ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট রড্রিগো দুতের্তে ধর্ষণ ইস্যুতে বিতর্কিত মন্তব্য করতেই যেন পছন্দ করেন । প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে তিনি একবার এ নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন। গতকাল আবারো মান্দানাও দ্বীপে সামরিক শাসনের পক্ষে কথা বলতে গিয়ে তিনি কৌতুক করে বলেন, তার সামরিক শাসনের অধীনে সেনারা নারীদের ধর্ষণ করতে পারবে। তিনি বলেন, একজন সেনা তিনজন নারীকে ধর্ষণ করতে পারবে। এর দায় তিনি কাঁধে নেবেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে উদ্ধৃত করে এ খবর দিয়েছে লন্ডনের অনলাইন দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট। এতে বলা হয়, সামরিক শাসনের অধীনে যদি কোন সেনা সদস্য নিয়ম ভঙ্গ করে তাহলে তার দায় তিনি নেবেন। এমনকি নারীকে ধর্ষণ করলে তার দায়ভার ব্যক্তিগতভাবে নিজের কাঁধে নেয়ার আশ্বাস দেন। উল্লেখ্য, রড্রিগো দুতের্তের এমন বিদঘুটে মন্তব্য কখনো কখনো খুব নোংরা শোনায়। আবার কখনো তা কৌতুকের মতো শোনায়। তিনি ওইসব মন্তব্য করে আবার বলে দিয়েছেন কোন নির্যাতন বা আইন লঙ্ঘনকে তিনি সহ্য করবেন না। প্রেসিডেন্ট রড্রিগো বলেন, যদি আপনি নি¤œমুখী হন, আমিও নিম্নমুখী হবো। এই সামরিক আইন, সামরিক আইনের পরিণতি ও সামরিক আইনের অধীনে সব কিছুর দায়ভার আমি নেবো। আপনারা শুধু আপনাদের কাজ করুন। বাকিটা দেখবো আমি। তিনি আরো বলেন, আপনাদের হয়ে প্রয়োজনে জেলে যাবো আমি। জোর দিয়ে তিনি বলেন, যদি কোন সেনা সদস্য তিনজন নারীকে ধর্ষণ করে আমি এর দায় স্বীকার করবো। আমিই।
মিন্দানাও দ্বীপে সেনা সদস্যদের উদ্দেশে ভাষণ দিচ্ছিলেন তিনি। ওই দ্বীপে তিনি গত মঙ্গলবার সামরিক আইন জারি করেছেন। উদ্দেশ্য, ইসলামিক স্টেটের সঙ্গে সম্পর্কিত বিদ্রোহীদের দমন করা। ওই বিদ্রোহীরা শহরটির দক্ষিণাংশ সেনা বাহিনীর কাছ থেকে দখলে নেয়ার পর সেনাদের সঙ্গে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। রয়টার্স লিখেছে, ধর্ষণ নিয়ে এবারই প্রথম কৌতুক করলেন না দুতের্তে। গত বছর প্রেসিডেন্ট নির্বাচনেও তিনি ধর্ষণ নিয়ে মন্তব্য করেন। ওই সময় ১৯৮৯ সালে জেলে দাঙ্গায় একজন অস্ট্রেলিয়ান মিশনারি হত্যার বিষয়ে মন্তব্য করেন তিনি। ওই নারীকে অন্য বন্দিরা গণধর্ষণ করেছিল। এ নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে দুতের্তে বলেছেন, ওই ধর্ষিতা ছিলেন খুবই সুন্দরী। সুযোগ পেলে ধর্ষকদের সারিতে তিনিই থাকতেন সবার আগে। পরে অবশ্য এমন মন্তব্যের জন্য তিনি ক্ষমা চেয়েছেন। বলেছেন, তিনি নারী ও ধর্ষিতাদের অসম্মানিত করতে চান নি।

Share Now
February 2026
M T W T F S S
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
232425262728