তার চোখে গ্লাস ঢুকেছে বলে ডাক্তাররা জানান। ডান চোখ শঙ্কামুক্ত হলেও তার বাম চোখের অবস্থা আশঙ্কাজনক। বাম চোখের ইতিমধ্যে অপারেশন করা হয়েছে। ৮টি সেলাই লেগেছে। সে শঙ্কামুক্ত নয় বলেও জানিয়েছেন ডাক্তাররা। ২০ দিন পর্যবেক্ষণের পর তার সেলাই কাটা হবে। তারপর বুঝা যাবে তার চোখের কী অবস্থা। সাগরের ভাই জানান, ছোটবেলা থেকে সাগরের সেনাবাহিনীর অফিসার হওয়ার স্বপ্ন ছিল। সে বাবা মার কাছে প্রায়ই এ স্বপ্নের কথা বলতো। এমনকি হাসপাতালে বেডেও ডাক্তারদের কাছে তার স্বপ্নের কথা বলেছে। চোখের অপারেশন হওয়ার পর সেনাবাহিনীতে চাকরি পাওয়া যাবে কী ডাক্তারদের কাছে বারবার জানতে চাইছিল।
সিএমএইচে চিকিৎসাধীন জয়ন্তী রানী দাস ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী। তার অবস্থা কিছুটা উন্নতির দিকে। তবে ব্যবসা শিক্ষা বিভাগের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী প্রিয়াঙ্কা বিশ্বাস। তার অবস্থা সবচেয়ে খারাপ। সে সিএমএইচের এইডিও-তে আছে। তার মাথায় গুরুতর আঘাত পাওয়ার পর রক্ত বের হচ্ছিল। তার মাথায় অপারেশন করা হলেও এখনো আশঙ্কামুক্ত নয়। তার উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে বলে ডাক্তাররা জানিয়েছেন। একাদশ শ্রেণির ব্যবসা শিক্ষা বিভাগের ছাত্র সজিব শেখের বাসা রাজধানীর ভাটারা। বাসের ধাক্কায় ভেঙে গেছে তার বাম হাত। সেও সিএমএইচে চিকিৎসাধীন আছে। তার বাম হাতে অপারেশন হয়েছে। একই বিভাগের ছাত্র রাহাতের বাম হাত ভেঙে গেছে। তার হাতে ব্যান্ডেজ দেয়া হয়েছে। মানবিক বিভাগের ছাত্র ইমন চৌধুরী শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাত পেয়েছিল। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে রিলিজ দেয়া হয়েছে। একই বিভাগের ছাত্র সোহেল রানাকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে রিলিজ দেয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের চিকিৎসার সার্বিক অবস্থা নিয়ে শহীদ রমিজ উদ্দিন কলেজের অধ্যক্ষ নূর নাহার ইয়াসমিন মানবজমিনকে বলেন, ওই দিনের ঘটনার পর ১০ জন গুরুতর আহত হওয়ার পর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল। এরমধ্যে ৩ জনকে বাসায় পাঠানো হয়েছে। বাকি ৭ জনের মধ্যে তিনজনের অপারেশন হয়েছে। ডাক্তাররা বলেছে, সবাই এখন আশঙ্কামুক্ত, কিছুদিনের মধ্যে বাকিরা বাসায় ফিরে যেতে পারবে।
