পৃথিবীতে ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করছে বায়ুদূষণ ক্রমেই পরিস্থিতি এতটাই সঙ্গিন হয়ে উঠেছে যে, এখন প্রতিবছর বিশ্বে বায়ুদূষণের কবলে পড়ে প্রাণহানি ঘটছে প্রায় ৯০ লাখ মানুষের। ২০১৯ সালে বিশ্বে প্রতি ছয় জনের মধ্যে বায়ুদূষণের কারণে প্রাণ গেছে একজনের। এই সময়ে শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই প্রাণ হারিয়েছে এক লাখ ৪৩ হাজার মানুষ। সম্প্রতি এক বৈশ্বিক গবেষণা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে বায়ুদূষণের প্রভাবের এমন ভয়াবহতার চিত্র। গবেষণা প্রতিবেদনটি প্রকাশ হয়েছে বিশ্বখ্যাত মেডিক্যাল জার্নাল ল্যানসেটে। দূষণ এবং স্বাস্থ্যবিষয়ক ল্যানসেট কমিশন বলেছে, বিশ্ব স্বাস্থ্যের ওপর দূষণের প্রভাব যুদ্ধ, সন্ত্রাস, ম্যালেরিয়া, এইচআইভি, যক্ষ্মা, মাদক এবং অ্যালকোহলের চেয়ে বেশি। প্রতিবেদনে জানানো হয়,
দেখা গেছে ২০০০ সালের তুলনায় বর্তমানে সারা বিশ্বেই গাড়ি, ট্রাক ও শিল্প থেকে বায়ুদূষণের মাত্রা ৫৫ শতাংশ বেড়েছে। বর্তমানে দূষণ-মানচিত্রে প্রাণহানির দিক থেকে বিশ্বে শীর্ষস্থানে আছে ভারত। প্রতিবছর দেশটিতে বায়ু, পানি, জৈব ও শিল্পবর্জ্য, যানবাহন ইত্যাদি থেকে দূষণজনিত কারণে অন্তত ২৪ লাখ মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। তালিকায় দ্বিতীয় থাকা চীনে বার্ষিক মৃত্যুর সংখ্যা ২২ লাখ। তালিকায় শীর্ষ ১০ দেশের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রই (সপ্তম) একমাত্র পুরোপুরি শিল্পোন্নত দেশ। ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। তবে জনসংখ্যার তুলনায় দূষণে মৃত্যুর তুলনা করলে দেখা যায় যুক্তরাষ্ট্র তালিকার ৩১তম অবস্থানে রয়েছে। সেখানে প্রতি ১ লাখ জনে ৪৩.৬ জনের মৃত্যু হয় দূষণে।
বায়ুদূষণে বিপর্যস্ত দেশগুলোর মধ্যে সবার আগে রয়েছে আফ্রিকার দেশ চাদ এবং সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক। এই দেশ দুটিতে দূষণে প্রতি এক লাখ জনে ৩০০ জনের মৃত্যু হয়। এসব দেশে পানিদূষণ অত্যন্ত ভয়াবহ আকারে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে দূষণে সব থেকে কম মানুষ মারা যায় কাতার ও আইসল্যান্ডে। এখানে প্রতি লাখ জনে ১৫ ও ২৩ জনের মৃত্যু হয় দূষণে।
প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, বৈশ্বিক হিসেবে প্রতি এক লাখে ১১৭ জনের মৃত্যুর কারণ বিভিন্ন ধরনের দূষণ। ধূমপানের কারণে বিশ্বে যত মানুষ প্রাণ হারান, দূষণের কারণেও একই সংখ্যক মানুষ প্রাণ হারাচ্ছেন। এ নিয়ে গ্লোবাল পাবলিক হেলথ প্রোগ্রাম অ্যান্ড গ্লোবাল পলিউশন অবজার্ভেটরির পরিচালক ফিলিপ ল্যান্ড্রিগান বলেন, ৯০ লাখ মানুষের মৃত্যু আসলে অনেক বড় বিষয়। খারাপ খবর হচ্ছে, মত্যুর এ হার কিন্তু কমছে না। আমরা যতই বিভিন্ন দিকে সফলতা অর্জন করি, অন্য কোনো দিকে অবস্থা তত খারাপ হয়। বায়ুদূষণ এখনো বেড়েই চলেছে। খবর আরব নিউজের।
