ভারতের সর্বত্র বিক্ষোভ আন্দোলন চলছে নতুন নাগরিক আইন (সিএএ) ও জাতীয় নাগরিকপঞ্জী (এনআরসি) নিয়ে । আর এই আন্দোলনে যোগ দিয়েছে সর্বস্তরের মানুষ। তবে এই আন্দোলন মোকাবিলায় ভারত সরকার নাগরিকত্ব আইনের ব্যাখ্যা দিয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক আধিকারিক সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, নাগরিকত্ব আইন কার্যকর করার নীতিমালা এখনো তৈরি হয়নি। তাই এই আইন নিয়ে কারও কোনো বক্তব্য থাকলে তা তারা জানাতে পারেন। এমনকি আন্দোলনকারীরাও তাদের বক্তব্য জানাতে পারেন। সরকার প্রয়োজনে তা গ্রহণ করতেও তৈরি। এদিকে কারা নাগরিক সে সম্পর্কে শুক্রবার ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ব্যাখ্যা দিয়েছে।
সরকারের এক শীর্ষ আধিকারিক একটি সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন, ১৯৮৭ সালের ১লা জুলাইয়ের আগে যারা ভারতে জন্মগ্রহণ করেছেন তাদের নাগরিকত্ব নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। কারণ, দেশের আইন অনুসারে স্বাভাবিক নিয়মে তারা ভারতের নাগরিকত্ব পাওয়ার অধিকারী। একইভাবে ১৯৮৭ সালের ১লা জুলাইয়ের আগে যারা ভারতে জন্মগ্রহণ করেছেন তাদের সন্তানরাও স্বাভাবিক নিয়মেই এদেশের নাগরিকের স্বীকৃতি পেয়ে যাবেন। ফলে অসমের এনআরসি’র সঙ্গে নাগরিকত্ব আইনের তুলনা না করার জন্য সাধারণ মানুষের কাছে আবেদন করেছেন সরকারের ওই শীর্ষ আধিকারিক। তিনি আরো বলেছেন, ২০০৪ সালের নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন অনুসারে, কোনো ব্যক্তির বাবা বা মায়ের মধ্যে কোনো একজন ভারতীয় নাগরিক হলে এবং অপর জন অনুপ্রবেশকারী না হলে, ওই ব্যক্তিও স্বাভাবিক নিয়মে ভারতের নাগরিকত্ব পাবেন। শুধুমাত্র অসমের ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য নয়। পর্যবেক্ষকদের মতে, নাগরিকত্ব আইন নিয়ে বিক্ষোভ অব্যাহত থাকায় এবং সামাজিক মাধ্যমে এ নিয়ে নানা ধরনের মতামত প্রচারিত হওয়ার প্রেক্ষিতেই এই ব্যাখ্যা দেয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে ভারতের নানা প্রান্তে মোট ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত শুক্রবারই উত্তরপ্রদেশে ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর আগের দিন উত্তরপ্রদেশে আরো ১ জনের মৃত্যু হয়েছিল। এ ছাড়া বৃহস্পতিবার কর্ণাটকে মৃত্যু হয়েছিল ২ জনের। এর আগে আসামে বিক্ষোভের সময় মৃত্যু হয়েছে ৫ জনের।
