মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা সবার আশঙ্কাই সত্যি প্রমাণিত হল৷ ভারতের অ্যান্টি স্যাটেলাইট মিসাইল অপারেশনকে উদ্বেগজনক বলে রায় দিয়েছে ৷
ভারতের ‘মিশন শক্তি’-কে ‘খুবই ভয়াবহ ব্যাপার’ হিসেবে দেখছে নাসা৷ নাসা’র চিন্তার বিষয় হল, ভারত যে লো অরবিট স্যাটেলাইটটি ধ্বংস করেছে, সেটির ধ্বংসাবশেষ মহাকাশেই রয়ে গেছে৷
এপ্রসঙ্গে নাসার প্রধান জিম ব্রিডেনস্টাইন অভিযোগ করেন, ভারত কৃত্রিম উপগ্রহ ধ্বংস করে প্রায় ৪০০ টুকরো ধ্বংসাবশেষ মহাকাশে ছড়িয়ে ফেলেছে। বিষয়টি খুবই উদ্বেগজনক ও ভয়াবহ। এর ফলে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে থাকা মহাকাশচারীদের সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে।
ভারতের ‘মিশন শক্তি’র পাঁচদিন পর ন্যাশনাল এরোনটিক্স অ্যান্ড স্পেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের কর্মীদের উদ্দেশ্যে রাখা এক বক্তব্যে একথা জানান নাসার সর্বোচ্চ এই কর্মকর্তা। সেখানে তিনি বলেন, ভারত পৃথিবী থেকে মাত্র ৩০০ কিলোমিটারের মধ্যে কৃত্রিম উপগ্রহ ধ্বংস করায় সমস্যাটা বেশি হচ্ছে। কেননা এই অঞ্চলের মধ্যেই আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশন এবং অন্যান্য কৃত্রিম উপগ্রহগুলি রয়েছে। ভারতের কর্মকাণ্ডের ফলে প্রায় ৪০০ টুকরো ধ্বংসাবশেষ মহাকাশে ছড়িয়ে পড়েছে৷ যা মহাকাশ স্টেশনে অবস্থান করা মহাকাশচারীদের পক্ষে খুবই বিপজ্জনক। গত ১০ দিনে মহাকাশ কেন্দ্রগুলোর সঙ্গে এই বর্জ্য বা ধ্বংসাবশেষগুলোর সংর্ঘষ হওয়ার সম্ভাবনাও প্রায় ৪৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে বাতাসের সংস্পর্শে ঐ টুকরোগুলোর অস্তিত্বও একসময় বায়ুমণ্ডলে মিশে যাবে।
তার আশঙ্কা, ভারতকে অনুসরণ করে অন্য দেশগুলোও যদি একই কান্ড ঘটায় তাহলে ভয়াবহ এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে। যা কারোরই কাম্য নয়। এই ধরনের পরীক্ষা মহাকাশ গবেষণায়ও বাধা সৃষ্টি করবে। মহাকাশে বর্তমানে ১০,০০০ টুকরো ধ্বংসাবশেষ আছে। এই ধ্বংসাবশেষের সংখ্যা আরও বেড়ে গেলে ভয়াবহ বিপদ অপেক্ষা করছে পৃথিবীবাসীর জন্য৷
