ভারত সরকার সন্ত্রাসবাদে উসকানি ও মুদ্রা পাচারের মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামি বিতর্কিত টিভি বক্তা জাকির নায়েকের পাসপোর্ট বাতিল করেছে।
জাকির নায়েকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্তে অসহযোগিতার অভিযোগে ভারতের জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার (এনআইএ) অনুরোধে এই সিদ্ধান্ত নেয় ভারত সরকার।
তদন্তের স্বার্থে দেশে ফেরার নির্দেশ দেওয়া হলেও তা কর্ণপাত করেনি জাকির নায়েক। চলতি সপ্তাহের মঙ্গলবার মুম্বাইয়ের আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস থেকে তার পাসপোর্ট বাতিল করা হয়। চলতি মাসের ১৩ তারিখের মধ্যে ভারতে না ফিরলে চরম ফল ভুগতে হতে পারে। এই বিষয়ে অনেক আগেই ধর্ম প্রচারক জাকির নায়েককে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছিল। সেই কথায় গুরুত্ব না দেওয়ায় জাকিরের পাসপোর্ট বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র।
উস্কানিমূলক বক্তব্য প্রচার, সন্ত্রাসে অর্থ সাহায্য, বিদেশে ভারতীয় মুদ্রা পাচার, ধর্মান্তরকরণের মতো মারাত্মক অভিযোগ রয়েছে জাকির নায়েকের বিরুদ্ধে। ২০১৬ সালে ঢাকার গুলশান হামলার সঙ্গেও জাকিরের যোগসূত্র পাওয়া যায়। এরপর বাংলাদেশ সরকারের অনুরোধে জাকিরের বিরুদ্ধে শুরু হয় তদন্ত। গত বছরের ১৮ নভেম্বর তার বিরুদ্ধে মামলা করে এনআইএ। এরই মধ্যে তার প্রতিষ্ঠান ইসলামিক রিসার্চ ফাউন্ডেশনকে (আইআরএফ) অবৈধ সংগঠন বলে ঘোষণা ও তার টেলিভিশন চ্যানেল পিস টিভির সম্প্রচার বন্ধ করে দিয়েছে কেন্দ্র সরকার।
১৯৬৫ সালে মুম্বাইয়ে জন্ম নেওয়া জাকির নায়েক কিষানচাঁদ চেলারাম কলেজের পর টোপিওয়ালা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজে মেডিসিন বিষয়ে পড়ালেখা করেন। পরে বিওয়াইএল নায়ার চ্যারিটেবল হাসপাতালেও তিনি লেখাপড়া করেন।
১৯৮৭ সালে ইসলামী বক্তা আহমেদ দিদাতের সংস্পর্শে আসেন নায়েক। এর কয়েকবছর বাদে ১৯৯১ সাল থেকে শুরু করেন ধর্ম প্রচারের কাজ।
তার কিছু বক্তব্যকে জঙ্গিবাদের প্রতি তার সমর্থন হিসেবে চিহ্নিত করেন অনেকে; তরুণদের মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গিগোষ্ঠী আইএসে ভেড়ানোর অভিযোগে জাকির নায়েকের এক সহযোগীকেও গ্রেপ্তার করে ভারতীয় পুলিশ।
ভারতের আল্লামা সাইয়্যিদ খালিক সাজিদ বোখারী কয়েক বছর আগে জাকির নায়েকের বিপক্ষে একটি বই লেখার পর বাংলাদেশেও হক্কানি আলেমরা তার সমালোচনায় মুখর হন।
