‘আপনারা কি চান আমরা প্রতি মূহূর্তে রাস্তায় বেরিয়ে সরকারের সঙ্গে মারামারি করি? প্রতিদিন আমাদের ১০/১২ জন লোক মারা যাক? কয়েক হাজার লোক গ্রেপ্তার হোক?’

বিএনপি ঘরোয়া কর্মসূচির মধ্যে থাকবে কি না- সংবাদ সম্মেলনে এক গণমাধ্যমকর্মীর প্রশ্নের জবাবে এই কথা বলেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

রবিবার গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি নেতা এ কথা বলেন। সরকারের প্রস্তাবিত বাজেটের উপর বিএনপির আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানাতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

দশম সংসদ নির্বাচন বানচালে বিএনপির আন্দোলন স্থগিত ঘোষণা করা হয় ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির ভোটের কিছুদিনের মধ্যেই। পরের বছর সরকারের এক বছর পূর্তিতে সরকার পতনের ‘চূড়ান্ত’ আন্দোলনের ডাক দেয় বিএনপি। তবে এবারও ব্যর্থতা নিয়ে ঘরে ফেরে দলটি।

এরপর থেকে বিএনপি আর রাজপথে বড় কোনো কর্মসূচি দেয়নি। মাঝেমধ্যে বিক্ষোভের ডাক দিলেও অল্প কিছু এলাকায় এসব কর্মসূচি পালিত হয়। ঢাকার বাইরে বিভিন্ন জেলায় মিছিল-সমাবেশ হলেও রাজধানীতে কেন্দ্রীয়ভাবে কর্মসূচি পালন হয় না বললেই চলে।

রাজধানীতে নানা সময় বিএনপির ঘোষিত সমাবেশ হয়নি পুলিশের অনুমতি না পাওয়ায়। আর অনুমতির ধার ধারা হবে না-বিএনপির একাধিক নেতা প্রায়ই এমন বক্তব্য দিলেও আবারও অনুমতি চাওয়া এবং না পেলে কর্মসূচি পালন না করার বৃত্তেই ছিল বিএনপি।

এই অবস্থায় গত আড়াই বছর ধরে বিএনপির মূলত সংবাদ সম্মেলন, আলোচনা সভা, সেমিনার, ঘরোয়া সমাবেশ-প্রভৃতি নানা কর্মসূচি পালন করে আসছে।

ঘরোয়া কর্মসূচির মধ্যে বিএনপির সীমাবদ্ধ থাকা প্রসঙ্গে ফখরুল বলেন, ‘আন্দোলনে কিছু কৌশল অবলম্বন করতে হয়। কৌশলের সঙ্গে আমরা কাজ করছি।আমরা বিশ্বাস করি জনগণ একদিন বেরিয়ে আসবে।ফ্যাসিস্ট শক্তিকে পরাজিত করবে।’

বিএনপির মহাসচিব বলেন,‘আমরা যতটুকু সুযোগ পাচ্ছি তার মধ্য দিয়েই প্রতিবাদ ও কথা বলার চেষ্টা করছি।’

অপর এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপি নেতা বলেন, ‘আমরা আমাদের মতো করে কাজ করছি। সরকারকে একটু ধরেন, যেভাবে তারা মানুষের অধিকার কেড়ে নিচ্ছে।’

ফখরুল বলেন, ‘আমাদের এক হাজার কর্মীর প্রাণ গেছে। পাঁচশ কর্মী নিখোঁজ রয়েছে। হাজার হাজার মামলার দিয়ে এক ভয়ংকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করা হয়েছে।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ইসমাঈল জবিউল্লাহ প্রমুখ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

Share Now
February 2026
M T W T F S S
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
232425262728