ভারতের মণিপুর রাজ্যের দিকে অগ্রসর হচ্ছেউত্তর বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি ঘূর্ণিঝড় মোরা কুতুবদিয়ার কাছ দিয়ে কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম উপকূল অতিক্রম করে। ফলে আজ মঙ্গলবার ভোররাতে বাংলাদেশ ভূখণ্ডে শুরু হওয়া ঝড়ো হাওয়ার সঙ্গে বৃষ্টি অনেকটা কমে গেছে। সেইসঙ্গে চট্টগ্রাম নগরীর বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া এলাকাগুলোতে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হচ্ছে।

চট্টগ্রাম শহরের বিভিন্ন এলাকায় যোগাযোগ করে জানা গেছে, ঘূর্ণিঝড় মোরার প্রভাবে ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি শুরুর পর আজ ভোররাত থেকে নগরীর অনেক এলাকা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে ওই এলাকাগুলোতে ইন্টারনেট সেবাও ব্যাহত হয়েছিল। বেশ কয়েকটি এলাকায় মডেম দিয়েও ইন্টারনেট ব্যবহার ব্যাহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

তবে ঘূর্ণিঝড় মোরা বাংলাদেশের ভূখণ্ড পার হওয়ার পর পরিস্থিতি অনেকটা স্বাভাবিক হতে থাকে। দুপুর ২টার পর চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে। একইসঙ্গে সকাল থেকে বিপর্যস্ত থাকা ইন্টারনেট সেবাও স্বাভাবিক হয়েছে।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) চট্টগ্রাম বিভাগের জনসংযোগ কর্মকর্তা মীর মনিরুজ্জামান বলেন, আজ ভোররাত থেকে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যাহত হয়েছিল। চট্টগ্রাম শহরের আগ্রাবাদ, চকবাজার, চৌমুহনী, দেওয়ানহাট, বন্দর, পতেঙ্গা, কাস্টমস, হালিশহর, কর্ণফুলী থানার অন্তর্ভুক্ত এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল। দুপুর ২টার পর থেকে এসব এলাকায় বিদ্যুৎ স্বাভাবিক হচ্ছে।

তিনি বলেন, উপকূল অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙ্গে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। সেগুলো সংস্কার হলে বিদ্যুৎ সমস্যা অনেকটাই কেটে যাবে।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের কন্ট্রোল রুম থেকে জেলার আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বলেন, চট্টগ্রামের ১৫টি উপজেলার মধ্যে ৮টি উপজেলাকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ উপজেলাগুলো হলো- কর্ণফুলী, আনোয়ারা, বাঁশখালী, বোয়ালখালী, চন্দনাইশ, মীরসরাই, সীতাকুণ্ড এবং সন্দ্বীপ। ওই উপজেলাগুলোর ১ লাখ ২১ হাজার বাসিন্দাকে নিরাপদে আশ্রয় কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, আজ সকাল ৬টা থেকে সাড়ে ৭টার মধ্যে কক্সবাজার উপকূল অঞ্চল অতিক্রম করেছে ঘূর্ণিঝড় মোরা। এতে ওই অঞ্চলের দুই শতাধিক ঘর-বাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। গাছ-পালা, গৃহপালিত পশুর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

ঘূর্ণিঝড় মোরা কক্সবাজার উপকূল অঞ্চল অতিক্রম করার পর ঝড়ো হাওয়া কমে যাওয়া বিভিন্ন উপজেলার আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে আশ্রয় নেওয়া মানুষেরা নিজেদের ঘরে ফিরতে শুরু করেছেন।

গতকাল সোমবার কক্সবাজার জেলা প্রশাসন জানিয়েছিল, উপকূলীয় এলাকার দুই লাখের বেশি মানুষকে জেলার ৫৩৮টি আশ্রয় কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ৮৮টি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মসূচির আওতায় ৪১৪ ইউনিটের ছয় হাজার স্বেচ্ছাসেবক ও রেড ক্রিসেন্টের ১৫ হাজার স্বেচ্ছাসেবককে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

Share Now
January 2026
M T W T F S S
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
262728293031