যুক্তফ্রন্টের নেতা ও নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটের নামে আর কোনো ছলচাতুরি করতে দেয়া হবে না বলে মন্তব্য করেছেন । তার দাবি, ‘ভোটের নামে অতীতে অনেক ছলচাতুরি করা হয়েছে দেশের মানুষের সাথে। এই ছলচাতুরি আর করতে দেয়া হবে না। এসব বন্ধ করতে হবে।’
সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি। সোনার বাংলা পার্টি ও জনদল নামের দু’টি রাজনৈতিক দলের যুক্ত্ফ্রন্টে যোগদানের লক্ষ্যে এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
সারা দেশে আজ সরকারের বিরুদ্ধে ঐক্য গড়ে উঠেছে দাবি করে মান্না বলেন, ‘সারা দেশে আজ সরকারবিরোধী ঐক্য গড়ে উঠেছে। এই ঐক্য ভোটের ঐক্য। মানুষ আমাদেরকে বলে, আমরা কি ভোট দিতে পারব?।’
‘আমরা ঐক্যের মাধ্যমে দেশে কার্যকর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে চাই। গণতন্ত্র মানে শুধু স্বাধীনভাবে কথা বলার অধিকার নয়, গণতন্ত্র মানে আপনার স্বাধীন জীবন-যাপনের অধিকার। অথচ দেশ স্বাধীনের ৪৭ বছরেও পূর্ণ গণতন্ত্র আসেনি।’
যুক্তফ্রন্টের এ নেতা অভিযোগ করেন, ‘পত্রিকায় দেখলাম, প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেছেন, ডিসেম্বরে নির্বাচন- এ রকম কথা বলেননি, আগে কী বলেছেন তিনি ভুলে গেছেন। তিনি মাঝে একবার বলেছিলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন করা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। গত কয়েক বছর ধরে সরকার অবৈধ কীর্তি-কলাপ চালাচ্ছে, প্রকারান্তরে সরকারকে নির্বাচন কমিশন সেসব বিষয়ে সহযোগিতা করছে। তাহলে দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন কীভাবে হবে?’
মান্না বলেন, ‘এই সরকারের মত নির্যাতন এরশাদও করেননি। মানুষ আজ আন্দোলন করতে গেলেই সরকার নির্যাতন করছে। অন্যায়ভাবে মানুষের নামে মামলা দিচ্ছি, হয়রানি করছে। পুলিশি রাষ্ট্রে পরিণত করা হয়েছে।’
‘সাধারণ মানুষ-সাংবাদিকরা আমাদের কাছে জিজ্ঞাসা করে এই সরকার তো দাবি মানবে না, শেখ হাসিনা ক্ষমতা ছাড়বে না, তাহলে আপনারা কী করবেন? আমি বলি- ক্ষমতায় কেউ চিরস্থায়ী থাকে না। বাংলাদেশে কেউ একাধারে এতদিন ক্ষমতায় থাকতে পারিনি।’
‘পাকিস্তানের আইয়ুব খান ও উন্নয়নের কথা বলেছে তারা ১০ বছর ক্ষমতায় ছিলেন, কিন্তু ক্ষমতার এক দশক পালনের কিছুদিন পরেই তার পতন ঘটে। এখন আমাদের সরকার একইভাবে সারা দেশে উন্নয়নের মেলা করছে। তারাও ক্ষমতায় থাকতে পারবে না।
সোনার বাংলা পার্টির সভাপতি শেখ আব্দুর নূরের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক রতন, সাংগঠনিক সম্পাদক মোশাররফ হোসেন, বাংলাদেশ জনদলের চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান জয় চৌধুরী প্রমুখ।
