প্রবল বর্ষণে গতকাল শুক্রবার সকালে নগরীর নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। খাল-নালা পরিষ্কার না হওয়ায় সবকটি সড়কের উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়েছে। নগরীর প্রধান সড়ক এশিয়ান হাইওয়ের বহদ্দারহাট থেকে ষোলশহর ২ নং গেইট পর্যন্ত কোমর সমান পানিতে তলিয়ে যায়। এসময় সব ধরণের যান চলাচল বন্ধ থাকে। ভোর রাত ৪টা সকাল ১০ টা পর্যন্ত ৬ ঘন্টা টানা বর্ষণে পুরো নগরী পানিতে ডুবে যায়। এসময় গৃহবন্দী ছিলেন নগরবাসী। নি¤œাঞ্চলের বাড়িঘর ও দোকানপাটে পানি প্রবেশ করে প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বিশেষ করে চাক্তাইখাল ও শাখা খাল সমুহ খনন না হওয়ায় সমগ্র বাকলিয়ার বিস্তির্ণ এলাকা ছিল পানির নীচে। তবে শুক্রবার ছুটির দিন থাকায় চরম দুর্ভোগ থেকে রেহাই পেয়েছেন কর্মজীবীরা। আগ্রাবাদ ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে বৃষ্টিতে কোন পাহাড় ধসের ঘঁনা ঘটেনি। পতেঙ্গা আবহাওয়া দপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ আবদুল হান্নান জানান, গতকাল সন্ধ্য ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘন্টায় ৮৬ দশমিক ৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আজ শনিবারও ঝড়ো হাওয়ার সাথে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। তাপমাত্রা অপরিবর্তিত থাকবে। গতকাল সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সর্বনি¤œ ২১ দশমিক ৫ ডিগ্রি। শুলকবহরের বাসিন্দা গৃহবধু নিলুফার জান্নাত জানান, আবদুল হামিদ সড়কে গতকালের মত এত পানি অতীতে কখনো হয়নি। পানির কারণে অনেকে জুমার নামাজের জন্য মসজিদে পর্যন্ত যেতে পারেননি। একই অবস্থা এশিয়ান হাউজিং সোসাইটিতেও। গত কয়েক বছর বর্ষায় এলাকায় পানি ঊঠেনি। এবার পুরো এলাকা পানিতে ডুবে গেছে।

আগ্রাবাদ লাকি প্লাজার দোকানদার কাদের জানান, বৃষ্টিতে লাকিপ্লাজায় কখনো পানি উঠেনি। এবারই মার্কেটের নীচতলার দোকান সমূহে পানি উঠে সম্পদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। আগ্রাবাদ সিডিএ আবাসিকের ১৯ নম্বর ও ২১ নম্বর সড়কে ছিল হাঁটু পানি। বেশকিছু বাসায়ও পানি ঢুকে পড়েছে। অপরদিকে মুহুরিপাড়া, দাইয়াপাড়া,পানওয়ালাপাড়া, আবিদর পাড়া ও বিল্লাপাড়ার ঘরে ঘরে পানি ঢুকে পড়ে। আগ্রাবাদ ফায়ার সার্ভিস কার্যালয়ের নীচতলাও পানিতে ডুবে গেছে। এছাড়া হালিশহর এক্সেস রোড, কমার্স কলেজ রোড, হোটেল আগ্রাবাদের সামনে, গোলবাগ শান্তিবাগ আবাসিক এলাকা, ব্রিক ফিল্ড রোডের একাংশ, ছোটপুল বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়।
বৃষ্টির পানিতে ভেসে গেছে চকবাজারের অনেক সবজি। জলাবদ্ধতার কারণে ক্রেতারা বাজারে আসতে পারেননি।
কাঁচা বাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, গত বৃহস্পতিবার রাতে ব্যবসায়ীরা পাইকারি বাজার থেকে সবজি কিনে দোকানে জমা রেখেছিলেন। শুক্রবার বন্ধের দিন বেশি বেচাকেনা হয়। কিন্তু সকাল থেকে অঝোর ধারার বৃষ্টিতে সবজি তলিয়ে যায়। আনোয়ার হোসেন বলেন, রাতে কয়েক মণ সবজি আনা হয়েছে। কিন্তু সকালে বৃষ্টির পানিতে সব ভেসে গেছে। এতে প্রায় ৩০ হাজার টাকার সবজি তলিয়ে গেছে। বৃষ্টিতে সব ব্যবসায়ী চরম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে জানান তিনি।
তবে বিকেলে পানি কমতে শুরু করলে ব্যবসায়ী সবজির ফসরা সাজিয়ে দোকান খুলতে শুরু করেছেন কয়েকজন ব্যবসায়ী। তবে ব্যবসায়ীরা সবজির দাম বেশি হাঁকাচ্ছেন বলে দাবি ক্রেতাদের। ব্যবসায়ীদের দাবি, বৃষ্টিতে হাজার হাজার টাকার সবজি তলিয়ে গেছে। বাজারে সবজি নেই। তাই দাম একটু বাড়তি রয়েছে।
দেখা যায়, চক বাজার এলাকায় বৃষ্টির পানি জমে থাকতে না পারে সেজন্য চকবাজার থেকে রাহাত্তারপুল পর্যন্ত সড়ক উঁচু করা হয়েছে। তারপর বৃষ্টির পানিতে ডুবে গেছে। এলাকাবাসী জানান, ড্রেন-নালা ও খাল পরিষ্কার না করায় পানি নামতে না পারায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। রাস্তা উঁচু করার পরও ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পাচ্ছেন না।
মোহরার আফজাল মাঝির বাড়ির বাসিন্দা লোকমান ইসলাম মুন্না জানান, এলাকার প্রত্যেকটি ঘরে পানি ঢুকেছে। রাত ৯ টায় এরিপোর্ট লিখার সময়ও বাসা বাড়ি থেকে পানি নেমে না যাওয়ায় সারাদিন রান্না পর্যন্ত হয়নি। দূর্গন্ধময় ময়লা পানি প্রবেশ করায় ঘরে বসবাস করাও দায় হয়ে পড়েছে।

Share Now
January 2026
M T W T F S S
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
262728293031