পবিত্র রমজানুল মোবারক আগামীকাল রবিবার থেকে শুরু হচ্ছে। পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী পয়লা রমজান থেকে ২৬ রমজান পর্যন্ত রাজধানীতে খাসি ও গরুর মাংসের কেজিতে ২৫ থেকে ৩০ টাকা করে কমবে। তবে ২৭ রমজান থেকে মাংসের দাম নির্ধারণে থাকবে না কোনো বাধ্যবাধকতা। তখন প্রতিকেজি মাংসের দাম ৬০০ এর কোটা ছুঁতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

শনিবার রাজধানীর উত্তর ও দক্ষিণ সিটির বেশ কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতিকেজি গরুর মাংস ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকায় এবং খাসি ৭৫০-৭৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

রমজান মাসকে সামনে রেখে গত ২৩ মে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন তার আওতাধীন বাজার এলাকায় প্রতিকেজি গরুর মাংস ৪৭৫ টাকা, বিদেশি গরু বা মহিষের মাংসের কেজি ৪৪০ টাকা এবং খাসির মাংস ৭২৫ টাকা, ভেড়া বা ছাগলের মাংসের ৬২০ টাকা নির্ধারণের ঘোষণা দেন। একই সাথে রমজানে ২৬ দিনের ভেতর কোনো ব্যবসায়ী মাংসের মূল্য অতিরিক্ত রাখলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার হুঁশিয়ারিও দেন মেয়র।

তবে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্ধারিত কোনো মূল্য এখনো দেয়া হয়নি বলে জানান মালিবাগ বাজারের উত্তর অংশের রুবেল ও কারওয়ান বাজারের সুমন ও জালাল মিয়া।

রমজান মাসের ১ তারিখ থেকে ২৬ তারিখ পর্যন্ত মাংসের নতুন মূল্য নিয়ে মেয়র বা সরকারের এই সিদ্ধান্তে কতটুকু সন্তুষ্ট মাংস ‍বিক্রেতা বা ক্রেতারা? রাজধানীর দক্ষিণ সিটির মালিবাগ অংশ, শান্তিনগর ও খিলগাঁও এবং উত্তর সিটির মালিবাগ অংশ, রামপুরা ও কারওয়ান বাজার ঘুরে কথা হয় মাংসের ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সাথে।

পুরো রমজান মাংসের মূল্য নির্দিষ্ট থাকবে জেনে আসলামুল হক, সোহেল তানভীর, মীরাজ হাসান, মারুফা সোহেলীসহ বেশ কয়েকজন ক্রেতা সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কারওয়ান বাজারের খাসির মাংসের একজন ক্রেতা ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘মুলামুলি কইরা মাত্র ৭০০ টাকায় ছয় কেজি চুক্তিতে একটা আস্ত খাসি কিনলাম। চোখের সামনেই তারা জবাই কইরা কাইট্টা কুইট্টা দিল। কিন্তু দেখেন তারাই এই মাংস আমার কাছে একটু আগে ৭৫০-৭৮০ কইরা চাইসে। মাংস ব্যবসায়ীরা তো হুদাই গলা হুগায়, যে তাগোর লাভ হয় না, লাভা ছাড়া তারা ব্যবসা করে এইডা কেমনে বিশ্বাস করমু, তারা নিজ থেইকাই তো আমারে এই মাত্র ৮০ টাকা কইরা ছয় কেজিতে ৪৮০ টাকা ছাইড়া দিল।’

সরকারিভাবে রমজানজুড়ে খাসির নির্ধারিত মূল্য ৭২৫ টাকা বেশি হয়ে গেছে উল্লেখ করে এই ক্রেতা বলেন, ‘এই দাম করাতে কমদামে ভালো মাংস পাওয়ার সুযোগটা এখন আমার কমে গেল। মাংস ব্যবসায়ীরা উপরে উপরে লসের অভিনয় করলে কী হইব, তাদের বড় অংকের লাভ ঠিকই হইতাসে দেখেন গিয়া।’

এদিকে ডিএসসিসির পক্ষ থেকে নির্ধারিত মূল্য গরু ৪৭৫ টাকা ও খাসি ৭২৫ টাকা করার কারণে বর্তমান আয়ের চেয়ে ২৫-৩০ টাকা করে কম হবে জানিয়ে মালিবাগ উত্তরের রুবেল, মালিবাগ বাজার দক্ষিণের রিপন আলি, শান্তিনগরের কালাম ও বাবুল হোসেন, কারওয়ান বাজারের সুমন ও জালাল মিয়া অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। তাদের প্রত্যেকের ভাষায়, ‘আগের বছরগুলোতে সরকারি নির্ধারিত মূল্য তাদের চলমান বাজার মূল্যের সাথে মিলে যেতো। ফলে তখন বিক্রির ওপর তাদের লাভ ক্ষতি নির্ধারিত হতো। কিন্তু এবারের নির্ধারিত মূল্য তাদের বর্তমান বিক্রি মূল্য থেকে ২৫-৩০ টাকা কম হওয়াতে যত বিক্রি ততই ক্ষতি হবে।’

ব্যবসায়ী রুবেলের ভাষায় ‘সরকার যখন নির্ধারণ করে দিসে তখন রোজার ১ থেইকা ২৬ পর্যন্ত আমরা এই দামে বেচমু। এর বাইরে আমাগো কিছু করার নাই। কিন্তু সরকারের কাছে দাবি থাকবো ২৭ রোজা থেইকা ঈদ পর্যন্ত যেন আমাগোরে আর চাপ না দেয়। আমাগোও বিল বোনাস দিতে হইবো, তখন আমরা ৬০০ টাকায়ও বেচতে পারি। কিন্তু এর মধ্যে গুরুর দাম কমলে তহন দামও কিছুডা কমামু।’

২৬ রোজার পর বাজার থেকে গরুর কেনা দাম বর্তমান অবস্থায় থাকলে মাংসের দাম ৬০০ টাকাও ছুঁতে পারে বলে আভাস দিলেন এই মাংস ব্যবসায়ীরা।

দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের জনপ্রশাসন কর্মকর্তা উত্তম কুমার ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘২৭ রোজা থেকে মাংসের মূল্য ৬০০ টাকা হবে, তারা ঠিকই বলেছে। এখানে আমাদের কিছু করার নাই। আমরা ওইদিন একবার ব্রিফিং করে দিয়েছি। আমরা শুধু মাত্র ২৬ রমজান পর্যন্ত বাজারগুলোতে মনিটরিং করবো। এই সময়ে ব্যবসায়ীরা না মানলে তাদেরকে জরিমানা করবো।’

Share Now
March 2026
M T W T F S S
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031